নরসিংদী জেলার চিনিশপুরে শনিবার রাতের আলোচনা সভায় বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন জিয়া পরিবারের দেশের সংকটের সময়ে যে ভূমিকা পালন করেছে তা নিয়ে মন্তব্য করেন। সভা শ্রী জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয় এবং উপস্থিতদের মধ্যে জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ, যুব ও ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা ছিলেন।
খোকন উল্লেখ করেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের পর থেকে জিয়া পরিবার ধারাবাহিকভাবে জাতির হাল ধরে এসেছে এবং গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। তিনি জিয়াউর রহমানকে দেশের স্বাধীনতা অর্জনের মূল স্থপতি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তার নেতৃত্বে দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে।
বেগম খালেদা জিয়াকে তিনি দীর্ঘ সময়ের জন্য সামরিক ও স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া বহু বছর কঠোর সংগ্রাম করে ‘অপেক্ষা না করা নেতা’ উপাধি অর্জন করেছেন এবং দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।
এরপর তিনি জিয়া পরিবারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান উল্লেখ করে বলেন, খালেদা জিয়া ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট, দানবীয় ও মাফিয়া শাসনের বিরোধিতা করে ‘ডেমোক্রেসির মা’ উপাধি অর্জন করেছেন। তিনি এই উপাধি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার রক্ষায় তার অবিচল প্রতিশ্রুতির স্বীকৃতি হিসেবে তুলে ধরেন।
খোকন আরও যোগ করেন, ঐতিহাসিক ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ত্রয়োদশ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রক্রিয়ায় জিয়া পরিবারের সর্বোচ্চ অবদান রয়েছে। তিনি বলেন, এই আন্দোলন এবং নির্বাচনের সাফল্য জিয়া পরিবারের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ফলাফল।
সভায় উপস্থিত জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মনজুর এলাহী, সহ-সভাপতি এড. আবদুল বাসেদ ভূঁইয়া এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দও খোকনের বক্তব্যে সম্মতি প্রকাশ করেন। তারা জিয়া পরিবারের দেশের স্বার্থে করা কাজের প্রশংসা করে এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।
গোলাম কিবরিয়া কামাল, হারুন আর রশিদ, ফারুক উদ্দিন ভূঁইয়া এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহসিন হোসাইন বিদ্যুৎসহ বিএনপি যুবদল ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দও আলোচনা সভায় অংশ নেন। তারা জিয়া পরিবারের রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে দেশের উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করার কথা জানান।
সভায় আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে জিয়া পরিবারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি অন্তর্ভুক্ত ছিল। উপস্থিতরা একমত হন যে জিয়া পরিবারের অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্ব দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
খোকন উল্লেখ করেন, দেশের বর্তমান সংকটের মোকাবিলায় জিয়া পরিবারের ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং কৌশলগত পরিকল্পনা পুনরায় কাজে লাগানো প্রয়োজন। তিনি বলেন, এই ধরনের নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন এবং গণতন্ত্রের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।
বিএনপি নেতারা সভার শেষে জিয়া পরিবারের প্রতি সম্মানসূচক একটি স্মারক প্রদান করেন এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সংলাপ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের সমস্যার সমাধান করার প্রতিশ্রুতি জানান।
এই আলোচনা সভা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জিয়া পরিবারের ভূমিকা পুনর্বিবেচনা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উপস্থিত সকল পক্ষের মতামত একত্রে দেশের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, খায়রুল কবির খোকনের বক্তব্য এবং উপস্থিত নেতাদের মতামত জিয়া পরিবারের জাতীয় সংকটের সময়ের অবদানকে পুনরায় উজ্জ্বল করেছে এবং দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশে নতুন আলো জ্বালানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছে।



