জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ব্যক্তিগত করদাতাদের জন্য ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের দ্বিতীয় সময়সীমা বাড়িয়ে দিয়েছে; শেষ তারিখে মাত্র ১২ দিন বাকি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা না করলে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও ইন্টারনেটের মতো জরুরি ইউটিলিটি পরিষেবা কেটে দেওয়া হতে পারে।
এই সময়সীমা প্রথমে ৩০ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল, পরে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয় এবং এখন ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়েছে। করদাতাদের জন্য এখন অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক, তবে নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণি এই বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পেয়েছে।
আয়কর আইন অনুযায়ী, রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ হলে কর কর্মকর্তাদের ইউটিলিটি সংযোগ কেটে দেওয়ার অধিকার রয়েছে। এই ক্ষমতা আইনগতভাবে নির্ধারিত, ফলে কোনো আইন লঙ্ঘন হলে সরাসরি পরিষেবা বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।
দেরি রিটার্নের জন্য আর্থিক শাস্তি হিসেবে প্রতিদিন ৫০ টাকা জরিমানা আরোপ করা হবে। এছাড়া মাসিক ২ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকবে এবং ১৭৪ ধারা অনুযায়ী কর অব্যাহতির পরিমাণ কমে যাবে, যা করদাতার মোট কর দায় বাড়িয়ে দেবে।
রিটার্ন না দিলে বেতন‑ভাতাদি গ্রহণে জটিলতা দেখা দিতে পারে। নিয়োগকর্তা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো রিটার্নের অনুপস্থিতি ভিত্তিক পেমেন্ট প্রক্রিয়ায় বাধা দিতে পারে, ফলে কর্মচারীর আয়প্রাপ্তিতে প্রভাব পড়বে।
ইউটিলিটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া কেবল গৃহস্থালির নয়, ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ওপরও সরাসরি প্রভাব ফেলবে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ ছাড়া উৎপাদনশীল শিল্প, রেস্টুরেন্ট, ছোট দোকান ও সেবা খাতের কাজ থেমে যেতে পারে, যা স্থানীয় অর্থনীতির প্রবাহকে ধীর করবে।
ব্যাংক ও আর্থিক সংস্থাগুলোও এই পরিস্থিতি থেকে প্রভাবিত হবে। ইউটিলিটি বন্ধের ফলে ঋণগ্রহীতা ও ব্যবসায়িক গ্রাহকের পেমেন্ট সক্ষমতা হ্রাস পাবে, ফলে ঋণ পুনরুদ্ধার ও ডিফল্ট ঝুঁকি বাড়বে। অতিরিক্ত শাস্তি ও জরিমানার ফলে করদাতার নগদ প্রবাহে চাপ বাড়বে, যা ঋণ চাহিদা ও সুদের হারকে প্রভাবিত করতে পারে।
ইউটিলিটি প্রদানকারী সংস্থাগুলোর জন্যও ঝুঁকি রয়েছে। সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে গ্রাহক সংখ্যা হ্রাস পাবে, ফলে বিক্রয় ও নগদ প্রবাহে হ্রাস দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে, সংযোগ পুনরায় চালু করার জন্য অতিরিক্ত প্রশাসনিক খরচ বাড়বে, যা তাদের অপারেশনাল ব্যয় বাড়িয়ে দেবে।
অনলাইন রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পেয়েছে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী, শারীরিকভাবে অক্ষম বা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তি, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি এবং মৃত করদাতার আইনগত প্রতিনিধি। এছাড়া বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রেও কিছু শিথিলতা রয়েছে; তারা ই-রিটার্নের মাধ্যমে দাখিল করতে পারবে।
এই অব্যাহতি প্রাপ্ত শ্রেণির করদাতারা ই-রিটার্নের মাধ্যমে রিটার্ন দাখিল করতে পারবে, যদিও বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য অনলাইন দাখিল বাধ্যতামূলক নয়। তবে তাদের পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা ইত্যাদি তথ্য প্রদান করতে হবে, যাতে রেকর্ডে সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়।
করদাতাদের জন্য সময়মত রিটার্ন দাখিল করা আর্থিক শাস্তি ও ইউটিলিটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া থেকে রক্ষা পেতে গুরুত্বপূর্ণ। শেষ তারিখের কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে করদাতাদের অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করে দ্রুত রিটার্ন জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে অতিরিক্ত খরচ ও সেবা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি এড়ানো যায়।



