১৬ বছর বয়সী এক কিশোরী উত্তর ওয়েল্সের অ্যাবারগেলে বসবাস করেন এবং শীতল তাপমাত্রায় ত্বকে হাইভস ও ফোলাভাবের আক্রমণ অনুভব করেন। ২০২২ সাল থেকে তাপমাত্রা ১২°C (৫৩°F) এর নিচে নেমে এলে তার ত্বকে লালচে দাগ, চুলকানি এবং ফোলাভাব দেখা দেয়। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, তাকে ‘কোল্ড ইউর্টিকারিয়া’ নামে পরিচিত একটি বিরল অ্যালার্জিক রোগ নির্ণয় করা হয়েছে, যা ঠান্ডা সংস্পর্শে ত্বকে অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
এই রোগে ঠান্ডা বাতাস, পানির সংস্পর্শ, অথবা শীতল খাবার ও পানীয়ের সঙ্গে সংস্পর্শে ত্বকে হাইভস, লালচে রঙ এবং চুলকানি দেখা দেয়। রোগীর মতে, সামান্য শীতল হাওয়াও আক্রমণ ঘটাতে পারে, ফলে দৈনন্দিন কাজকর্মে সীমাবদ্ধতা দেখা দেয়। তিনি এ-লেভেল শিক্ষার্থী এবং পার্ট‑টাইম ওয়েট্রেস হিসেবে কাজ করেন, তাই কাজের সময় বা বন্ধুর সঙ্গে আউটডোর পরিকল্পনা প্রায়শই বাধাগ্রস্ত হয়।
রোগের কোনো নিরাময় নেই এবং কিছু রোগীর ক্ষেত্রে অ্যানাফিল্যাকটিক শক পর্যন্ত হতে পারে, তাই রোগী ও তার পরিবার সবসময় সতর্ক থাকে। তার মা ডন জানান, শিশুটিকে দু’বার স্তরে স্তরে পোশাক পরতে বাধ্য করতে হয় এবং বাইরে যাওয়ার সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। এই অতিরিক্ত স্তরবিন্যাস তাকে সামাজিক অনুষ্ঠানে অস্বস্তিকর করে তুলতে পারে।
রোগীর শারীরিক লক্ষণগুলো প্রায়ই মুখ, কান, হাত ও পায়ে দেখা যায়। প্রথমবারের মতো কাজের পরে বাড়ি ফেরার পথে তিনি ত্বকে লালচে দাগ ও চুলকানি অনুভব করেন। তিনি খাবার বাদ দিয়ে দেখেছিলেন যে খাবারই কারণ নয়, তবে পরে একই রকম র্যাশ পুনরায় দেখা দেয়, ফলে তিনি গ্যাসট্রোইনফেকশন সন্দেহ করে ডাক্তারের কাছে যান।
প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে তিনি প্রতি চার সপ্তাহে অ্যান্টিহিস্টামিন ইনজেকশন গ্রহণ শুরু করেছেন। এই চিকিৎসা পদ্ধতি তার লক্ষণগুলোকে হ্রাস করতে সহায়তা করে, যদিও সম্পূর্ণ মুক্তি দেয় না। তিনি আশা করেন, নিয়মিত ইনজেকশন নেওয়ার মাধ্যমে বন্ধুদের সঙ্গে পরিকল্পনা মিস করা কমে যাবে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবেন।
অ্যানাফিল্যাকসিস ইউকে সংস্থা অনুযায়ী, কোল্ড ইউর্টিকারিয়া রোগের সঠিক কারণ এখনও অজানা। রোগের প্রকাশ ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়, ফলে নির্ণয় ও ব্যবস্থাপনা কঠিন হতে পারে। সংস্থার মতে, রোগীর জন্য ঠান্ডা পরিবেশ এড়িয়ে চলা এবং দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে সাঁতার বা অন্যান্য জলের কার্যকলাপের সময় সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
রোগীর দৈনন্দিন জীবনে এই অ্যালার্জি বড় বাধা সৃষ্টি করে। তিনি প্রায়ই লেগিংস বা উল লেয়ার পরিধান করেন, যা তাকে অন্যদের নজরে আনে। তার মতে, এই অতিরিক্ত পোশাকের কারণে তিনি সামাজিক অনুষ্ঠানে অস্বস্তি বোধ করেন এবং আত্মবিশ্বাস কমে যায়। তাছাড়া, শীতল বাতাসে হঠাৎ র্যাশ দেখা দিলে তার মানসিক চাপ বাড়ে।
তার মা ডন জানান, প্রথমে স্থানীয় ডাক্তারেরা রোগের কারণকে বায়ু দূষণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন এবং কোনো ওষুধ নির্ধারণ করেন না। তবে রোগীর অবস্থা ধারাবাহিকভাবে খারাপ হওয়ায় তিনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেন, যার মাধ্যমে কোল্ড ইউর্টিকারিয়া নির্ণয় করা হয়। এরপরই তিনি অ্যান্টিহিস্টামিন ইনজেকশন থেরাপি শুরু করেন।
রোগের প্রভাব কেবল শারীরিক নয়, মানসিকও। রোগী বলেন, তিনি সবসময় ভয় পান যে হঠাৎ শীতল বাতাসে র্যাশ বাড়বে এবং কখনো কখনো



