ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রেসিডেন্সি প্রচারে অর্থনীতির উন্নয়নকে মূল স্লোগান হিসেবে তুলে ধরার পর, এক বছর পার হয়ে ভোটারদের কাছে তার নীতির বাস্তব প্রভাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়। সমীক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্য ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মানুষদের মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে, যাতে তারা খাবারের বাজেট, চাকরির সুযোগ এবং দৈনন্দিন জীবনের পরিবর্তন সম্পর্কে কী অনুভব করছেন তা জানা যায়।
মিশিগানের এক রিপাবলিকান ভোটার, যিনি গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করেন, জানান যে ট্রাম্পের শাসনকালে মৌলিক খাবারের দাম কিছুটা কমেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বছরের শুরুর দিকে গ্যাসের দাম অত্যন্ত উচ্চ ছিল এবং গ্রামীণ এলাকায় খাবার পরিবহনেও সমস্যার কারণে দাম বেড়েছিল। সেই সময়ে ডিমের দাম $৭ থেকে $১১ পর্যন্ত পৌঁছায়, যা শহুরে বাজারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল।
অবস্থা উন্নত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি বলেন, এখন দাম কমে এসেছে এবং জীবনযাত্রার মানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়। তিনি সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ও খাবার স্ট্যাম্পের ওপর নির্ভর করেন, যার মাসিক সীমা মাত্র $২৪, যা পূর্বে যথেষ্ট ছিল না। বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি এটিকে “রাত আর দিন” এর পার্থক্য বলে বর্ণনা করেন, এবং এক বছর আগে যে কঠিন সময় পার করছিলেন, তার তুলনায় এখন পরিস্থিতি বেশ স্বস্তিদায়ক।
একজন স্বাধীন ভোটার, যিনি ১৮ মাসের শিশুর বাবা, তিনি শিশুর যত্নের খরচের অপ্রত্যাশিত উচ্চতা উল্লেখ করে খাবারের বাজেট কমিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি জানান, শিশুর যত্নের বার্ষিক খরচ প্রায় $২৫,০০০, যা তার পরিবারের জন্য বড় আর্থিক চাপ তৈরি করেছে। তার স্বামী ডেটা সেন্টার ইঞ্জিনিয়ার এবং স্ত্রী এয়ারলাইন পাইলট, দুজনেই কাজ ছাড়তে চান না, ফলে তারা দুজনেই কর্মসংস্থান বজায় রাখার জন্য বাধ্য।
এই পরিবারটি ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করে, তিনি বলেন যে প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে বড় ফারাক রয়েছে। তিনি ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতি সম্পর্কে ১০ এর মধ্যে ৪ নম্বর দেন, কারণ তিনি মনে করেন প্রেসিডেন্টের কথাবার্তা বেশি, কাজ কম।
অন্যদিকে, কিছু ভোটার উল্লেখ করেন যে গ্যাসের দাম এবং অন্যান্য মৌলিক পণ্যের দাম সাম্প্রতিক সময়ে হ্রাস পেয়েছে, যা তাদের দৈনন্দিন ব্যয়কে কিছুটা হালকা করেছে। তবে, শিশুর যত্ন, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষার খরচের ধারাবাহিক বৃদ্ধি এখনও অনেক পরিবারের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।
বহু ভোটারই স্বীকার করেন যে ট্রাম্পের শাসনকালে কর্মসংস্থান বাজারে কিছু উন্নতি দেখা গেছে, তবে তা সব সেক্টরে সমানভাবে পৌঁছায়নি। কিছু শিল্পে চাকরির সুযোগ বাড়লেও, সেবা খাত এবং ছোট ব্যবসায়ের জন্য চ্যালেঞ্জ এখনও বিদ্যমান।
শ্রেণীভিত্তিক পার্থক্যও স্পষ্ট হয়ে দাঁড়ায়; উচ্চ আয়ের পরিবারগুলো তুলনামূলকভাবে কম প্রভাবিত হয়, যেখানে নিম্ন আয়ের গোষ্ঠী এবং সামাজিক নিরাপত্তা ভাতাভোগীরা দামের ওঠানামা ও সীমিত ভাতার কারণে বেশি কষ্ট পায়।
মিশিগানের রিপাবলিকান ভোটার উল্লেখ করেন, গ্রামীণ এলাকায় খাবার পরিবহনের সমস্যার সমাধান হওয়ায় দাম কমেছে, তবে শহুরে এলাকায় এখনও উচ্চ দামের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সরকারী নীতি যদি গ্রামীণ ও শহুরে উভয় ক্ষেত্রের সমান সমর্থন প্রদান করে, তবে দাম স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।
শিশুর যত্নের খরচের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশকারী স্বাধীন ভোটার যুক্তি দেন, যদি সরকারী সহায়তা বা কর ছাড়ের মাধ্যমে এই ব্যয় কমানো যায়, তবে কর্মজীবী পরিবারগুলোর আর্থিক চাপ হ্রাস পাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে ভবিষ্যতে নীতি নির্ধারকরা এই ধরনের মৌলিক সেবা খাতে আরও সমর্থন প্রদান করবেন।
সামগ্রিকভাবে, ভোটারদের মতামত থেকে স্পষ্ট হয় যে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি কিছু ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ হয়েছে, তবে মূল্যবৃদ্ধি, শিশুর যত্নের ব্যয় এবং সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার সীমাবদ্ধতা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। এই মিশ্র প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক, যা পরবর্তী নির্বাচনী চক্রে অর্থনৈতিক নীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
ভবিষ্যতে, যদি প্রেসিডেন্টের দল এই সমস্যাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমাধান করতে পারে, তবে ভোটারদের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠন সম্ভব হতে পারে। অন্যদিকে, যদি দামের বৃদ্ধি ও সামাজিক সহায়তার ঘাটতি অব্যাহত থাকে, তবে ভোটারদের মধ্যে বিরোধ ও অসন্তোষ বাড়তে পারে, যা রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলবে।



