গণিতবিদ ড. গ্লেডিস ওয়েস্ট ৯৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি পৃথিবীর আকারের গাণিতিক মডেল তৈরি করে আধুনিক গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেমের (GPS) ভিত্তি স্থাপন করেন, যা আজ বিমান চলাচল, জরুরি সেবা এবং দৈনন্দিন যাতায়াতে অপরিহার্য।
ওয়েস্টের জন্ম ১৯৩০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া রাজ্যের এক কৃষ্ণাঙ্গ পরিবারে। দক্ষিণে জিম ক্রো আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের সময়েও তিনি উচ্চশিক্ষা অর্জনের সুযোগ পেয়েছিলেন।
তিনি ভার্জিনিয়া স্টেট কলেজে (বর্তমানে ভার্জিনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি) ভর্তি হয়ে গণিতে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। তার শিক্ষাজীবন সেই সময়ের সামাজিক বাধা সত্ত্বেও ধারাবাহিকভাবে অগ্রসর হয়।
১৯৫৬ সালে তিনি ন্যাভাল সারফেস ওয়ারফেয়ার সেন্টার, ডালগ্রেন, ভার্জিনিয়ায় কাজ শুরু করেন। সেখানে তিনি মহাকাশযান থেকে প্রাপ্ত স্যাটেলাইট ডেটা ব্যবহার করে পৃথিবীর জ্যামিতিক আকৃতি নির্ণয়ের গবেষণায় নিযুক্ত হন।
১৯৭০ এবং ১৯৮০ দশকে ওয়েস্টের দল স্যাটেলাইটের রেডিয়ো-মেট্রিক তথ্যকে গাণিতিক সমীকরণে রূপান্তর করে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট পৃথিবীর এলিপসয়েড মডেল তৈরি করেন। এই কাজের জন্য জটিল সংখ্যাতত্ত্ব, ফুরিয়ার বিশ্লেষণ এবং ডেটা ফিল্টারিং প্রয়োজন ছিল, যা সাধারণ মানুষের জন্য কল্পনাতীত।
এই মডেলগুলো পরবর্তীতে GPS সিস্টেমের মূল অ্যালগরিদমের ভিত্তি হয়ে ওঠে। আজকের সময়ে গাড়ি, স্মার্টফোন, বিমান এবং জরুরি সেবা সকলেই এই প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল, যা ওয়েস্টের গাণিতিক অবদানের সরাসরি ফলাফল।
ডালগ্রেন কেন্দ্রে তিনি মোট ৪২ বছর কাজ করেন এবং ১৯৯৮ সালে অবসর গ্রহণ করেন। তার ক্যারিয়ার জুড়ে তিনি বহু গবেষণা প্রকল্পে নেতৃত্ব দেন, তবে তার নাম সাধারণ মানুষের কাছে ততটা পরিচিত ছিল না।
বহু নারী বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদ, বিশেষত রঙিন নারীরা, দীর্ঘ সময় ধরে অবহেলিত হয়ে থাকেন; ওয়েস্টের ক্ষেত্রেও তা ব্যতিক্রম ছিল না। তার অবদানকে যথাযথ স্বীকৃতি পেতে বহু বছর লেগে যায়।
২০১৮ সালে তিনি আলফা কাঙ্কা আলফা (Alpha Kappa Alpha) সোররিটি সংস্থার একটি অনুষ্ঠানে নিজের জীবনী সংক্ষেপে উপস্থাপন করেন। এই সংস্থার সদস্যদের সহায়তায় তার কাজের গুরুত্ব ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়।
একই বছর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এয়ার ফোর্স স্পেস ও মিসাইলস পায়োনিয়ার্স হল অফ ফেমে অন্তর্ভুক্ত হন এবং ঐতিহাসিক কৃষ্ণাঙ্গ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় (HBCU) পুরস্কার অনুষ্ঠানে ‘ফিমেল আলুমনা অফ দ্য ইয়ার’ উপাধি পান। এই স্বীকৃতিগুলো তার দীর্ঘদিনের অবহেলাকে কিছুটা কমিয়ে দেয়।
২০২০ সালে প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওয়েস্ট নিজে যখন ভ্রমণ করতেন, তখন তিনি ডিজিটাল নেভিগেশন টুলের পরিবর্তে কাগজের মানচিত্র ব্যবহার করতে পছন্দ করতেন। এটি তার বিজ্ঞানী মনোভাবের পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে।
ড.



