নাইজেরিয়ার প্রখ্যাত কাঠের শিল্পি কাসালি আকাংবে ওগুন, এক সপ্তাহ আগে সংক্ষিপ্ত অসুস্থতার পর মারা যান এবং তার শেষকৃত্য গতকাল তার জন্মস্থান ওসোগবোতে অনুষ্ঠিত হয়। তার দেহকে ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুসারে সমাধিস্থ করা হয়, যেখানে পরিবার, শিল্পসঙ্গী এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ওসোগবোতে জন্ম নেওয়া ওগুন, ইয়োরুবা জনগণের দীর্ঘ শিল্পি ঐতিহ্যের ধারক ছিলেন। তার পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে প্রাপ্ত কৌশল ও নান্দনিকতা তিনি আধুনিক শিল্পের মঞ্চে তুলে ধরেন, ফলে স্থানীয় ঐতিহ্য ও আন্তর্জাতিক শিল্পের সেতু গড়ে ওঠে।
তার কাজের বৈশিষ্ট্য ছিল সরু, লম্বা মুখের রূপ এবং প্রবাহমান, গতিশীল রেখা, যা দর্শকের চোখে এক ধরনের ভিজ্যুয়াল কবিতা তৈরি করে। এই স্বতন্ত্র শৈলী তাকে দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পি হিসেবে স্বীকৃতি এনে দেয়।
কাসালি আকাংবে ওগুন নতুন পবিত্র শিল্প আন্দোলনের (New Sacred Art Movement) প্রধান সদস্য ছিলেন, যা ১৯৬০-এর দশকে অস্ট্রিয়ান-নাইজেরিয়ান শিল্পী ও ইয়োরুবা পুরোহিত সাসান্নে ওয়েঙার প্রতিষ্ঠা করেন। এই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল ওসুন অরণ্য ও তার নদীর পবিত্রতা রক্ষা করা এবং ইয়োরুবা ধর্মীয় চিত্রকলাকে আধুনিক শিল্পের সাথে সংযুক্ত করা।
ওসুন অরণ্য, যা ২০০৫ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়, ইয়োরুবা ধর্মে উর্বরতার দেবী ওসুনের বাসস্থান হিসেবে বিবেচিত। অরণ্যের গভীর গাছপালা, বাঁকা নদী এবং সেখানে অবস্থিত মন্দির ও মূর্তি সবই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বহন করে। এই পবিত্র স্থানটি ইয়োরুবা জনগণের পরিচয়ের প্রতীক এবং অঞ্চলের সর্ববৃহৎ সংরক্ষিত উচ্চপ্রাথমিক বন হিসেবে পরিচিত।
ওগুন পরিবেশ সংরক্ষণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি বারবার গাছ রোপণের আহ্বান জানাতেন এবং পবিত্র নদীতে মাছ ধরা ও অবৈধ কাঠ কাটার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতেন। তার প্রচেষ্টা অরণ্যের স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মৃত্যুর পর তার পরিবার ও সমবায়ের সদস্যরা ওসোগবো শহরের প্রান্তে অবস্থিত পবিত্র অরণ্যের নিকটে সমাধি স্থাপন করেন। সমাধিস্থলটি ঐতিহ্যবাহী ইয়োরুবা রীতিতে সাজানো হয়, যেখানে কাঠের ভাস্কর্য ও রঙিন বস্ত্রের ব্যবহার দেখা যায়। উপস্থিত সবাই ওগুনের শিল্পকর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নীরবতা বজায় রাখেন।
কাসালি আকাংবে ওগুনের কাজ বর্তমানে টেট মডার্নের ‘নাইজেরিয়ান মডার্নিজম’ প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হচ্ছে। এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে তার ভাস্কর্যগুলোকে নতুন প্রজন্মের শিল্পপ্রেমীরা প্রশংসা করছেন, যা তার শিল্পের বৈশ্বিক প্রভাবকে পুনরায় নিশ্চিত করে।
প্রদর্শনী কিউরেটর ওসেই বন্সু উল্লেখ করেন যে, ওগুনের সৃষ্টিগুলো ইয়োরুবা ধর্মীয় চর্চায় আধ্যাত্মিক গভীরতা যোগ করেছে এবং তার শিল্পকর্মকে ভিজ্যুয়াল কবিতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি বলেন, ওগুনের জীবন ও কাজ বিশ্বাস, সম্প্রদায় এবং শিল্পের সমন্বয়কে প্রতিফলিত করে।
কাসালি আকাংবে ওগুনের মৃত্যু নিইজেরিয়ার শিল্প জগতে একটি বড় ক্ষতি, তবে তার উত্তরাধিকার অরণ্যের রক্ষায় এবং ইয়োরুবা সংস্কৃতির সংরক্ষণে অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যৎ শিল্পি ও শিল্পী তার শৈলী ও পরিবেশ সচেতনতাকে অনুপ্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করবে, যাতে তার স্বপ্নের মতোই পবিত্র ভূমি সবসময় সুরক্ষিত থাকে।



