22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিলেবার পার্টি হিলসবরো আইন পারিবারিক সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত পাসে বিলম্ব

লেবার পার্টি হিলসবরো আইন পারিবারিক সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত পাসে বিলম্ব

লেবার সরকার হিলসবরো ও ম্যানচেস্টার আরেনা হামলার শিকার পরিবারের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত হিলসবরো আইনকে পার্লামেন্টে পুনরায় আনবে না। সোমবার, পারিবারিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার ব্যর্থতা পরবর্তী সপ্তাহে বিলটি আবার বিলম্বিত করার সিদ্ধান্তে নেতৃত্ব দেয়। মূল বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু হল পাবলিক অথরিটি (অ্যাকাউন্টেবিলিটি) বিলের ‘ডিউটি অফ কানডার’ কীভাবে সক্রিয় গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ওপর প্রয়োগ হবে।

এই আইনটি সরকারি গোপনীয়তা ও কভার-আপ বন্ধ করার লক্ষ্যে তৈরি, যাতে কোনো সরকারি কর্মকর্তা মিথ্যা বলা বা তথ্য গোপন করার জন্য দায়বদ্ধ হয়। সরকার ইতিমধ্যে সম্মত হয়েছে যে নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকেও এই বিধানের আওতায় আনা হবে, তবে তারা সংস্থার প্রধানদেরকে শেষ সিদ্ধান্ত নিতে দেবে যে কখন কোনো কর্মকর্তা সাক্ষ্য দেবে। পরিবারগুলো এই শর্তকে অগ্রহণযোগ্য বলে দাবি করে, কারণ এটি ভবিষ্যতে গোপনীয়তা বাড়াতে পারে।

শুক্রবার, সরকার নিজস্ব সংশোধনী প্রস্তাব করে নিরাপত্তা সংস্থার ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব আরোপ করে, তবে তা পরিবারগুলোর প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়। লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুযায়ী, এখন আর কোনো বিকল্প নেই—বিলটি সম্পূর্ণ সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত পুনরায় পার্লামেন্টে আনতে হবে, যাতে জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

পারিবারিক প্রতিনিধিরা, আইনজীবী পিটার ওয়েদারবাই, যিনি এই আইনটির মূল স্থপতি, এবং মন্ত্রীরা অ্যালেক্স ডেভিস-জোনস ও নিক থমাস-সাইমন্ডস সোমবার ন্যায়বিচার মন্ত্রণালয়ে সাক্ষাৎ করেন। আলোচনার পর কোনো চুক্তি না হয়ে তারা সভা ত্যাগ করেন।

লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার সোমবার একটি সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়ের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে তিনি পরিবারগুলোর অধিকার রক্ষা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি আরও বলেন, ‘ডিউটি অফ কানডার’ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, তবে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার ওপর প্রয়োগের ক্ষেত্রে সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করা দরকার।

স্টারমার জানান, সরকারকে এমন একটি সমাধান খুঁজে বের করতে হবে যা পরিবারগুলোর চাহিদা পূরণ করে এবং একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার সুরক্ষা বজায় রাখে। তিনি জোর দেন যে এই প্রক্রিয়ায় কোনো তাড়াহুড়ো করা যাবে না, কারণ ভুল সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে আরও বড় সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

বিলের এই বিলম্ব লেবার সরকারের আইনসভার সময়সূচিতে প্রভাব ফেলতে পারে। হিলসবরো আইনটি সরকারী স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত, তাই এর স্থগিত হওয়া রাজনৈতিক সমালোচনার মুখে ফেলতে পারে। বিরোধী দল ও কিছু মিডিয়া ইতিমধ্যে সরকারের এই দেরি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

অন্যদিকে, নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিনিধিরা যুক্তি দেন যে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সাক্ষ্য প্রদান সংবেদনশীল তথ্যের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে। তারা দাবি করেন, শেষ সিদ্ধান্ত সংস্থার প্রধানদের হাতে থাকা উচিত, যাতে তথ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হয়।

পরিবারগুলোর দৃষ্টিকোণ থেকে, তারা এই শর্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করে, কারণ এটি পূর্বের কভার-আপের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে। তারা আইনটি যেন সম্পূর্ণভাবে নিরাপত্তা সংস্থার ওপর প্রয়োগ হয়, এবং কোনো ব্যতিক্রম না থাকে, তা চায়।

বৈধভাবে, সরকার এই সপ্তাহে সংশোধনী প্রস্তাব করে নিরাপত্তা সংস্থার ওপর অতিরিক্ত বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে, তবে পরিবারগুলোর চাহিদা পূরণে তা যথেষ্ট নয়। ফলে, পারিবারিক প্রতিনিধিরা এবং আইনজীবী পিটার ওয়েদারবাই পুনরায় আলোচনার দরকারীয়তা জোর দিয়ে বলেন।

লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুসারে, এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি, এবং বিলটি আবার পার্লামেন্টে আনতে হবে না যতক্ষণ না পরিবারগুলোর সঙ্গে একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তি হয়। এই পরিস্থিতি সরকারকে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার মধ্যে সঠিক সমতা রক্ষার চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

ভবিষ্যতে, যদি পারিবারিক সমঝোতা না হয়, তবে হিলসবরো আইনটি সম্ভবত দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থগিত থাকবে, যা লেবার সরকারের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়ানোর প্রচেষ্টাকে প্রভাবিত করতে পারে। অন্যদিকে, যদি সমঝোতা হয়, তবে আইনটি নিরাপত্তা সংস্থার ওপর নতুন দায়িত্ব আরোপ করে সরকারী কভার-আপের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করবে।

এই বিষয়টি লেবার সরকারের আইনসভার অগ্রগতি এবং জাতীয় নিরাপত্তা নীতির মধ্যে একটি সংবেদনশীল সমন্বয়কে তুলে ধরে, যা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং পরবর্তী সপ্তাহে কীভাবে সমাধান হবে তা নজরে থাকবে।

৮৮/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: The Guardian – Football
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments