সরকারি কর্মচারীদের জন্য বৈশাখী ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে জাতীয় বেতন কমিশন। ৯ম পে স্কেলে কর্মচারীদের মূল বেতনের অর্ধেক পর্যন্ত ভাতা প্রদান করার সুপারিশ চূড়ান্ত রূপে প্রধান উপদেষ্টার কাছে বুধবার, ২১ জানুয়ারি জমা দেওয়া হবে।
বর্তমানে একই স্কেলে কর্মচারীরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ ভাতা পান। এই হারটি বছরের শুরুতে গৃহীত নীতি অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে প্রয়োগ করা হয়ে আসছে।
কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, বৈশাখী ভাতা ৫০ শতাংশে বৃদ্ধি পাবে, যা বর্তমান হারের তুলনায় দুইগুণের বেশি। এই পরিবর্তন কর্মচারীদের মাসিক আয় বাড়িয়ে তাদের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সুপারিশের চূড়ান্ত রূপান্তর বুধবারের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হবে। এরপর সরকারী অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট বিধানগুলো আইনসঙ্গতভাবে কার্যকর হবে।
কমিশনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র সোমবার, ১৯ জানুয়ারি জানিয়েছে যে, প্রস্তাবটি ইতিমধ্যে কমিশনের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং এখন শেষ অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
বৈশাখী ভাতা বৃদ্ধির ফলে সরকারি কর্মচারীদের হাতে অতিরিক্ত আয় প্রবাহিত হবে, যা পরিবারিক ব্যয়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বাড়াতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও নগর উভয় এলাকায় স্থানীয় বাজারে ক্রয়ের চাহিদা ত্বরান্বিত হবে।
বৈশাখী উৎসবের সময়ে এই অতিরিক্ত ভাতা রিটেল, খাবার, পোশাক এবং গৃহস্থালী পণ্যের বিক্রয়ে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে ছোট ব্যবসা ও হস্তশিল্পী শিল্পে বিক্রয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, সরকারকে এই বৃদ্ধির জন্য অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হবে। বাজেটের দৃষ্টিকোণ থেকে ভাতা বৃদ্ধির ফলে রাজস্বের ওপর চাপ বাড়তে পারে, যা আর্থিক পরিকল্পনা ও ব্যয় সমন্বয়ে নতুন সমন্বয় দাবি করবে।
ইদ উপলক্ষে পূর্বে প্রদত্ত বোনাসের হার অপরিবর্তিত থাকবে, তাই এই ভাতা বৃদ্ধিই প্রধান আর্থিক সুবিধা হিসেবে কাজ করবে। বোনাসের স্থিতিশীলতা কর্মচারীদের মোট আয় কাঠামোতে সামান্য পরিবর্তন আনবে।
বাজারে এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কোনো তাত্ক্ষণিক শেয়ারমূল্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি, তবে দীর্ঘমেয়াদে ভোক্তা ব্যয়ের বৃদ্ধি কোম্পানি লাভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভোক্তা পণ্য ও সেবা খাতে বিক্রয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
বৈশাখী ভাতা বৃদ্ধির ফলে মুদ্রাস্ফীতি চাপ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ অতিরিক্ত ক্রয়শক্তি বাজারে পণ্য ও সেবার চাহিদা বাড়িয়ে দাম বাড়াতে পারে। তাই আর্থিক নীতি নির্ধারকদের জন্য এই দিকটি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
সারসংক্ষেপে, জাতীয় বেতন কমিশনের প্রস্তাব সরকারি কর্মচারীদের আয় বাড়িয়ে অর্থনৈতিক কার্যকলাপকে ত্বরান্বিত করতে পারে, তবে বাজেট ও মুদ্রাস্ফীতি সংক্রান্ত ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য যথাযথ পরিকল্পনা অপরিহার্য। ভবিষ্যতে এই পদক্ষেপের বাস্তবায়ন ও তার প্রভাবের পর্যালোচনা নীতিনির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিক হবে।



