27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনপ্রিন্স হ্যারি ও অন্যান্য সেলিব্রিটি দৈনিক মেইলকে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা

প্রিন্স হ্যারি ও অন্যান্য সেলিব্রিটি দৈনিক মেইলকে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা

লন্ডনের হাই কোর্টে সোমবার প্রথম শুনানি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ডিউক অফ সাসেক্স প্রিন্স হ্যারি এবং এলটন জন, লিজ হার্লি সহ পাঁচজন আরেকজন উচ্চপ্রোফাইল ব্যক্তিরা দৈনিক মেইল ও মেইল অন সানডে প্রকাশকের (Associated Newspapers Limited) বিরুদ্ধে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন।

হ্যারি দাবি করেন, প্রকাশনা সংস্থা তার এবং তার পারিবারিক সদস্যদের ব্যক্তিগত তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহ করে, যা তাকে “অবিশ্বাস্যভাবে প্যারানয়েড” করে তুলেছে। তিনি বলেন, তার প্রতিটি কাজ, চিন্তা ও অনুভূতি যেন মেইলকে আর্থিক লাভের জন্য পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

মামলায় মোট ১৪টি প্রকাশনা ২০০১ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে হ্যারির ব্যক্তিগত জীবনের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই প্রকাশনাগুলোর মধ্যে একটিতে ২০০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে হ্যারির তখনকার বান্ধবী চেলসি ডেভির বিমান সিট, উড়ানের সময়সূচি এবং ভ্রমণ পরিকল্পনা প্রকাশের অভিযোগ রয়েছে।

দৈনিক মেইলের বর্তমান রয়্যাল এডিটর রেবেকা ইংলিশকে এই তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর মাইক বেহরের সঙ্গে কাজ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। বেহরকে দাবি করা হয়, তিনি তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি কিছু তথ্য “প্রতিষ্ঠা” করার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন।

প্রকাশনা সংস্থা ANL এই অভিযোগগুলোকে কঠোরভাবে অস্বীকার করেছে। সংস্থার আইনজীবী অ্যান্টনি হোয়াইট কেএস উল্লেখ করেন, মামলায় উল্লিখিত কোনো প্রকাশনা সেই সময়ে অভিযোগের বিষয় ছিল না এবং অভিযোগকারীরা যে ধারাবাহিক লঙ্ঘনের প্যাটার্ন দেখাতে চাচ্ছেন তা প্রমাণিত হয়নি।

হ্যারির আইনজীবী ডেভিড শারবর্ন মামলার লিখিত দাখিলের মধ্যে হ্যারির কথাকে তুলে ধরেছেন, যেখানে তিনি বলেন, এই ধরনের গোপনীয়তা লঙ্ঘন তার এবং তার প্রিয়জনদের মধ্যে অবিশ্বাস ও সন্দেহের বীজ বপন করেছে। তিনি আরও যোগ করেন, এই অনুপ্রবেশ “ভয়ঙ্কর” এবং “একাকিত্বের অনুভূতি” সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবারের শুনানিতে হ্যারি আদালতে উপস্থিত ছিলেন, যা তার জন্য প্রথমবারের মতো সরাসরি আদালতে উপস্থিতি। আদালতের রায়ে মোট নয় সপ্তাহের একটি ট্রায়াল নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষের যুক্তি শোনা হবে।

মামলায় যুক্ত সেলিব্রিটিদের মধ্যে সঙ্গীতশিল্পী স্যার এলটন জন এবং মডেল লিজ হার্লি অন্তর্ভুক্ত, যারা একই প্রকাশনা সংস্থার বিরুদ্ধে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে একই সময়ে মামলা দায়ের করেছেন। তাদের অভিযোগের ভিত্তি একই—ব্যক্তিগত তথ্যের অবৈধ সংগ্রহ ও প্রকাশ।

প্রকাশনা সংস্থার পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে, হ্যারির সামাজিক বৃত্তকে মিডিয়ার জন্য “লিকের ভাল উৎস” হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং তাই তারা অতিরিক্ত নজরদারির শিকার হয়েছে। তবে সংস্থা এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কোনো গোপনীয়তা লঙ্ঘনের স্বীকারোক্তি দেয়নি।

মামলার প্রধান বিষয় হল প্রকাশনা সংস্থার গোপনীয়তা রক্ষার নীতিমালা ও ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের সীমা কোথায় শেষ হয়। আদালত কীভাবে এই বিষয়গুলোকে ব্যাখ্যা করবে তা ভবিষ্যতে মিডিয়া ও পাবলিক ফিগারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হতে পারে।

এই মামলায় বিচারক ও আইনজীবীরা উভয় পক্ষের প্রমাণ ও যুক্তি বিশ্লেষণ করবেন, যাতে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হয়। যদি আদালত প্রকাশনা সংস্থার বিরুদ্ধে রায় দেয়, তবে এটি মিডিয়া শিল্পে গোপনীয়তা রক্ষার নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে।

অবশেষে, হ্যারির এই মামলাটি তার ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি এবং অন্যান্য অভিযোগকারী ব্যক্তিরা আশা করছেন, আদালতের রায়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতে অনধিকারিক তথ্য সংগ্রহের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত হবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments