অভিনেত্রী জোডি ফস্টার, দুইবারের অস্কার বিজয়ী, ১৯৭২ সালে ডিজনি নির্মিত “নাপোলিয়ন অ্যান্ড সামান্থা” ছবির শুটিং চলাকালে সিংহের আক্রমণের শিকার হন। তখন তিনি আট বছর ও অর্ধের কাছাকাছি বয়সে ছিলেন এবং ছবির সেটে কাজ করছিলেন।
শুটিং শেষ হওয়ার পর সিংহটি হঠাৎ করে তাকে তুলে নিল, দেহকে পাশের দিকে ঘুরিয়ে নাড়িয়ে দিল এবং শেষে মাটিতে ফেলে দিল। এই ঘটনায় সিংহের নখের দুটি নিখুঁত চিহ্ন তার ডান পাশে এবং বাম পাশে, উভয় হিপে গড়িয়ে গিয়েছিল। ফস্টার জানান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দাগগুলো দেহের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে, তাই এখন সঠিক অবস্থান জানা কঠিন।
আক্রমণের মুহূর্তে ক্যামেরা ক্রুও আতঙ্কে ভুগছিল। সিংহটি তাকে ঘোরানোর সময়, ক্রু সদস্যরা সরু পথে দৌড়ে সরঞ্জাম নিয়ে পালিয়ে যাওয়া দেখা যায়। তাদের দৌড়ের দিক সিংহের দিকের বিপরীত ছিল, ফলে দৃশ্যটি আরও ভয়ানক হয়ে উঠেছিল।
প্রাণীটির প্রশিক্ষক দ্রুত হস্তক্ষেপ করে সিংহকে থামাতে নির্দেশ দেন। প্রশিক্ষকের আদেশে সিংহটি ফস্টারকে তার মুখ থেকে ছেড়ে দেয় এবং অবশেষে তাকে মাটিতে নামিয়ে দেয়। ফস্টার এই ঘটনার পর নিজেকে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যদিও তিনি তৎকালীন শক অবস্থায় ছিলেন এবং সবকিছু স্পষ্টভাবে স্মরণ করতে পারেন না।
ফস্টার উল্লেখ করেন, সিংহের নখের চিহ্নগুলো এখনো তার দেহে রয়েছে, তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো কোথায় আছে তা ঠিকমতো জানা কঠিন। তিনি বলেন, দাগগুলো সময়ের সাথে সাথে দেহের বিভিন্ন অংশে স্থানান্তরিত হয়েছে।
আক্রমণের পর ফস্টার দ্রুত চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন এবং শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে শুটিং চালিয়ে যান। সেই সময়ের কাজের ধারাবাহিকতা তাকে চলচ্চিত্র শিল্পে তার ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
সম্প্রতি তিনি একটি ফ্যাশন ম্যাগাজিনের সাক্ষাৎকারে এই ঘটনাটি পুনরায় তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকারে তিনি শুটিংয়ের পর সিংহের আচরণ, ক্রু সদস্যদের প্রতিক্রিয়া এবং প্রশিক্ষকের হস্তক্ষেপের বিবরণ দেন। তিনি বলেন, সেই মুহূর্তে ভয়কে নামিয়ে আনা কঠিন ছিল, তবে তিনি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা অতিক্রম করতে পেরেছেন।
ফস্টারের এই অভিজ্ঞতা চলচ্চিত্র নির্মাণে প্রাণী ব্যবহারের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করে। যদিও তিনি শৈশবে এই ভয়ংকর ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন, তবু তার কর্মজীবন ধারাবাহিকভাবে সফলভাবে চলতে থাকে এবং তিনি আজও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতে সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে রয়ে গেছেন।



