মিনেসোটা রাজ্যের সেন্ট পল শহরের সিটিজ গির্জায় রবিবার অনুষ্ঠিত ধর্মীয় পরিষেবার সময় একদল প্রতিবাদকারী আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) বিরোধী কর্মী গির্জার ভিতরে ঢুকে ধর্মীয় অনুষ্ঠান ব্যাহত করে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়বিচার বিভাগ এই ঘটনার ওপর তদন্ত শুরু করেছে এবং প্রতিবাদকারীদের ধর্মীয় স্থানের অপবিত্রতা ও নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ফৌজদারি পদক্ষেপের সম্ভাবনা জানিয়েছে।
প্রতিবাদকারীরা দাবি করে যে গির্জার আটজন পাস্টরের মধ্যে একজন, ডেভিড ইস্টারউড, আইসিই-র স্থানীয় কর্মকর্তা। যদিও ইস্টারউড ওই রবিবারের পরিষেবা পরিচালনা করেননি, তার নাম আইসিই-র সেন্ট পল ফিল্ড অফিসের কার্যনির্বাহী পরিচালক হিসেবে এসিএলইউ (অ্যাক্সেস সিভিল লিবার্টি ইউনিয়ন) দাখিল করা আদালত নথিতে উল্লেখ রয়েছে। এই তথ্য এপি (অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস) এবং মিনেসোটা স্টার ট্রিবিউন সংবাদপত্রের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে।
ইস্টারউডের পাশাপাশি, গত অক্টোবর মাসে তিনি ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোমের সঙ্গে মিনিয়াপোলিসে একটি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। এই উপস্থিতি আইসিই-র সঙ্গে তার সংযোগের সন্দেহকে বাড়িয়ে দেয়। গির্জা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মন্তব্যের অনুরোধের পরেও, ডিএইচএস স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে এজেন্টদের পরিচয় প্রকাশ করা তাদের ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে, তাই তারা কোনো নিশ্চিতকরণ বা অস্বীকার করবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি রবিবারের ঘটনায় ফেডারেল আইন প্রয়োগের পূর্ণ শক্তি ব্যবহার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে ধর্মীয় স্থানে অনধিকার প্রবেশ ও পরিষেবা বাধাগ্রস্ত করা একটি গুরুতর অপরাধ এবং এর জন্য কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। পরের দিন, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হারমিট ধিলন একই বিষয়টি টুইটার (এক্স) প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করে জানান যে ন্যায়বিচার বিভাগ এই মামলায় ফেডারেল অভিযোগ দায়ের করবে।
প্রতিবাদকারীদের মধ্যে ব্ল্যাক লাইভস মাটার মিনেসোটা সংগঠনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মনিক কুলার্স-ডটি উল্লেখ করেন যে তারা আইসিই-র কঠোর নীতি ও অভিবাসন নীতির বিরোধে নীরব থাকতে পারবে না। তিনি বলেন, “আমরা অচল বসে থাকতে পারি না, যখন আমাদের সম্প্রদায়ের মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।” তার এই বক্তব্যকে সিবিএস নিউজের মাধ্যমে জানানো হয়েছে।
মিনেসোটা রাজ্যে আইসিই বিরোধী প্রতিবাদ চলমান, এবং পেন্টাগনও সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতির জন্য ১,৫০০ সৈন্যকে প্রস্তুত অবস্থায় রাখে। এই সৈন্যদের মোতায়েনের সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত, তবে ফেডারেল নিরাপত্তা সংস্থার ওপর চাপ বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।
সেন্ট পল শহরের সিটিজ গির্জা, যেখানে ঘটনার স্থান, এখনো ঘটনাটির ব্যাপারে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য দেয়নি। গির্জা পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা জানিয়েছেন যে তারা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।
শহরের অন্য অংশে, মিনিয়াপোলিসের হুইপল বিল্ডিংয়ে ফেডারেল এজেন্সির সদর দপ্তরে প্রতিবাদ চলতে থাকে। কখনো কখনো সংঘর্ষের ঝুঁকি দেখা দেয়, তবে বড় কোনো হিংসাত্মক ঘটনা রেকর্ড করা হয়নি। এই প্রতিবাদগুলো মূলত আইসিই ও ডিএইচএস-র নীতি নিয়ে বিরোধের প্রকাশ।
ফেডারেল স্তরে, ন্যায়বিচার বিভাগ এবং ডিএইচএস উভয়ই এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা ও আইনি দিক থেকে সতর্কতা অবলম্বন করছে। ন্যায়বিচার বিভাগ আইসিই-র কর্মীদের পরিচয় গোপন রাখার নীতি বজায় রাখবে বলে জানিয়েছে, যাতে এজেন্ট ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতি, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। ন্যায়বিচার বিভাগের তদন্তের ফলাফল ও সম্ভাব্য ফেডারেল অভিযোগের পরিণতি আগামী সপ্তাহে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে।
প্রতিবাদকারীদের দাবি ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া উভয়ই দেশের অভিবাসন নীতি ও ধর্মীয় স্থানের সুরক্ষার মধ্যে সূক্ষ্ম সমতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। ভবিষ্যতে, আইসিই-র কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আইনগত কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবেশে অভিবাসন নীতি, ফেডারেল আইন প্রয়োগ এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার সংযোগ নতুন করে বিশ্লেষণ করা হবে। ন্যায়বিচার বিভাগের তদন্তের অগ্রগতি ও ফেডারেল অভিযোগের ফলাফল দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নীতির পুনর্গঠনকে প্রভাবিত করতে পারে।



