28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিচিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম টবি ক্যাডম্যানের পদত্যাগের খবর ভুল বলে স্পষ্ট করেন

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম টবি ক্যাডম্যানের পদত্যাগের খবর ভুল বলে স্পষ্ট করেন

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম সোমবার বিকেলে তার অফিসে সাংবাদিকদের জানিয়ে দেন যে, ব্রিটিশ আইনজীবী টবি ক্যাডম্যানের পদত্যাগের খবর সঠিক নয়। তিনি উল্লেখ করেন, ক্যাডম্যানকে ১৯ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শক হিসেবে এক বছরের জন্য নিয়োগ করা হয়েছিল এবং তার মেয়াদ ১৯ নভেম্বর ২০২৫ শেষ হবে। এই তথ্যের ভিত্তিতে তিনি স্পষ্ট করেন যে, কোনো স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘটনা ঘটেনি।

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম আরও জানান, ক্যাডম্যানের নিয়োগ চুক্তিতে স্পষ্টভাবে শেষ তারিখ উল্লেখ করা আছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক পদত্যাগের নথি পাওয়া যায়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই মেয়াদ শেষ হওয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং তা কোনো বিরোধের সূচক নয়।

প্রাথমিকভাবে সরকার ক্যাডম্যানের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করেছিল। ক্যাডম্যানও এক্সটেনশনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানায়। এই অনুরোধটি আইন মন্ত্রণালয়ের আলোচনার অংশ ছিল, তবে শেষ পর্যন্ত মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেয় যে, মেয়াদ শেষের কয়েক দিন বাকি থাকায় নতুন চুক্তি করা প্রয়োজন নেই।

আইন মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের ভিত্তি ছিল প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা এবং সময়সীমা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন চুক্তি না করার নীতি। মন্ত্রণালয় উল্লেখ করে, বর্তমান সময়ে কোনো নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের প্রয়োজন দেখা দেয়নি এবং তাই ক্যাডম্যানের পদটি স্বাভাবিকভাবে শেষ হবে।

এর আগে ব্রিটিশ মানবাধিকার কর্মী ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান ফেসবুকে পোস্ট করে দাবি করেন যে ক্যাডম্যান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ উপদেষ্টা পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এই পোস্টটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। তবে বার্গম্যানের দাবির কোনো সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বার্গম্যানের তথ্যকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ক্যাডম্যানের পদত্যাগের কোনো নথি নেই এবং মেয়াদ শেষ হওয়াই তার পদত্যাগের প্রকৃত কারণ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ নয়, বরং চুক্তির নির্ধারিত সময়ের সমাপ্তি।

টবি ক্যাডম্যান ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে আসেন। তার আগমনের পরই তাকে চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগটি আন্তর্জাতিক আইনি সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

এই স্পষ্টীকরণ দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে কিছু প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, আন্তর্জাতিক আইনি সংস্থার মধ্যে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য এই ধরনের মেয়াদ শেষ হওয়া স্বাভাবিক বলে ধরা হয়। তবে কিছু বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, নতুন নিয়োগ না করা সরকারের অগ্রাধিকার পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে।

আইন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াগত নিয়ম মেনে নেওয়া হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক আইনি সংস্থায় নির্দিষ্ট মেয়াদী পদগুলোর পুনর্নবীকরণ সাধারণত এইভাবে পরিচালিত হয়। ক্যাডম্যানের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন পরামর্শক নির্বাচন একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। চিফ প্রসিকিউটর এখন পর্যন্ত কোনো তাত্ক্ষণিক প্রতিস্থাপন ঘোষণা করেননি।

সারসংক্ষেপে, টবি ক্যাডম্যানের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পরামর্শক পদ থেকে পদত্যাগের খবর ভুল তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে। তার এক বছরের মেয়াদ নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে এবং সরকার নতুন চুক্তি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই প্রক্রিয়া আইনি নীতিমালা অনুসারে পরিচালিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের নিয়োগে একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments