রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকের পর, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সোমবার শোকজ তৎক্ষণাৎ তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়ে, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তারেক রহমানকে প্রথম লক্ষ্যবস্তু করে।
বিফ্রিংয়ে উপস্থিত এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, বৈঠকের পর দলীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনেন।
এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও একই সময়ে নির্বাচনী কমিশনের ও সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, এবং এই বিষয়গুলোকে জনসাধারণের সামনে স্পষ্ট করতে কমিশনের ব্যাখ্যা দাবি করেন।
রবিবার, এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং প্রধান সমন্বয়ক নাসীরউদ্দিন পাটওয়ারীকে রিটার্নিং কর্মকর্তা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের নোটিস প্রদান করেন। নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী প্রচার শুরু হওয়ার আগে গণভোটে ‘হ্যা’ পক্ষে শোকজ ব্যবহার করা হয়েছে।
এই শোকজের ব্যবহারকে কোড অফ কন্ডাক্টের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করে, দলটি সোমবার দুপুরে তার প্রতিক্রিয়া জানায় এবং শোকজ তৎক্ষণাৎ তুলে নেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করে।
বৈঠকের সময়, এনসিপি দলীয় কর্মকর্তারা প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন এবং পরে বাংলা মোটরে দলের কার্যালয়ে একটি ব্রিফিং করেন। সেখানে শোকজের ব্যবহার, কোড লঙ্ঘন এবং নির্বাচনী কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, কেন্দ্রীয় নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও মুখ্য প্রচারক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সেক্রেটারি মনিরা শারমিন এবং আইনি সহায়তা উপকমিটির প্রধান জহিরুল ইসলাম মুসা। সবাই একত্রে শোকজের ব্যবহারকে নির্বাচনী নীতি লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেন।
এনসিপি দল দাবি করে যে, শোকজের ব্যবহার ভোটারকে ‘হ্যা’ ভোটের দিকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্য বহন করে এবং তা নির্বাচনী আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। তাই শোকজ তৎক্ষণাৎ তুলে নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তার নোটিস কার্যকর করা জরুরি।
দলটি এছাড়াও নির্বাচন কমিশনকে জনসাধারণের সামনে এই বিষয়ের পূর্ণ ব্যাখ্যা দিতে আহ্বান জানায়, যাতে ভোটারদের মধ্যে স্বচ্ছতা বজায় থাকে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত হয়।
এই দাবিগুলি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা যোগ করেছে। এনসিপি এবং বিএনপি উভয়েরই শোকজ ব্যবহারের বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে, যা আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, শোকজের ব্যবহার এবং কোড লঙ্ঘনের অভিযোগের সমাধান না হলে, নির্বাচন কমিশনের উপর বিশ্বাসের ক্ষতি হতে পারে এবং ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়তে পারে।
এনসিপি দল আগামী সপ্তাহে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে একটি অতিরিক্ত বৈঠক নির্ধারণের পরিকল্পনা করছে, যেখানে শোকজের ব্যবহার, নোটিসের কার্যকারিতা এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী নীতিমালা নিয়ে আলোচনা হবে।
যদি শোকজ তৎক্ষণাৎ তুলে নেওয়া না হয়, তবে এনসিপি আইনগত পদক্ষেপের সম্ভাবনা উন্মুক্ত করেছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার জন্য তীব্রভাবে সতর্ক করেছে।



