ব্রাইটন ও বর্নমাউথের প্রিমিয়ার লীগ মুখোমুখি ম্যাচটি আমেক্স স্টেডিয়ামে ১-১ সমতার সঙ্গে শেষ হয়েছে। গ্রীক সাবস্টিটিউট চারালামপোস কোস্টুলাসের ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে করা সাইক্লিক কিকই দলকে পয়েন্ট নিশ্চিত করেছে, যা বর্নমাউথের আগস্টের পরের প্রথম দূরবর্তী জয় অর্জনের সুযোগ নষ্ট করেছে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে বর্নমাউথের ফরোয়ার্ড অমিন আদলির ডাইভের পর রেফারির সিদ্ধান্তে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। রেফারি প্রথমে পেনাল্টি না দিলেও, পিচ‑সাইড মনিটরে দেখা যায় যে ব্রাইটনের গোলরক্ষক বার্ট ভেরব্রুগেন বলটি স্পর্শ করেছেন, ফলে রেফারির মত পরিবর্তন হয় এবং পেনাল্টি দেওয়া হয়।
পেনাল্টি থেকে ব্রাইটনের মারকাস টাভার্নিয়ার গোল হয়ে ১-০ হয়ে যায়। এই মুহূর্তে ম্যাচের ফলাফল এক পয়েন্টে সীমাবদ্ধ রাখার সম্ভাবনা তৈরি হয় এবং বর্নমাউথের জন্য বড় চাপের সৃষ্টি হয়। টাভার্নিয়ার গোলটি ৯৯তম মিনিটের আগে ঘটেছে, ফলে বর্নমাউথের আক্রমণকে ত্বরান্বিত করতে হয়।
ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে, কোস্টুলাসের চেস্টে স্পর্শে বলটি উপরে উঠে যায়। ১৮ বছর বয়সী গ্রীক খেলোয়াড়টি দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করে, পেছনের দিকে মুখ করে থাকা অবস্থায় চমৎকার সাইক্লিক কিক মারেন। বলটি জাল দিয়ে গিয়ে নেটের পিছনে গিয়ে যায়, যা আমেক্স স্টেডিয়ামের ভক্তদের উল্লাসে ভরিয়ে দেয় এবং ম্যাচকে ১-১ সমতায় নিয়ে আসে। কোস্টুলাসের এই একক মুহূর্তের পারফরম্যান্সই ব্রাইটনকে পয়েন্ট নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।
এই ফলাফল বর্নমাউথের জন্য বড় ধাক্কা, কারণ আগস্টের পর থেকে দলটি কোনো দূরবর্তী জয় অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে, ব্রাইটন তাদের পূর্বের ১১ ম্যাচের জয়হীন সিরিজ শেষ করার পর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। পূর্বের ম্যাচে তারা “ডক্টর টটেনহ্যাম” নামে পরিচিত একজন খেলোয়াড়ের সাহায্যে জয় পেয়েছিল, যা এই জয়কে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে।
বর্নমাউথের প্রধান কোচ আন্দোনি ইরাওলা ম্যাচের আগে দলের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি দলকে “পাতলা” এবং “বেঞ্চের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ” বলে উল্লেখ করেন, এবং গ্যানা জাতীয় অ্যান্টোয়ান সেমেন্যোর প্রস্থানের পর বাম ফ্ল্যাঙ্কে অমিন আদলিকে ব্যবহার করার কথা জানান। ইরাওলা আরও জানান যে গ্রীষ্মে দল থেকে ২০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি মূল্যের খেলোয়াড়দের চলে যাওয়া তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
ইরাওলার মতে, বাকি মৌসুমে তরুণ ও অনভিজ্ঞ সাবস্টিটিউটদের ওপর নির্ভর করে ফলাফল তোলাই একমাত্র উপায়। তিনি দলের প্রশিক্ষণ ও কৌশলগত পরিবর্তনের মাধ্যমে এই ঘাটতি পূরণ করার পরিকল্পনা করছেন। যদিও বর্নমাউথের আক্রমণাত্মক লাইন কিছুটা দুর্বল, তবে ইরাওলা তার খেলোয়াড়দের দ্রুত গতি ও উচ্চ চাপের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ করতে চান।
ব্রাইটনের গোলরক্ষক বার্ট ভেরব্রুগেনের হ্যান্ডলিং নিয়ে বিতর্ক সত্ত্বেও, তার সামগ্রিক পারফরম্যান্সে কিছু সমালোচনা রয়ে গিয়েছে। তবে কোস্টুলাসের গোল দলকে পয়েন্ট নিশ্চিত করতে সাহায্য করেছে, যা ব্রাইটনের লিগে অবস্থান বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। টাভার্নিয়ার পেনাল্টি গোল এবং কোস্টুলাসের সমতা গোল দুটোই ম্যাচের মূল মুহূর্ত হিসেবে স্মরণীয় থাকবে।
পরবর্তী ম্যাচে বর্নমাউথকে ইরাওলা আরও কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে, আর ব্রাইটন তাদের লিগে অবস্থান রক্ষা করার জন্য ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্য রাখবে। উভয় দলই শীঘ্রই নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে, তবে এই ম্যাচের স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ভক্তদের মনে দীর্ঘদিন টিকে থাকবে।



