28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাজাতীয় রাজস্ব বোর্ডের স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমে আমদানি করের ক্রেডিট ই-রিটার্নে যুক্ত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমে আমদানি করের ক্রেডিট ই-রিটার্নে যুক্ত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ৪ আগস্ট নতুন স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু করেছে, যার মাধ্যমে আমদানি পর্যায়ে পরিশোধিত আয়কর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-রিটার্নে ক্রেডিট হিসেবে যুক্ত হবে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য করদাতাদের জন্য প্রমাণ দাখিলের জটিলতা দূর করা এবং রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া সহজতর করা।

এনবিআর ই-রিটার্ন সিস্টেমকে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে, ফলে আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের আলাদা করে করের রসিদ বা নথি আপলোড করতে হবে না। সিস্টেমটি একবার সংযুক্ত হলে, পরিশোধিত করের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিটার্নে প্রতিফলিত হবে, যা প্রশাসনিক সময় ও খরচ কমাবে।

এই স্বয়ংক্রিয়তা বিশেষত ছোট ও মাঝারি ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা পূর্বে করের প্রমাণ সংগ্রহে অতিরিক্ত শ্রম ও ব্যয় বহন করত। এখন তারা ঘরে বসেই ই-রিটার্ন পূরণ করতে পারবে, যা ব্যবসার নগদ প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং আনুষ্ঠানিক খাতের বিস্তারে সহায়তা করবে।

প্রকল্পের উদ্বোধনকারী ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, অর্থ উপদেষ্টা, উল্লেখ করেছেন যে www.etaxnbr.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন রিটার্ন দাখিলের সুযোগ ২০২৫-২৬ করবছরের জন্য উপলব্ধ। উদ্বোধনের পর থেকে ৪৬ লক্ষের বেশি করদাতা সিস্টেমে নিবন্ধিত হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৩৩ লক্ষ ইতিমধ্যে রিটার্ন দাখিল সম্পন্ন করেছে।

এনবিআর জানিয়েছে যে, রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক না হলেও অনেক করদাতা স্বেচ্ছায় অনলাইন সেবা ব্যবহার করছেন। এই স্বেচ্ছাসেবী অংশগ্রহণ ই-রিটার্নের গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে তুলেছে এবং ডিজিটাল কর ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বৃদ্ধি করেছে।

বিশেষভাবে, বর্তমান করবছরে প্রবাসী বাংলাদেশি করদাতাদের জন্যও ই-রিটার্ন সিস্টেম উন্মুক্ত করা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৪,০০০ প্রবাসী করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করেছেন, যা বিদেশে বসবাসকারী নাগরিকদের কর দায়িত্ব পালনকে সহজ করেছে।

ই-রিটার্নের মাধ্যমে কোনো কাগজপত্র বা নথি আপলোডের প্রয়োজন নেই; সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে। এই ডিজিটাল পদ্ধতি কাগজের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণে অবদান রাখে এবং প্রশাসনিক ত্রুটি হ্রাস করে।

ব্যবসা ক্ষেত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে, স্বয়ংক্রিয় কর ক্রেডিটের সংযোজন কর সংগ্রহের দক্ষতা বাড়াবে। করদাতারা দ্রুত ক্রেডিট পাবে, ফলে সরকারী নগদ প্রবাহে ত্বরান্বিত হবে এবং আর্থিক পরিকল্পনা সহজ হবে। একই সঙ্গে, কর পরিশোধের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে, যা অবৈধ কর এড়ানোর সম্ভাবনা কমাবে।

ডিজিটাল রিটার্নের বিস্তৃত গ্রহণের ফলে কর প্রশাসনের কাজের চাপ কমবে, কারণ ম্যানুয়াল যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পাবে। ফলে এনবিআর কর্মীদের সময় আরও কৌশলগত কাজ, যেমন ট্যাক্স পলিসি উন্নয়ন ও ঝুঁকি বিশ্লেষণে ব্যয় করা সম্ভব হবে।

এনবিআর ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ২০২৫-২৬ করবছরের রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখ ঘোষণা করেছে এবং সকল ব্যক্তিগত করদাতাকে সময়মতো দাখিলের জন্য আহ্বান জানিয়েছে। সময়সীমা মেনে চলা না হলে দেরি শাস্তি আরোপিত হতে পারে, তাই দ্রুত দাখিলের গুরুত্ব জোর দেওয়া হয়েছে।

সারসংক্ষেপে, স্বয়ংক্রিয় কর ক্রেডিট ব্যবস্থা এবং ই-রিটার্নের সংযোজন ব্যবসায়িক পরিবেশকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করে তুলবে। করদাতাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ হবে, আর সরকারী আর্থিক ব্যবস্থাপনা উন্নত হবে। ভবিষ্যতে এই ডিজিটাল কাঠামো সম্প্রসারণের মাধ্যমে করভিত্তি বিস্তৃত করা এবং ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments