22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্পের শুল্ক হুমকির মুখে গ্রিনল্যান্ডের স্বতন্ত্রতা বজায় রাখার দৃঢ় সংকল্প

ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির মুখে গ্রিনল্যান্ডের স্বতন্ত্রতা বজায় রাখার দৃঢ় সংকল্প

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইনস‑ফ্রেডেরিক নিলসেন সোমবার ফেসবুকে পোস্ট করে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কের হুমকি সত্ত্বেও দেশ তার স্বায়ত্তশাসন ও রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করবে না। পোস্টে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, গ্রিনল্যান্ড একটি গণতান্ত্রিক সমাজ এবং তার জনগণের নিজস্ব ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার রয়েছে।

নিলসেনের বক্তব্যে আন্তর্জাতিক সমর্থনের স্বাগত প্রকাশ পেয়েছে; তিনি বলছেন, অন্যান্য দেশের সমর্থন গ্রিনল্যান্ডের স্বতন্ত্রতা স্বীকৃতির একটি স্পষ্ট সংকেত। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সব মন্তব্য, শুল্কের হুমকি সহ, গ্রিনল্যান্ডের নীতি পরিবর্তনে প্রভাব ফেলবে না বলে জোর দেন। দেশটি চাপের মুখে না গিয়ে সংলাপ, পারস্পরিক সম্মান এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অটল থাকবে।

গত সপ্তাহান্তে, গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুউকেতে মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে বিশাল প্রতিবাদে নিলসেন অংশ নেন। সেখানে হাজারো নাগরিক একত্রিত হয়ে ট্রাম্পের “গ্রিনল্যান্ড দখল”ের দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। অংশগ্রহণকারীরা “গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়” লেখা প্ল্যাকার্ড তুলে তাদের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার দাবি করেন। এই প্রতিবাদে নিলসেনের উপস্থিতি সরকারের নীতি ও জনগণের ইচ্ছার সমন্বয়কে দৃঢ় করে তুলেছে।

প্রতিবাদের মূল দাবি হল, গ্রিনল্যান্ডের ভূখণ্ড ও সম্পদ বিদেশি শাসন বা বাণিজ্যিক চুক্তির মাধ্যমে বিক্রি করা যাবে না; জনগণ নিজে সিদ্ধান্ত নেবে কীভাবে দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে। নিলসেনের মন্তব্যে তিনি এই দাবি সমর্থন করে বলেন, দেশের স্বায়ত্তশাসন ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান বজায় রাখা জরুরি।

ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি মূলত গ্রিনল্যান্ডের কাঁচামাল রপ্তানি ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে লক্ষ্য করে। যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে, শুল্কের মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের অর্থনৈতিক নীতি পরিবর্তন করে তার ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ অর্জন করা সম্ভব হতে পারে। তবে গ্রিনল্যান্ডের সরকার এই কৌশলকে অগ্রাহ্য করে, দেশীয় স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে নিজস্ব নীতি বজায় রাখবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রিনল্যান্ডের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উপর নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। শুল্কের হুমকি ও রাজনৈতিক চাপের ফলে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক চুক্তি, আর্থিক সহায়তা এবং নিরাপত্তা সহযোগিতায় পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কানাডার মতো অন্যান্য দেশ গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসনকে সমর্থন জানিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি সমালোচনা করতে পারে।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, নিলসেনের দৃঢ় অবস্থান গ্রিনল্যান্ডের আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বতন্ত্রতা বাড়াবে এবং আর্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংক্রান্ত আলোচনায় দেশের কণ্ঠকে শক্তিশালী করবে। তবে শুল্কের হুমকি অব্যাহত থাকলে, গ্রিনল্যান্ডের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বাণিজ্যিক সুযোগসুবিধা সীমাবদ্ধ হতে পারে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশে চাপ বাড়াতে পারে।

সারসংক্ষেপে, গ্রিনল্যান্ডের সরকার ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির মুখে তার স্বায়ত্তশাসন রক্ষার জন্য দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করেছে এবং আন্তর্জাতিক সমর্থনকে স্বাগত জানিয়েছে। দেশটি সংলাপ ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে নীতি চালিয়ে যাবে, এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের পুনঃমূল্যায়ন ও নতুন কূটনৈতিক কৌশল গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments