জাতীয় ১৩তম সংসদ নির্বাচনের ভোট ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত, তবে নির্বাচনী প্রচারের আনুষ্ঠানিক সময়সীমা ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে। নির্বাচনী সময়সূচি অনুসারে, প্রতীক বরাদ্দের পর ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত পোস্টার, ডিজিটাল প্রজেকশন ও অন্যান্য প্রচারমূলক কার্যক্রম নিষিদ্ধ। এই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, ঢাকার বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে নানা কার্যক্রম চালু করেছে।
প্রার্থীরা বাজার, সামাজিক সমাবেশ, ধর্মীয় স্থান এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করছেন। ছোট আঙিনার সভা (উঠান বৈঠক) এবং দান-ধর্মী কাজগুলোও প্রচারের অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। এই ধরনের ‘মাস কন্ট্যাক্ট’ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রার্থীরা ভোটারদের সমস্যার সঙ্গে পরিচিতি বাড়াচ্ছেন এবং নিজেদের উপস্থিতি নিশ্চিত করছেন।
ঢাকা-১০ নির্বাচনী এলাকার বিএনপি প্রার্থী শেখ রাবিউল আলাম ১০ জানুয়ারি হাজারিবাগে বাসিন্দাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গ্যাস সংকটসহ স্থানীয় সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। এরপর ১৪ জানুয়ারি ধানমন্ডির একটি স্কুলে শ্রীমতী খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে দলের ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে সম্মান জানান। এই দুইটি সফর তার নির্বাচনী এলাকায় সক্রিয় উপস্থিতি নির্দেশ করে।
ঢাকা-১১-এ বিএনপি প্রার্থী এম এ কায়ুম মোদ্দো বাদ্দায় দরিদ্রদের জন্য কম্বল বিতরণ করে দাতব্য কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। তার সমর্থক দলও সংগঠনমূলক কাজ চালিয়ে এলাকার মধ্যে পার্টির কাঠামো দৃঢ় করার চেষ্টা করছে। কায়ুমের এই উদ্যোগগুলো স্থানীয় জনগণের সঙ্গে নিকটতা বাড়াতে সহায়তা করছে এবং ভোটারদের কাছে তার সামাজিক দায়িত্বের ইমেজ গড়ে তুলছে।
বাড্ডা থানা বিএনপি সমন্বয়ক আবদুল কাদের বাবু জানান, “আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু না হওয়ায় আমরা পার্টির প্রোগ্রামগুলো কোড অব কন্ডাক্ট লঙ্ঘন না করে আয়োজন করছি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রার্থী সামাজিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে ব্যক্তিগত সংযোগ বজায় রাখছেন। এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, দলটি আইনগত সীমার মধ্যে থেকে সক্রিয়তা বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
জামায়াতে-ইসলামি প্রার্থীরাও ধর্মীয়, সংগঠনমূলক এবং সামাজিক কার্যক্রমে ব্যস্ত। তারা মসজিদ, ধর্মীয় সমাবেশ এবং স্থানীয় সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ গড়ে তুলছেন। এই ধরনের কর্মকাণ্ড পার্টির ধর্মীয় ভিত্তি ও সামাজিক নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করতে সহায়তা করছে।
ঢাকা-১২-এ জামায়াতে-ইসলামি প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলন ১৭ জানুয়ারি মঘবাজারে ছাত্র-যুবকদের সমাবেশে ভাষণ দিয়ে তরুণ ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করেন। তার বক্তৃতা স্থানীয় শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ ও প্রত্যাশা শোনার পাশাপাশি পার্টির নীতি তুলে ধরার উদ্দেশ্য ছিল। এই ধরনের যুব-কেন্দ্রিক সমাবেশ প্রার্থীর তরুণ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ঢাকা-১০-এ জামায়াতে-ইসলামি প্রার্থী অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার মসজিদ ভিত্তিক কার্যক্রমে মনোনিবেশ করছেন। তিনি স্থানীয় মসজিদে ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও সামাজিক সেবা পরিচালনা করে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলছেন। এই পদ্ধতি পার্টির ধর্মীয় সমর্থন বাড়াতে এবং ভোটারদের আস্থা অর্জনে সহায়তা করবে।
প্রতিটি দলই নির্বাচনের আগে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর আগে এই ধরনের ‘মাস কন্ট্যাক্ট’ কার্যক্রম ভোটারদের মনোভাব গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে এবং নির্বাচনী ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।



