বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে টি২০ বিশ্বকাপের ভারতীয় ম্যাচগুলোকে অন্য দেশে স্থানান্তরের জন্য আলোচনায় যুক্ত। তবে এখন পর্যন্ত উভয় পক্ষের অবস্থান স্পষ্ট নয় এবং কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।
বিসিবি ৪ জানুয়ারি আইসিসিকে একটি চিঠি পাঠায়, যেখানে দলটি নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে ভারতীয় ম্যাচগুলোকে অন্য কোনো ভৌগোলিক স্থানে সরানোর অনুরোধ করে। এই চিঠি পাঠানোর পর থেকে বিষয়টি বিভিন্ন মিডিয়া সূত্রে আলোচিত হয়েছে।
গতকাল বিসিবি মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন একটি প্রেসব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন যে আইসিসি প্রতিনিধিরা এখনও কোন নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেননি। তিনি উল্লেখ করেন যে প্রতিনিধিরা সমস্যাগুলো আইসিসি-কে জানিয়ে পরে সিদ্ধান্ত জানাবে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ করা হয়নি।
বিসিবি পূর্বে একটি অফিসিয়াল বিবৃতিতে উল্লেখ করেছিল যে, আলোচনার সময় বাংলাদেশকে গ্রুপ সি থেকে গ্রুপ বি-তে স্থানান্তর করা, আয়ারল্যান্ডের পরিবর্তে, একটি সম্ভাবনা হিসেবে উত্থাপিত হয়েছিল। এই ধারণা আইসিসি মিটিংয়ে আলোচিত হয়েছে বলে বোর্ড দাবি করেছিল।
একই দিনে আয়ারল্যান্ডের ক্রিকেট কর্মকর্তার মন্তব্যে স্পষ্ট হয় যে আইসিসি তাদের গ্রুপ পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই এবং আয়ারল্যান্ডের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে। এই বিরোধপূর্ণ বিবরণগুলো চিঠি পাঠানোর পর থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে।
ভারতীয় মিডিয়া প্রথমে জানায় যে আইসিসি টুর্নামেন্টের সময়সূচি পুনর্লিখন করছে। পরে একই সূত্রগুলো প্রকাশ করে যে আইসিসি কঠোর অবস্থান নিয়ে বিসিবিকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা দিয়েছে এবং স্কটল্যান্ডকে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই প্রতিবেদনগুলো পরস্পরের সাথে বিরোধপূর্ণ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
আইসিসি এই সময়কালে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা বিবৃতি প্রকাশ করেনি। বোর্ডের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আইসিসি এখনও বিষয়টি নিয়ে কোনো স্পষ্ট অবস্থান জানায়নি এবং আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে জনসাধারণকে আপডেট করেনি।
বিসিবি নিরাপত্তা উদ্বেগকে প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরে, এবং ভারতীয় মঞ্চে দলকে পাঠাতে না চাওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই অবস্থানটি পূর্বের চিঠিতে উল্লেখিত মূল দাবি, এবং এখন পর্যন্ত বিসিবি এই অবস্থান থেকে সরে আসেনি।
বর্তমানে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষিত হয়নি। উভয় সংস্থা এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য অপেক্ষা করছে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যালেন্ডার এবং টুর্নামেন্টের সামগ্রিক পরিকল্পনার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
টি২০ বিশ্বকাপটি শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত হবে, এবং বাংলাদেশ দলকে গ্রুপ সি-তে নির্ধারিত ম্যাচগুলো খেলতে হবে। তবে ম্যাচের স্থানান্তর বা গ্রুপ পরিবর্তন সংক্রান্ত চূড়ান্ত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত দলটির প্রস্তুতি এবং লজিস্টিক পরিকল্পনা অনিশ্চিতই রয়ে যাবে।



