চট্টগ্রাম বিভাগের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে সোমবার বিকেল প্রায় ৩ টায় সন্ত্রাসী গুলিবর্ষণ ঘটায় র্যাবের এক সদস্যের মৃত্যু এবং তিনজন সহকর্মীর গুরুতর আঘাত। ঘটনাস্থল ১০ নম্বর সলিমপুর ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে র্যাব-৭ দল একটি অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে অংশগ্রহণ করছিল। গুলিবর্ষণের ফলে র্যাবের সদস্য ডিআইডি মোতালেবের মৃত্যু হয়, অন্য তিনজন র্যাব কর্মী – ল্যান্স নায়েক ইমাম, নায়েক আরিফ এবং কনস্টেবল রিফাত – চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
র্যাব-৭ের দলটি জঙ্গল সলিমপুরে অবৈধভাবে গড়ে তোলা সন্ত্রাসী আশ্রয়ের কাছাকাছি পৌঁছানোর সময় সন্ত্রাসীরা হঠাৎ গুলিবর্ষণ শুরু করে। র্যাব সদস্যরা আত্মরক্ষার স্বার্থে পাল্টা গুলি চালায়, ফলে দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র গুলিবর্ষণ হয়। গুলিবর্ষণের পর র্যাবের চারজন সদস্যকে তৎক্ষণাৎ স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তারা উন্নত চিকিৎসা পাচ্ছেন।
আহতদের মধ্যে ডিআইডি মোতালেব হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে শেষমেশ প্রাণ হারান। বাকি তিনজন র্যাব কর্মী – ল্যান্স নায়েক ইমাম, নায়েক আরিফ ও কনস্টেবল রিফাত – বর্তমানে একই হাসপাতালে তীব্র পর্যবেক্ষণে আছেন এবং চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের আঘাতের মাত্রা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে, তবে চিকিৎসা অবস্থা স্থিতিশীল।
সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে কোনো মৃত্যুর বা আঘাতের তথ্য পাওয়া যায়নি, এবং আক্রমণের পর তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য প্রকাশিত হয়নি। স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, সন্ত্রাসীরা দ্রুতই ঘটনাস্থল থেকে সরে গিয়েছিল এবং তৎক্ষণাৎ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসিরা মো. মহিনুল ইসলাম ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এই অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্র ও গোপন আশ্রয়স্থল ধ্বংসের জন্য ত্বরিত পদক্ষেপ নেবে।
র্যাব এবং স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহের জন্য ফরেনসিক দল পাঠিয়েছে। গুলিবর্ষণের সময় ব্যবহৃত অস্ত্র, গুলি এবং অন্যান্য সামগ্রী সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হবে, যাতে আক্রমণকারীদের সনাক্ত করা যায়। একই সঙ্গে, র্যাবের অভ্যন্তরীণ তদন্ত বিভাগ ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রস্তুত করছে এবং সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, র্যাবের শিকারের ওপর ভিত্তি করে একটি অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও অস্ত্র অপরাধ সংক্রান্ত ধারা অনুযায়ী কঠোর শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী, যদি সন্দেহভাজনরা ধরা পড়ে, তবে তারা আদালতে উপস্থিত হয়ে তাদের অপরাধের পূর্ণ দায়িত্ব স্বীকার করতে হবে।
এই ঘটনার পর নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সীতাকুণ্ডের অন্যান্য সন্দেহজনক স্থানে অতিরিক্ত নজরদারি বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে জঙ্গল সলিমপুরের আশেপাশে অবৈধ গঠন ও অস্ত্র সংরক্ষণের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। র্যাবের উচ্চতর কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কার্যক্রম দমন করতে এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত অভিযান চালিয়ে যাবে।
সর্বশেষে, র্যাব এবং পুলিশ উভয়ই ঘটনাটির সম্পূর্ণ তদন্তের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং জনগণকে আশ্বস্ত করেছে যে, সন্ত্রাসী হুমকির মোকাবেলায় কোনো অবহেলা করা হবে না। ভবিষ্যতে এ ধরনের আক্রমণ রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



