ভিয়েনার মেসারলি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষকরা জানিয়েছেন, অস্ট্রিয়ার একটি ছোট খামারে বসবাসরত ব্রাউন সুইস গরু ভারোনিকা, ডেক ব্রাশের দুটো প্রান্ত ব্যবহার করে নিজের দেহের বিভিন্ন অংশ ঘষে। এই আচরণ জানুয়ারি ১৯ তারিখে প্রকাশিত একটি বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো গরুর টুল ব্যবহার হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।
ভারোনিকা সাধারণ গরুর মতো গাছ, পাথর বা কাঠের তক্তার ওপর ঘষে না গিয়ে, ব্রাশের হ্যান্ডেলটি জিহ্বা দিয়ে ধরতে পারে এবং ঘাড় ঘুরিয়ে প্রয়োজনীয় স্থানে নিয়ে যায়। গবেষকরা লক্ষ্য করেন, সে ব্রাশের কঠিন, দাঁড়ি যুক্ত প্রান্তটি পিঠের মোটা ত্বক ও উরু মতো কঠিন অংশে ব্যবহার করে, আর নরম, দাঁড়ি না থাকা প্রান্তটি পেটের নাভি, স্তন ও গুদের মতো সংবেদনশীল জায়গায় ধীরে ধীরে ঘষে।
গরু সাধারণত নিজে নিজে গাছের ডাল, পাথর বা খুঁটি ব্যবহার করে ঘষা করে থাকে, যা তাদের স্বাভাবিক আচরণ হিসেবে বিবেচিত। তবে ভারোনিকা যে পদ্ধতিতে ব্রাশকে টুল হিসেবে ব্যবহার করে, তা আগে কখনো নথিভুক্ত হয়নি। গবেষকরা উল্লেখ করেন, গরুর বুদ্ধিমত্তা প্রায়ই কম মূল্যায়ন করা হয়, আর এই পর্যবেক্ষণ সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে।
ব্রাশটি বিভিন্ন দিক থেকে স্থাপন করে দেখা যায়, গরু কঠিন দাঁড়ি যুক্ত প্রান্তটি বড় এলাকা, যেমন পিঠ ও উরু, ঘষতে পছন্দ করে। অন্যদিকে হ্যান্ডেলের নরম অংশটি সূক্ষ্ম জায়গা, যেমন নাভি ও গুদ, ঘষতে ব্যবহার করা হয়। গবেষক অ্যান্টোনিও ওসুনা-মাসকারো প্রথমে ভেবেছিলেন, গরু হ্যান্ডেল দিয়ে ঘষা করা কোনো ভুল হতে পারে, তবে পর্যবেক্ষণের পর স্পষ্ট হয়ে যায় যে গরুটি উভয় প্রান্তকে আলাদা কাজের জন্য ব্যবহার করছে।
এই আচরণ কীভাবে গরু শিখেছে তা এখনও অজানা, তবে গবেষকরা অনুমান করেন, গরুটি নিজের শারীরিক অস্বস্তি দূর করার জন্য এই পদ্ধতি বিকাশ করেছে। টুল ব্যবহার করে নিজের দেহের নির্দিষ্ট অংশে পৌঁছানো গরুর জন্য নতুন একটি কৌশল, যা পূর্বে কোনো গরুতে দেখা যায়নি।
বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই আবিষ্কার গরুর জ্ঞানীয় ক্ষমতা সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করে। গরু কি স্বয়ংক্রিয়ভাবে টুল ব্যবহার শিখতে পারে, নাকি পরিবেশের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে এই দক্ষতা অর্জন করে? ভবিষ্যতে আরও গবেষণা এই বিষয়টি স্পষ্ট করতে পারে।
গরুর স্বাস্থ্যের দিক থেকে দেখা যায়, টুল ব্যবহার করে নিজে নিজে ঘষা করা তাদের ত্বকের অস্বস্তি কমাতে এবং পরিষ্কার রাখতে সহায়ক হতে পারে। কৃষক ও পশু চিকিৎসকরা এই ধরনের স্বাভাবিক আচরণকে পর্যবেক্ষণ করে, গরুর স্বাস্থ্যের উন্নয়নে নতুন পদ্ধতি বিবেচনা করতে পারেন।
সারসংক্ষেপে, ভারোনিকা নামের গরু ডেক ব্রাশকে টুল হিসেবে ব্যবহার করে নিজের দেহের বিভিন্ন অংশ ঘষে, যা গরুর টুল ব্যবহার সম্পর্কিত প্রথম নথিভুক্ত উদাহরণ। এই পর্যবেক্ষণ গরুর জ্ঞানীয় ক্ষমতা সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে এবং পশু কল্যাণের উন্নয়নে সম্ভাব্য উপকারিতা নির্দেশ করে।
আপনার মতামত কী? গরুর মতো বড় স্তন্যপায়ী প্রাণীর টুল ব্যবহার ভবিষ্যতে কীভাবে গবেষণার বিষয় হতে পারে, তা নিয়ে আপনার চিন্তা শেয়ার করুন।



