কাডুনা রাজ্যের আফোগো ওয়ার্ডের কুরমিন ওয়ালি গ্রামাঞ্চলে রবিবার প্রায় ১১:২৫ টায় দুইটি গির্জায় সাপ্তাহিক উপাসনা চলাকালীন সশস্ত্র গোষ্ঠী প্রবেশ করে উপাসকদের জোরপূর্বক বনে নিয়ে যায়। স্থানীয় পুলিশ জানায়, আক্রমণকারীরা উন্নতমানের অস্ত্র ব্যবহার করে গির্জার প্রবেশদ্বার বন্ধ করে উপাসকদেরকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়।
আক্রমণকারী গোষ্ঠীকে স্থানীয়ভাবে “ব্যান্ডিট” বলা হয় এবং তারা প্রায়শই উত্তর ও মধ্য নাইজেরিয়ার গ্রামাঞ্চলে র্যানসমের উদ্দেশ্যে অনুরূপ কাজ করে থাকে। গির্জা কর্মকর্তাদের মতে, মোট ১৭২ জন উপাসক অপহরণ হয়, যার মধ্যে নয়জন পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়।
খ্রিস্টীয় সংস্থা নাইজেরিয়া উত্তর বিভাগের প্রধান জোসেফ হায়াবের মতে, অপহরণকৃতদের সংখ্যা ১৭২ এবং বেঁচে থাকা নয়জনের তথ্য গির্জার প্রবীণদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, অপহরণকৃতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎকালীন নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।
এই ঘটনা নাইজেরিয়ার সাম্প্রতিক বড় অপহরণ সিরিজের ধারাবাহিকতা, যেখানে নভেম্বর মাসে একটি ক্যাথলিক বিদ্যালয় থেকে ৩০০েরও বেশি ছাত্র-শিক্ষককে গোষ্ঠী গ্রেফতার করে পরে দুই ভাগে মুক্তি দেয়া হয়। ঐ ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা অবস্থা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।
দেশে বর্তমানে বহু ধরনের নিরাপত্তা সংকট বিদ্যমান; র্যানসমের জন্য অপহরণ, উত্তর-পূর্বে ইসলামিক বিদ্রোহ, দক্ষিণ-পূর্বে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিংসা এবং কেন্দ্রীয় অঞ্চলে চারণভূমি ও পানির জন্য গবাদি পশু পালক ও কৃষকদের মধ্যে সংঘাত। এসব সমস্যার সমাধানে দুর্নীতি, গোয়েন্দা তথ্যের অভাব এবং অপর্যাপ্ত পুলিশ বাজেট প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে তথ্য শেয়ারিংয়ের ঘাটতি এবং পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তার অভাবের ফলে অপহরণ ও সন্ত্রাসী হামলা দ্রুত বাড়ছে। সরকার এই সমস্যাগুলো মোকাবিলায় আইন প্রয়োগের ক্ষমতা বাড়াতে এবং গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক উন্নত করতে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
গত মাসে নাইজেরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে পদত্যাগ করেন, যা একই সময়ে দেশের অপহরণ সংকটের শীর্ষে ছিল। মন্ত্রীর পদত্যাগের পর সরকার নতুন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নিয়োগের পাশাপাশি নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিবেচনা করার ঘোষণা দেয়।
যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সময়ে নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেছে; ক্রিসমাস দিবসে উত্তর-পশ্চিমে ইসলামিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর দুটি শিবিরে বায়ু হামলা চালানো হয়। এই পদক্ষেপটি স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রম দমন এবং র্যানসমের জন্য অপহরণ কমাতে আন্তর্জাতিক সমর্থন নির্দেশ করে।
অপহরণ ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ ব্যাপক তদন্ত শুরু করেছে এবং গৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। গির্জা কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসন অপহরণকৃতদের মুক্তির জন্য সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করতে প্রস্তুত। তদন্তের অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য আদালত প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য প্রকাশের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এই ঘটনাটি নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের নতুন মাত্রা উন্মোচন করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা ও দেশীয় নিরাপত্তা কাঠামোর শক্তিশালীকরণে ত্বরান্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেছে।



