19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকইরান ও বলিভিয়া ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের ভিসা-ফ্রি সুবিধা বাতিল

ইরান ও বলিভিয়া ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের ভিসা-ফ্রি সুবিধা বাতিল

ইরান ও বলিভিয়া দুই দেশই ভারতীয় নাগরিকদের জন্য পূর্বে প্রদান করা ভিসা-ফ্রি প্রবেশের সুবিধা শেষ করেছে। ইরানে ২২ নভেম্বর ২০২৫ থেকে সাধারণ পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা-মুক্ত প্রবেশ স্থগিত করা হয়েছে, আর বলিভিয়ায় এখন ই-ভিসা বাধ্যতামূলক।

২০২৬ সালের হেনলি পাসপোর্ট সূচক অনুযায়ী ভারতের পাসপোর্টের র‍্যাঙ্ক ৮৫ থেকে উন্নীত হয়ে ৮০ নম্বরে উঠে এসেছে। র‍্যাঙ্কিং উন্নতি সত্ত্বেও দুটি দেশের সিদ্ধান্ত ভ্রমণ নীতি পরিবর্তনের দিকে ইঙ্গিত করে।

ইরানে এখন সব ধরনের ভ্রমণ, ট্রানজিটসহ, পূর্বে ভিসা না নিয়ে প্রবেশের সুযোগ নেই। ভারতীয় নাগরিকদেরকে ইরানের দূতাবাসে অথবা অনলাইন পোর্টালে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে, এবং অনুমোদন পাওয়ার পরই দেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে।

এই কঠোর পদক্ষেপের পেছনে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে প্রকাশিত এক সিরিজ ঘটনা রয়েছে। ভারতীয় কর্মী ও শিক্ষার্থীদেরকে ইরানে চাকরি বা উচ্চশিক্ষার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাঠানো হয়, এবং সেখানে পৌঁছানোর পর তাদেরকে অপহরণ করে মুক্তিপণ চাওয়া হয়। এই ঘটনার ফলে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ে।

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে জানিয়েছিল যে, ভিসা-অনুমোদন ব্যবস্থা ব্যবহার করে কিছু ভারতীয়কে ভ্রমণ করানো হয়েছিল, যা পরে অপহরণ ও মানবিক শোষণের শিকার হয়। একই মাসের ২২ তারিখে ইরান সরকার ভিসা-মুক্ত প্রবেশ স্থগিতের আনুষ্ঠানিক নোটিশ প্রকাশ করে।

বর্তমানে ইরানে ভ্রমণ পরিকল্পনা করা যেকোনো ভারতীয়কে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়ায় পাসপোর্টের স্ক্যান, ফটো, এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্য উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। অনুমোদন পেলে ইলেকট্রনিক ভিসা ইমেইল মাধ্যমে পাঠানো হয়, যা আগমনের সময় দেখাতে হবে।

ইরানের কর্তৃপক্ষ ভিসা-ফ্রি ট্রানজিটের প্রতিশ্রুতি দেয়া এজেন্টদের থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে যে, অবৈধ এজেন্টদের মাধ্যমে ভ্রমণ করলে অতিরিক্ত ঝুঁকি ও আইনি জটিলতা দেখা দিতে পারে।

ভিসা-ফ্রি প্রবেশের অর্থ হলো, ভ্রমণের পূর্বে ভিসা আবেদন না করেই স্বল্পমেয়াদি অবস্থানের অনুমতি পাওয়া। এই ব্যবস্থা সাধারণত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি, পর্যটন নীতি, অথবা নিরাপত্তা সমঝোতার ভিত্তিতে গৃহীত হয়।

লাতিন আমেরিকার বলিভিয়া এখন ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের জন্য ই-ভিসা প্রয়োজনীয়তা আরোপ করেছে। অনলাইন ফর্ম পূরণ, প্রয়োজনীয় নথি আপলোড, এবং ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সম্পন্ন করার পর ভিসা অনুমোদন ইমেইলে পাঠানো হয়, যা আগমনের সময় দেখাতে হবে।

ই-ভিসা প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীকে পাসপোর্টের স্ক্যান, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্য উল্লেখ করতে হয়। ফি পরিশোধের পর সাধারণত ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অনুমোদন হয়, তবে উচ্চ পর্যটন মৌসুমে সময় বাড়তে পারে।

বলিভিয়া ২০২৫ সালে ভারতীয় পর্যটকদের জন্য ভিসা-অন-অ্যারাইভাল সুবিধা প্রদান করেছিল, যা স্বল্প সময়ের জন্য কার্যকর ছিল। তবে নিরাপত্তা ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে দেশটি এখন ই-ভিসা পদ্ধতিতে রূপান্তরিত হয়েছে।

দুই দেশের সিদ্ধান্তকে আঞ্চলিক কূটনৈতিক প্রবণতার অংশ হিসেবে দেখা যায়। ইরান-ভারত সম্পর্কের সাম্প্রতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বিষয়ক উদ্বেগ, ভিসা নীতিতে প্রভাব ফেলেছে। একই সময়ে, বলিভিয়া দক্ষিণ আমেরিকায় পর্যটন নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ই-ভিসা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে, ভবিষ্যতে ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা নীতি আরও কঠোর হতে পারে, বিশেষ করে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়লে। তবে হেনলি সূচকে র‍্যাঙ্ক উন্নয়নের ফলে কিছু দেশ এখনও ভিসা-ফ্রি সুবিধা বজায় রাখতে পারে। পরবর্তী মাসে ভারতীয় কূটনীতিকরা উভয় দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সম্ভাব্য নরমীকরণের পথ অনুসন্ধান করতে পারেন।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments