ময়মনসিংহের জিলা স্কুল হোস্টেল মাঠের পার্শ্ববর্তী পরিত্যক্ত ভবনের পেছনে দুই যুবক ল্যাম্পপোস্ট কেটে চুরির চেষ্টা করার সময় বিদ্যুৎ শক পেয়ে প্রাণ হারিয়ে। ২৭ বছর বয়সী হৃদয় মিয়া (মাদ্রাসা কোয়ার্টার) ও ৩২ বছর বয়সী মো. রাকিব মিয়া (আকুয়া) সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
পুলিশের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনের দেহ উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। চিকিৎসকগণ দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে উভয়কে মৃত ঘোষণা করেন।
কোটওয়ালি মডেল থানা থেকে মো. নাজমুস সাকিব ওসি জানান, ল্যাম্পপোস্টটি সিটি কর্পোরেশনের সোলার প্যানেলযুক্ত ল্যাম্পপোস্ট ছিল, যার উপরের অংশ পিডিবি (ডিস্ট্রিবিউশন বোর্ড) লাইনের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। যুবকরা যখন ল্যাম্পপোস্টের ভিত্তি কেটে চুরি করার চেষ্টা করছিল, তখন উপরের অংশে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়ে দুজনকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করে।
স্থানীয়দের মতে, পরিত্যক্ত ছাত্রাবাসের পেছনে ল্যাম্পপোস্টের গোড়া কাটা অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল এবং আশেপাশে কয়েকটি হ্যাকসো ব্লেড ছড়িয়ে ছিল। এই সরঞ্জাম দিয়ে যুবকরা ল্যাম্পপোস্টের ধাতব অংশ কেটে নেয়ার পরিকল্পনা করছিল।
ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা জুলহাস উদ্দিন জানান, দগ্ধ অবস্থায় দুই যুবককে উদ্ধার করা স্থানটি সাধারণত মানুষজনের চলাচলের মধ্যে থাকে না, ফলে ঘটনাটি অপ্রত্যাশিতভাবে ঘটেছে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ল্যাম্পপোস্টের অবশিষ্ট অংশ, হ্যাকসো ব্লেড এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করে তদন্তে ব্যবহার করবে। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল বিভাগগুলোকে ঘটনাটির সম্পূর্ণ প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ল্যাম্পপোস্ট ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চুরির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। চুরি করা ল্যাম্পপোস্টের ধাতব অংশ পুনর্বিক্রয় করা প্রায়শই দেখা যায়, যা জনসাধারণের নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অধিক তদন্তে জানা যাবে যে, ল্যাম্পপোস্টের কোন অংশে সরাসরি বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল এবং চুরির সময় কীভাবে লাইনের সঙ্গে সংস্পর্শে এসেছে। বর্তমানে থানা থেকে ঘটনাটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর সহ অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, ল্যাম্পপোস্ট চুরি ও বিদ্যুৎ সংযোগে অনধিকার প্রবেশ অপরাধের ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য। সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী, এমন অপরাধে মৃত্যুদণ্ড বা আজীবন কারাদণ্ডের সম্ভাবনা রয়েছে, তবে আদালত প্রমাণের ভিত্তিতে রায় দেবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশন এই ধরনের চুরি রোধে ল্যাম্পপোস্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। অতিরিক্ত নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন এবং নিয়মিত পরিদর্শনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এই দুঃখজনক ঘটনা জনসাধারণকে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চুরির ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছে এবং অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি নেওয়া থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানিয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কঠোর আইন প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা পুনরায় উদ্ভাসিত হয়েছে।
অধিক তথ্য ও আপডেটের জন্য সংশ্লিষ্ট থানা ও ফায়ার সার্ভিসের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করা হবে।



