20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধচট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে র‌্যাব‑৭ কর্মকর্তা গুলিবর্ষণে নিহত, চারজন গুরুতর আহত

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে র‌্যাব‑৭ কর্মকর্তা গুলিবর্ষণে নিহত, চারজন গুরুতর আহত

রাত আটটায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া র‌্যাব‑৭ এর সহকারী পরিচালক নাম আব্দুল মোতালেব গুলিবর্ষণের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। একই সময়ে চারজন র‌্যাব সদস্য গুরুতর আঘাতে আহত হন।

নাম আব্দুল মোতালেব র‌্যাব‑৭ এর উপসহকারী পরিচালক পদে কর্মরত ছিলেন এবং র‌্যাবের অস্ত্র পুনরুদ্ধার ও অবৈধ অস্ত্রের ধ্বংস কাজের দায়িত্বে ছিলেন। তার সঙ্গে অন্য তিনজন সহকর্মীও অভিযানে অংশ নেন।

অভিযানের সময় জঙ্গল সলিমপুরের অগোছালো পাহাড়ি এলাকায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হঠাৎ গুলি চালায়। গুলিবর্ষণে মোতালেবের সঙ্গে থাকা র‌্যাব সদস্যদের ওপর সরাসরি আঘাত হানে এবং একজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়। বাকি তিনজনকে তৎক্ষণাৎ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তারা গুরুতর অবস্থায় ভর্তি।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক আহসান হাবিব পলাশ রাত্রি আটটায় ঘটনাটি জানিয়ে বলেন, র‌্যাবের ডিএডি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা গুলিবর্ষণে নিহত হয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অভিযানের সময় সন্ত্রাসীরা র‌্যাবের সদস্যদের ওপর হঠাৎ আক্রমণ চালায়।

র‌্যাব‑৭ এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) আরএম মোজাফফর হোসেন রাত্রি সাড়ে আটটায় মিডিয়াকে জানিয়ে জানান, জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চলাকালীন সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণে র‌্যাব সদস্যরা শিকার হয়েছে। এতে চারজন গুরুতর আহত, যার মধ্যে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বাকি তিনজনের চিকিৎসা চলমান।

জঙ্গল সলিমপুর চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বস্তামি থেকে দুই কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত, এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটির বিপরীত দিকে লিংক রোডের উত্তর পাশে ৩,১০০ একর বিস্তীর্ণ একটি পাহাড়ি এলাকা। যদিও সীতাকুণ্ডের অধীনে হলেও এটি নগরের কেন্দ্রে কাছাকাছি বলে স্থানীয় বাসিন্দা এটিকে শহরের এক অংশ হিসেবে গণ্য করে।

এই অঞ্চলকে দীর্ঘদিন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গত বছরের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তনের পর থেকে জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনা বাড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে দখল নিয়ে দুই দিকের গুলিবর্ষণ ঘটে, যার ফলে একজন নিহত হয় এবং পরদিন দুইজন সাংবাদিককে সন্ত্রাসীদের আক্রমণ ও মারধরের শিকার হতে দেখা যায়।

অঞ্চলে অবৈধ বসতি গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া চার দশক ধরে অব্যাহত। পাহাড় কেটে গিয়ে হাজার হাজার অবৈধ প্লট বিক্রি হয় এবং এই জমি দখল রাখতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি বাড়ে। ফলে এলাকায় সার্বক্ষণিক সশস্ত্র পাহারা বজায় থাকে, যা স্থানীয় জনগণের চলাচলকে কঠিন করে তুলেছে।

ঘটনাস্থলে তদন্তের দায়িত্ব পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ টাস্ক ফোর্সের ওপর। ঘটনাস্থল থেকে গুলি-চিহ্ন, গুলি-ধ্বংসাবশেষ এবং মৃতদেহের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনি ধারা অনুযায়ী অপরাধী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি আরোপের জন্য ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে। তদন্তের ফলাফল আদালতে উপস্থাপন করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট পাবেন।

র‌্যাবের এই ক্ষতি নিরাপত্তা সংস্থার জন্য বড় ধাক্কা, তবে কর্তৃপক্ষ জঙ্গল সলিমপুরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুনরায় মূল্যায়ন করে অতিরিক্ত সশস্ত্র বাহিনীর মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে। স্থানীয় প্রশাসনও অবৈধ বসতি ও জমি দখল বন্ধ করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন হামলা রোধ করা যায়।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments