ঢাকা শহরে ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রাসঙ্গিক কর্তৃপক্ষ মুফতি আমির হামজা পরিচালিত সব ধর্মীয় সমাবেশ, অর্থাৎ ওয়াজ মাহফিল, স্থগিত করার সিদ্ধান্ত জানায়। এই নির্দেশনা রাত ০০:০১ টায় প্রকাশিত হয় এবং তৎক্ষণাৎ কার্যকর হয়।
মুফতি আমির হামজা বাংলাদেশের অন্যতম পরিচিত ধর্মীয় বক্তা, যিনি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন মসজিদ ও সমাবেশে ধর্মীয় উপদেশ দেন। তার উপদেশে ধর্মীয় বিষয়ের পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক দিকও আলোচিত হয়ে থাকে, যা তাকে বিশাল অনুসারী ও সমালোচক উভয়ই তৈরি করেছে।
গত কয়েক মাসে মুফতি হামজার বিরুদ্ধে জনমত গঠনে বেশ কিছু প্রতিবাদ দেখা যায়। নারীদের ঝাড়ু মিছিল, তার কিছু মন্তব্যের প্রতি আপত্তিকর প্রতিক্রিয়া এবং কোকোর নাম বিকৃতির অভিযোগের ফলে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে। এসব ঘটনা তার ধর্মীয় সমাবেশের প্রতি জনসাধারণের মনোভাবকে প্রভাবিত করেছে।
প্রাসঙ্গিক কর্তৃপক্ষের বিবৃতি অনুযায়ী, স্থগিতের মূল কারণ হল সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু বক্তব্য যা জনসাধারণের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করেছে। তাই, সকল ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন অবিলম্বে বন্ধ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে পুনরায় অনুমোদন পেতে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে।
এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে মুফতি হামজা পরিচালিত সকল ধর্মীয় সমাবেশের তালিকা ও সময়সূচি পর্যালোচনা করা হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, কোনো নতুন সমাবেশের পরিকল্পনা হলে তা পূর্বে অনুমোদন নিতে হবে।
মুফতি হামজা ও তার সমর্থকরা এই পদক্ষেপকে অযৌক্তিক বলে সমালোচনা করেছেন, তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক আপত্তি বা আপিলের তথ্য প্রকাশিত হয়নি। অন্যদিকে, বিরোধী গোষ্ঠী এই সিদ্ধান্তকে জনমত রক্ষার একটি সঠিক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে।
স্থানীয় ধর্মীয় সংগঠনগুলোও এই সিদ্ধান্তের প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। কিছু সংগঠন বলেছে, স্থগিতের ফলে ধর্মীয় সমাবেশের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়বে, অন্যদিকে কিছু সংগঠন ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এই পদক্ষেপের ফলে ধর্মীয় সমাবেশের নিয়মাবলী ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় কঠোরতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য হল জনসাধারণের নিরাপত্তা ও সামাজিক সাদৃশ্য রক্ষা করা, যা ভবিষ্যতে ধর্মীয় ইভেন্টের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
মুফতি হামজার পূর্বে অনুষ্ঠিত কিছু ওয়াজ মাহফিলের রেকর্ড অনুযায়ী, তার উপস্থিতি ও বক্তৃতা স্থানীয় জনগণের মধ্যে উচ্চ আগ্রহের বিষয় ছিল। তবে এখন পর্যন্ত তার কোনো নতুন সমাবেশের ঘোষণা করা হয়নি।
এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে, ধর্মীয় সমাবেশের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অনুমোদন প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করা হবে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, সকল আবেদন যথাযথভাবে মূল্যায়ন করে অনুমোদন বা অস্বীকৃতি জানাবে।
অধিকন্তু, এই স্থগিতের ফলে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দিকের মধ্যে সম্পর্কের পুনর্মূল্যায়ন হতে পারে। বিশেষ করে, ধর্মীয় নেতাদের জনমত গঠনে ভূমিকা ও তাদের বক্তব্যের সামাজিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা বাড়বে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
সারসংক্ষেপে, মুফতি আমির হামজা পরিচালিত সব ওয়াজ মাহফিলের স্থগিতের সিদ্ধান্ত ঢাকা শহরে ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে নেওয়া হয় এবং এটি ধর্মীয় সমাবেশের নিয়মাবলী ও জনমত গঠনে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনতে পারে। ভবিষ্যতে অনুমোদন প্রক্রিয়ার শর্ত পূরণ হলে সমাবেশ পুনরায় শুরু হতে পারে।



