28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসারূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি ও স্বচ্ছতা প্রশ্নে পরিকল্পনা কমিশনের সিদ্ধান্ত

রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি ও স্বচ্ছতা প্রশ্নে পরিকল্পনা কমিশনের সিদ্ধান্ত

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণে ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) ১১ জানুয়ারি সভায় নতুন প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এই সংশোধনী পেশ করেছে, যেখানে মোট ব্যয় প্রায় ২৫,৫৯২ কোটি ৮৫ লাখ টাকায় বাড়ানোর দাবি করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বৃদ্ধি মূল বাজেটের তুলনায় ২২.৬৩ শতাংশের বেশি, যা প্রকল্পের মোট ব্যয়কে ১,১৩,০৯২ কোটি থেকে ১,৩৮,৬৮৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকায় নিয়ে যাবে। এই পরিবর্তন পরিকল্পনা কমিশনের আপত্তি সত্ত্বেও করা হয়েছে; কমিশন প্রাথমিকভাবে ২৬,১৮১ কোটি ২৬ লাখ টাকার বৃদ্ধি প্রস্তাব থেকে ৫৮৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা বাদ দিয়ে সংশোধনী অনুমোদন করেছে।

বৃদ্ধির মধ্যে ২৫,৭৫৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা রাশিয়ার ঋণ সহায়তা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত, বাকি অংশ সরকার সরাসরি অর্থায়ন করবে। মূল পরিকল্পনায় সরকারকে ২২,০৫৩ কোটি টাকা এবং রাশিয়ার ঋণ সহায়তা ৯১,০৪০ কোটি টাকা প্রদান করার কথা ছিল।

বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ব্যয় বৃদ্ধির কারণ হিসেবে প্রকল্পের কার্যপরিধিতে পরিবর্তন উল্লেখ করেছে। তারা জানান, দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবায়নকালে নতুন বিষয় উদ্ভূত হয়েছে, যার ফলে অতিরিক্ত খরচের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

প্রকল্পের মোট ব্যয় নভেম্বর ২০২২ পর্যন্ত ৯৯,৪০৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা হয়েছে, যা মোট অনুমোদিত বাজেটের ৭১.৬৮ শতাংশের সমান। এই পরিসংখ্যান নির্দেশ করে যে কাজের অগ্রগতি এখনও পরিকল্পিত সময়ের তুলনায় ধীর।

রূপপুর প্রকল্পের মূল উন্নয়ন পরিকল্পনা (ডিপিপি) জুলাই ২০১৬-এ গৃহীত হয়। তখন শেষের লক্ষ্য ছিল ২০২৪ সালে সম্পন্ন হওয়া। তবে সংশোধিত ডিপিপি অনুযায়ী সম্পন্নের সময়সীমা এখন জুন ২০২৮ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে ইউনিট‑১-এর কমিশনিং কাজ চলছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে সেবা চুক্তি ও খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহের চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে।

নতুন ব্যয়ের জন্য বিদেশি মুদ্রার প্রয়োজন বাড়বে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যালান্সে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া, রাশিয়ার ঠিকাদারের বিদেশি কর্মী বাসস্থানের জন্য নির্মাণাধীন গ্রিননসিটি আবাসিক এলাকার কিছু অসমাপ্ত ভবনও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যয়বৃদ্ধি বিদ্যুৎ খরচে প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ অতিরিক্ত ব্যয় সরকারকে ট্যারিফ সমন্বয় বা অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের দিকে ধাবিত করতে পারে। রাশিয়ার ঋণ সহায়তা বাড়ার ফলে দেশের বহিরাগত ঋণ ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, পরিকল্পনা কমিশনের তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে প্রকল্পের আর্থিক দায়িত্বে অস্বচ্ছতা বাড়তে পারে। তাই সংশোধনী অনুমোদনের পরেও ব্যয়ের সঠিক ব্যবহার ও অগ্রগতির পর্যবেক্ষণ জরুরি।

সারসংক্ষেপে, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি ও সময়সীমা পরিবর্তন দেশের শক্তি নিরাপত্তা ও আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ ও বাজারের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments