আফ্রিকান জাতীয় দলগুলোর চূড়ান্ত ম্যাচে স্পেনের ফরোয়ার্ড ব্রাহিম দিয়াজ পেনাল্টি শুটআউটে প্যানেনকা শৈলীর ঝুঁকিপূর্ণ শট ব্যবহার করে মরক্কোর হৃদয় ভেঙে দিলেন। ম্যাচটি সেডনিরা ও মরক্কোর মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় এবং শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি সিদ্ধান্তই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে।
দিয়াজের পেনাল্টি নেওয়ার আগে সেডনিরা মাঠ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেডনিরা এল হাজি মালিক দিউফের দ্বারা কাঁধ টেনে ধরা পড়ার পর তৎকালীন উত্তেজনা বাড়ে এবং দলটি প্রতিবাদে মাঠ ত্যাগ করে। তবে সাদিও মানে দলের ক্যাপ্টেনের অনুরোধে প্রায় ১৫ মিনিটের বিরতির পর দলটি ফিরে আসে।
বিরতির সময় ভিডিও সহকারী রেফারি (VAR) জঁ-জ্যাক নডালা নগাম্বো ঘটনাটির পুনরায় পর্যালোচনা করেন। পুনরায় দেখার পর তিনি পেনাল্টি পয়েন্টে বল দেন, তবে রেফারির সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করতে দিয়াজকে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। এই সময়ে দিয়াজের মাথায় কী চিন্তা চলছিল, তা স্পষ্ট নয়, তবে শেষ পর্যন্ত তিনি প্যানেনকা শট বেছে নেন।
দিয়াজের এই প্যানেনকা শটের ঝুঁকি নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়। প্যানেনকা শট সাধারণত উচ্চ ঝুঁকির, যেখানে শুটার বলটি ধীর করে গোলকিপারের দিকে ঢেলে দেয়, যাতে গোলকিপার বলটি ধরার চেষ্টা করে এবং শুটার সহজে গোল করতে পারে। দিয়াজের এই সিদ্ধান্তকে কিছু বিশ্লেষক উচ্চ দায়িত্বের মুহূর্তে অতিরিক্ত ঝুঁকি হিসেবে দেখেছেন।
দিয়াজের পেনাল্টি শুট করার আগে তার গ্রুপ পর্যায়ের পারফরম্যান্স উল্লেখযোগ্য। গ্রুপ ম্যাচে তিনি মালির বিরুদ্ধে একটি পেনাল্টি সফলভাবে ব্যবহার করে দলকে গোল করিয়েছিলেন। ঐ পেনাল্টিতে তিনি বলটি বাম দিকে নিচু করে মারেছিলেন, যখন গলকিপার ডজিগুই দিয়াররা অন্য দিকে ঝুঁকেছিলেন। তবে সেই সময়ে সেডনির গলকিপার এদুয়ার্ড মেন্ডি সেই দিকটি লক্ষ্য করতে পারেননি।
গ্রুপ পর্যায়ে দিয়াজের পেনাল্টি সফল হওয়ার পেছনে আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের ভূমিকা ছিল। আক্রাফ হাকিমি, যিনি নিজে পেনাল্টি নেওয়ার দক্ষতা রাখেন, সেই মুহূর্তে মাঠে উপস্থিত ছিলেন না, ফলে দিয়াজকে নিজের শুটিং ক্ষমতা প্রমাণ করতে হয়।
সেডনিরা যখন মাঠ ত্যাগ করে, তখন দিয়াজের দলের মনোভাবও অস্থির হয়ে যায়। তবে সাদিও মানে দলের ক্যাপ্টেনের দৃঢ়তা এবং দলের সমর্থন তাকে পুনরায় মাঠে ফিরে আসতে উদ্বুদ্ধ করে। ক্যাপ্টেনের এই উদ্যোগের ফলে দলটি শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি শুটের সুযোগ পায়।
প্যানেনকা শটের ঐতিহাসিক পটভূমি উল্লেখযোগ্য। এই শটটি প্রথমবার ১৯৭৬ সালের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে চেকোস্লোভাকিয়া দল ব্যবহার করে পশ্চিম জার্মানির বিরুদ্ধে জয়লাভের জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল। সেই সময়ের শুটার অ্যান্টোনিন প্যানেনকা এই শটের নামকরণ করেন। দিয়াজের শুট একই ঐতিহ্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
দিয়াজের পেনাল্টি শুটের পর গলকিপার এদুয়ার্ড মেন্ডি বলটি ধরতে ব্যর্থ হন এবং গোল হয়। এই গোলই শেষ মুহূর্তে মরক্কোর বিজয় নিশ্চিত করে। ম্যাচের শেষ স্কোরে মরক্কো জয়ী হয় এবং সেডনি দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে।
ম্যাচের পর দিয়াজের পারফরম্যান্স নিয়ে বিভিন্ন মতামত প্রকাশ পায়। কিছু বিশ্লেষক তার সাহসিকতাকে প্রশংসা করেন, আবার অন্যরা তার ঝুঁকি নেওয়ার পদ্ধতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। তবে দিয়াজের এই শট আফকন ফাইনালের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে রয়ে যাবে।
পরবর্তী ম্যাচে মরক্কো দলকে আফকন চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি প্রদান করা হবে, আর সেডনি দলকে তাদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি নিতে হবে। উভয় দলের কোচ ও খেলোয়াড়রা এই অভিজ্ঞতা থেকে শিখে পরবর্তী চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুতি নেবে।
সারসংক্ষেপে, ব্রাহিম দিয়াজের প্যানেনকা পেনাল্টি আফকন ফাইনালের নাটকীয় মুহূর্তে ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে এবং তার ঝুঁকি গ্রহণের মনোভাবকে নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি করে। এই শটের মাধ্যমে দিয়াজের নাম আফ্রিকান ফুটবলের ইতিহাসে একটি বিশেষ স্থান পায়।



