20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকইরানে মৃত্যুদণ্ডের বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘হুমকি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে

ইরানে মৃত্যুদণ্ডের বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘হুমকি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে

ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউএন সোমবার এক বিবৃতি প্রকাশ করে জানায় যে, ২০২৫ সালে ইরানে মোট ১,৫০০ জনের বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে এবং এই সংখ্যা রাষ্ট্রীয় হুমকি চালানোর একটি সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

ইউএন মানবাধিকার প্রধান ভল্কার টার্ক উল্লেখ করেন, মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপকতা ও গতি নির্দেশ করে যে ইরান একটি পরিকল্পিত পদ্ধতিতে এই শাস্তি ব্যবহার করছে, যার ফলে জাতিগত সংখ্যালঘু ও অভিবাসীদের ওপর অপ্রতুল প্রভাব পড়ছে।

ইরানের এই মৃত্যুদণ্ডের উত্থান, মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, চীনের পর বিশ্বে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দেশ হিসেবে তার অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে এবং ২০২৫ সালে বৈশ্বিক মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহারকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে।

বিশ্বব্যাপী মৃত্যুদণ্ডের বিলুপ্তি দিকে ধাবিত হওয়া প্রবণতা সত্ত্বেও, ইরান ছাড়াও সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো কয়েকটি দেশেই মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা বেড়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করে।

ইউএন উল্লেখ করে যে, ইরানে কার্যকর করা অনেক শাস্তি আন্তর্জাতিক আইনের ‘সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ’ মানদণ্ড পূরণ করে না, এবং শিশু বয়সে অপরাধ করা ব্যক্তিদের ওপরও মৃত্যুদণ্ড আরোপ করা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন।

এছাড়া, মৃত্যুদণ্ডের কার্যকর প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য গোপন রাখা, স্বচ্ছতার অভাবকে আরও তীব্র করে তুলেছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য তদন্তকে কঠিন করে দিয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডের হঠাৎ বৃদ্ধি মূলত মাদক সংক্রান্ত অপরাধের জন্য দেওয়া শাস্তি থেকে উদ্ভূত, যদিও এই অপরাধগুলোতে ইচ্ছাকৃত হত্যার উপাদান নেই। টার্কের মতে, এই ধরনের শাস্তি আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং অপরাধ হ্রাসে কার্যকর নয়।

ইরানে ২০২৫ সালে কার্যকর করা মোট মৃত্যুদণ্ডের অন্তত ৪৭ শতাংশ মাদক অপরাধের জন্য দেওয়া হয়েছে, যা পূর্বের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

সৌদি আরবে একই বছরে ৩৫৬ জনের মধ্যে ৭৮ শতাংশ মাদক সংক্রান্ত অপরাধে শাস্তিপ্রাপ্ত হয়েছে; তদুপরি, অন্তত দুইজনকে শিশুকালে করা অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির সঙ্গে সরাসরি বিরোধপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ সালে ৪৭ জনের ওপর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যা গত ১৬ বছরে সর্বোচ্চ সংখ্যা এবং দেশের অভ্যন্তরে মৃত্যুদণ্ডের পুনরায় উত্থানকে নির্দেশ করে।

ইউএন উল্লেখ করে, মাদক অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার কেবল আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে অসঙ্গতই নয়, বরং অপরাধের প্রতিরোধে কার্যকরীও নয়; গবেষণা দেখায় যে এই ধরনের শাস্তি অপরাধের হার কমাতে কোনো প্রমাণিত প্রভাব রাখে না।

এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রকে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার সীমিত করতে এবং আন্তর্জাতিক আইনের মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শাস্তি প্রণয়ন করতে আহ্বান জানায়।

বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার গোষ্ঠী এই শাস্তি ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধির জন্য চাপ বাড়াচ্ছে, এবং ইউএন ভবিষ্যতে আরও কঠোর পর্যবেক্ষণ ও রিপোর্ট প্রকাশের পরিকল্পনা করছে, যাতে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।

অবশেষে, ইরানের মৃত্যুদণ্ডের বৃদ্ধি কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার চ্যালেঞ্জই নয়, বরং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে; তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments