২০ জানুয়ারি, ২০২৬ মঙ্গলবার, ঢাকা শহরে প্রধান উপদেষ্টা ফারুক ই আজম জাতীয় ভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য নাগরিকদের আহ্বান জানালেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভোটারদের এই বিকল্পকে সমর্থন করা জরুরি।
উপদেষ্টা ফারুক ই আজমের বক্তব্যে বিশেষ করে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ৮,৯৭,০০০ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে ভোটের নিরাপত্তা ও বৈধ অস্ত্র জমা নির্দেশনা কার্যকর করার জন্য মোতায়েনের পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি বললেন, এই বৃহৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভোটের স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়ক হবে।
বৈধ অস্ত্র জমা নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটের আগে নাগরিকদের স্বল্পমেয়াদে তাদের অনুমোদিত অস্ত্রসমূহ জমা দিতে হবে। এই প্রক্রিয়ার ত্বরান্বিত সম্পন্নের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশাল সংখ্যা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উপদেষ্টা ফারুক ই আজমের এই আহ্বানকে সমর্থন জানিয়ে তিনি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভোটের ফলাফলকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখতে চান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা কার্যকর হবে।
প্রতিপক্ষের কিছু রাজনৈতিক দল এই বৃহৎ নিরাপত্তা মোতায়েনকে ভোটারদের উপর চাপের হাতিয়ার হিসেবে দেখছে। তারা বলছে, এত বড় সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা সদস্যের উপস্থিতি স্বাভাবিক ভোটার অংশগ্রহণকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিপক্ষের নেতারা ভোটের স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা দাবি করছেন। তারা উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি ভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত না করার জন্য স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষক দল গঠন করা উচিত।
এই প্রেক্ষাপটে, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীগণ নামের একজন প্রার্থী হাইকোর্টে তার প্রার্থিতার পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করেছেন। তার আবেদনটি বর্তমানে আদালতে বিবেচিত হচ্ছে।
মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীগণের পক্ষে সমর্থকরা দাবি করেন, তার প্রার্থিতার প্রত্যাখ্যানের পেছনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ রয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধীরা বলেন, প্রার্থিতার শর্ত পূরণে তার কিছু ঘাটতি রয়েছে।
উপদেষ্টা ফারুক ই আজমের আহ্বানকে কেন্দ্র করে, ফরিদা আখতার নামের একজন প্রার্থীও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনসমর্থন সংগ্রহে সক্রিয়। তিনি ভোটারদেরকে দেশের অগ্রগতির জন্য এই বিকল্পকে সমর্থন করতে অনুরোধ করেছেন।
প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, ভোটের ফলাফল দেশের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বহু পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে।
নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে ভোটের সময়সূচি ও প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা নিশ্চিত করেছে, ভোটের দিন নাগরিকদের জন্য নিরাপদ ও স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
ভবিষ্যতে, ভোটের ফলাফল অনুযায়ী সরকার নতুন নীতি চালু করবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোতায়েনের পরিধি সমন্বয় করা হবে। রাজনৈতিক দলগুলো ফলাফলের ভিত্তিতে তাদের কৌশল পুনর্বিবেচনা করবে এবং দেশের উন্নয়ন লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাবে।



