27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইরানীয় দূতাবাসে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা ও যুক্তরাষ্ট্র‑ইসরায়েল হস্তক্ষেপের অভিযোগ

ইরানীয় দূতাবাসে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা ও যুক্তরাষ্ট্র‑ইসরায়েল হস্তক্ষেপের অভিযোগ

ঢাকার ইরান দূতাবাসে সোমবার সকালে ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রহিমি জাহনাবাদি নিরাপত্তা বাহিনীর সক্রিয় প্রতিরোধের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, যদি পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আক্রমণকে থামাতে না পারত, তবে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে নষ্ট হতে পারত।

দূতাবাসে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ইরানের জনগণের ওপর যে কষ্টের সৃষ্টি করেছে, তা উল্লেখ করেন। এই নিষেধাজ্ঞা থেকে উদ্ভূত অর্থনৈতিক সংকটের ফলে ২৮ ডিসেম্বর থেকে একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ শুরু হয়।

প্রথম তিন দিন আন্দোলন সম্পূর্ণভাবে নির্ভীক ও শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে ৭ জানুয়ারি থেকে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হয়। ঐ দিন থেকে প্রতিবাদকারীরা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে মিলে সহিংস রূপ নেয়, যা পূর্বের শান্তিপূর্ণ স্বভাবকে বদলে দেয়।

সহিংসতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদকারীরা হাসপাতাল, দোকান এবং অন্যান্য জনসাধারণের স্থানে আক্রমণ চালায়। তারা দোকানদারদের বাধ্য করে আন্দোলনে অংশ নিতে এবং হাসপাতাল ও অ্যাম্বুলেন্সে হামলা করে, যা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলে।

৮ জানুয়ারি পর থেকে সশস্ত্র উপাদানগুলো আন্দোলনের মধ্যে প্রবেশ করে, ফলে নিরাপত্তা বাহিনীর কাজের পরিধি বাড়ে। পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থা প্রতিটি রাস্তায় সংঘটিত সহিংসতার মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

দূত জাহনাবাদি যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সরাসরি হস্তক্ষেপের অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, এই দুই সংস্থার আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রমাণ যথেষ্ট এবং তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃত।

এছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের টুইট এবং অন্যান্য প্রকাশ্য মন্তব্যগুলোও আন্দোলনের দিকে নির্দেশনা দেওয়ার ইঙ্গিত বহন করে। এই ধরনের প্রকাশ্য সমর্থনকে তিনি সিআইএ ও মোসাদের কৌশলগত নির্দেশনা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

দূতাবাসে আলোচিত আরেকটি বিষয় ছিল গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধ। জাহনাবাদি দাবি করেন, ইরান সেই যুদ্ধের ফলে বিজয়ী হয়েছে এবং ইসরায়েলকে পরবর্তীতে পুনরায় সংঘাতে টেনে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, যুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে নানা কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার লক্ষ্য ইরানকে নত করা। এই প্রচেষ্টাগুলোকে তিনি ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সরাসরি হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করেন।

দূতাবাসে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরেও তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর দৃঢ় প্রতিরোধই দেশের নিরাপত্তা বজায় রাখার মূল চাবিকাঠি। তিনি যুক্তি দেন, যদি এই সংস্থাগুলো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আক্রমণকে থামাতে ব্যর্থ হত, তবে দেশের অভ্যন্তরে বিশাল ধ্বংসযজ্ঞ ঘটতে পারত।

দূতাবাসের এই মন্তব্যগুলো বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ইরান-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক বিষয়গুলোতে এই ধরনের প্রকাশনা ভবিষ্যতে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ইরানের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ ও যুক্তরাষ্ট্র‑ইসরায়েল হস্তক্ষেপের অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে দুদেশের কূটনৈতিক আলোচনায় নতুন দিকনির্দেশনা গড়ে উঠতে পারে।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি ইরান এই ধরনের অভিযোগকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরে, তবে তা তার কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে। অন্যদিকে, বাংলাদেশে এই বিষয়গুলো নিয়ে জনমত গঠনে সময় লাগবে, কারণ দেশীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিলতা এখনও সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ পায়নি।

সামগ্রিকভাবে, জালিল রহিমি জাহনাবাদীর বক্তব্য ইরানের নিরাপত্তা সংস্থার কার্যকারিতা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ, এবং গত বছরের যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করে। ভবিষ্যতে এই বিষয়গুলো কীভাবে বিকাশ পাবে, তা আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রাজনীতির গতিপথের ওপর নির্ভরশীল।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments