হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ক্রিস প্র্যাট ‘মার্সি’ শিরোনামের নতুন সাই-ফাই থ্রিলার ছবিতে প্রধান চরিত্রে আবির্ভূত হয়েছেন। তিনি হোমিসাইড ডিটেকটিভ ক্রিস রেভেনের ভূমিকায় অভিনয় করছেন, যাকে মায়ের হত্যার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের মুখে দাঁড়াতে হয়। ছবির মূল কাহিনী রেভেনের ৯০ মিনিটের সময়সীমা, যেখানে তাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক বিচারক মাডডক্সের সামনে তার নির্দোষতা প্রমাণ করতে হয়।
রেভেনের চরিত্রটি অ্যালকোহলিক, যিনি এক রাত্রি মদ্যপান শেষে এক অদ্ভুত এক্সিকিউশন চেয়ারে জাগেন। চেয়ারটি পা ছাড়া, পায়ের তলায় কোনো জুতো না পরা অবস্থায় তাকে আটকে রাখা হয়, এবং তিনি ৫০ মিনিট পর্যন্ত সেখানে বসে থাকেন। প্র্যাট এই শারীরিক সীমাবদ্ধতা বাস্তবায়নের জন্য পরিচালক তিমুর বেকমামবেটভকে অনুরোধ করেন, যাতে অভিনয়কালে ঘনিষ্ঠভাবে ক্লাস্ট্রোফোবিয়া ও আটকে থাকার অনুভূতি প্রকাশ পায়।
প্র্যাটের মতে, চেয়ারে বসে থাকা তার শারীরিক প্রতিক্রিয়া, যেমন ঘাম ঝরা ও চুলকানি না চেপে পারা, চরিত্রের মানসিক অবস্থা প্রকাশে সহায়তা করে। তিনি আরও জানান, এই পদ্ধতি তাকে চরিত্রের অভ্যন্তরীণ সংগ্রামকে আরও স্বাভাবিকভাবে উপস্থাপন করতে সাহায্য করেছে। অভিনয়ে নতুন চ্যালেঞ্জের সন্ধান তিনি সবসময়ই রাখেন, যাতে দর্শকরা তার পূর্বের হালকা-ফুলকা রূপের বদলে ভিন্ন দিক দেখতে পান।
‘মার্সি’ ছবিটি বাস্তব সময়ে ঘটতে থাকা একটি ভবিষ্যৎ দুনিয়ার চিত্র তুলে ধরে, যেখানে ডিজিটাল নজরদারি সর্বত্র বিস্তৃত এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অপরাধ হ্রাসের জন্য ব্যবহৃত হয়। এই সিস্টেমের অংশ হিসেবে ‘মার্সি কোর্ট’ গড়ে ওঠে, যার বিচারক AI মাডডক্স, যাকে রেবেকা ফারগুসন অভিনয় করেছেন।
কোর্টে অভিযুক্তরা তাদের প্রয়োজনীয় সব নজরদারি রেকর্ড এবং সাক্ষীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত ফোন কলের অধিকার পায়, তবে জুরি বা আপিলের কোনো সুযোগ নেই। এই সিস্টেমে ৯২ শতাংশ মামলায় তৎক্ষণাৎ মৃত্যুদণ্ড আরোপিত হয়, যা সমাজে ভয় এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে গৃহীত নীতি হিসেবে উপস্থাপিত।
প্র্যাটের চরিত্র রেভেন, যিনি নিজেই এই কোর্টের উন্নয়নে অংশগ্রহণকারী, এখন নিজের জীবন রক্ষার জন্য AI বিচারকের সামনে তার নির্দোষতা প্রমাণ করতে হবে। তার কাছে কেবল ৯০ মিনিটের সময় আছে, আর তার মদ্যপানের পরের হ্যাংওভার তাকে অতিরিক্ত কষ্ট দেয়।
চিত্রনাট্য অনুযায়ী, রেভেনের স্মৃতি ধোঁয়াটে, ফলে তিনি ঘটনার প্রকৃত স্বরূপ বুঝতে পারছেন না। এই অজানা পরিস্থিতি তাকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে, যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত তার মৃত্যুর দিকে নিয়ে যেতে পারে।
প্র্যাক্টের এই অভিনয় শৈলী তার পূর্বের গার্ডিয়ানস অফ দ্য গ্যালাক্সি এবং জুরাসিক ওয়ার্ল্ডের হাস্যকর চরিত্রের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি উল্লেখ করেন, এই ভূমিকায় তিনি তার স্বাভাবিক গুজবপূর্ণ ও নির্লজ্জ স্বভাবকে ত্যাগ করে গম্ভীর এবং তীব্র পারফরম্যান্স দিতে চেয়েছেন।
চিত্রের নির্মাণে ব্যবহৃত প্রযুক্তি এবং সেটের নকশা দর্শকদেরকে এক মুহূর্তে ভবিষ্যতের উচ্চ-প্রযুক্তি কোর্টে নিয়ে যায়, যেখানে স্ক্রিনে রিয়েল-টাইম নজরদারি ফুটেজ প্রবাহিত হয়। এই দৃশ্যপটটি চলচ্চিত্রের থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা আধুনিক সমাজে প্রযুক্তি ও ন্যায়বিচারের সম্পর্ককে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
প্র্যাক্টের মতে, এই প্রকল্পে অংশ নেওয়া তার জন্য একটি বড় শিল্পগত পরীক্ষা, যা তাকে নতুন অভিনয় পদ্ধতি ও শারীরিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করতে শিখিয়েছে। তিনি আশা করেন, দর্শকরা তার এই রূপান্তরকে স্বাগত জানাবে এবং সিনেমাটিকে একটি নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপভোগ করবে।
‘মার্সি’ ছবির মুক্তি তার শৈল্পিক দিকের পাশাপাশি সামাজিক বার্তাও বহন করে। ডিজিটাল নজরদারি এবং স্বয়ংক্রিয় বিচার ব্যবস্থার সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি, এটি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ন্যায়বিচারের গুরুত্বকে জোর দেয়।
সামগ্রিকভাবে, ক্রিস প্র্যাটের এই নতুন চ্যালেঞ্জ তার ক্যারিয়ারে একটি উল্লেখযোগ্য মোড় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যেখানে তিনি তার পরিচিত হাস্যকর চরিত্রের বাইরে গিয়ে গম্ভীর ও তীব্র পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দর্শকদের নতুন অভিজ্ঞতা প্রদান করছেন।



