ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ নির্বাচনী এলাকার স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, শো-কার্স নোটিশ প্রাপ্তির পর স্থানীয় প্রশাসনের ন্যায়পরায়ণতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জানান, বর্তমান নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সমান সুযোগের অভাব রয়েছে।
শো-কার্স নোটিশটি তার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জারি করা হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, শনিবার বিকেল ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে তিনি স্যারাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদে প্রায় চার-ছয় শত মানুষের সামনে একটি র্যালি পরিচালনা করেন। একই সময়ে মোবাইল কোর্টের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সমাবেশটি অবিলম্বে বন্ধ করার আদেশ দেন, যার পর রুমিন ফারহানা ‘অহংকারী’ ও ‘অশ্রদ্ধাশীল’ আচরণ করে বিভিন্ন হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রার্থী রুমিন ফারহানা প্রেস ক্লাবে উল্লেখ করেন, তিনি কোনো অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করেননি; বরং তিনি পূর্বে আশুগঞ্জের বিএনপি জেনারেল সেক্রেটারির অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির দিকে ইঙ্গিত করছিলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “একটি ইতিমধ্যে পক্ষপাতদুষ্ট প্রশাসনের অধীনে কীভাবে নির্বাচন লড়াই করা সম্ভব?”
প্রতিদ্বন্দ্বীদের সম্পর্কে তিনি অভিযোগ করেন, অন্য প্রার্থীরা শোকসভা নামে সমাবেশ করে মাইক্রোফোন, মঞ্চ ও গরু কসাইয়ের ব্যবস্থা করে, এবং তার বিরুদ্ধে অশ্লীল মন্তব্য করে। তবে এ সকল কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যা তিনি প্রশাসনের দ্বিমুখী আচরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
শো-কার্স নোটিশের কপি তিনি ফেসবুকের মাধ্যমে পেয়েছেন এবং তার আইনজীবী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে উত্তর দেবেন। তিনি আরও যুক্তি দেন, নির্বাচনী প্রচারণার আনুষ্ঠানিক সূচনা হওয়ার আগে এই ধরনের নোটিশ জারি করা নির্বাচনী আচরণবিধির বিরোধী।
নোটিশে উল্লেখিত র্যালির সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং সমাবেশের অব্যাহত রাখার জন্য আদেশ অমান্য করার অভিযোগে তাকে ‘অহংকারী’ ও ‘অশ্রদ্ধাশীল’ বলা হয়েছে। রুমিন ফারহানা এই অভিযোগকে অস্বীকার করে, তার আচরণকে শান্তিপূর্ণ ও আইনি হিসেবে উপস্থাপন করেন।
অতীতের ৫ আগস্টের ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে তিনি প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে আহ্বান জানান, “একজন প্রার্থনার প্রতি এক চোখ, অন্যের প্রতি অন্য চোখ না দিয়ে সমানভাবে কাজ করুন। ন্যায়পরায়ণতা না থাকলে, ৫ আগস্টের মতো ঘটনা আবারও ঘটতে পারে।”
এই বিবৃতি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার জন্য আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে। রুমিন ফারহানা তার আইনজীবীর মাধ্যমে নোটিশের বৈধতা ও প্রয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যা নির্বাচনী আদালতে আলোচনার বিষয় হতে পারে।
প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এবং শো-কার্স নোটিশের বৈধতা নিয়ে চলমান বিতর্কের ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব পড়তে পারে। যদি আদালত নোটিশকে অবৈধ ঘোষণা করে, তবে রুমিন ফারহানা তার প্রচারণা অব্যাহত রাখতে পারবেন এবং অন্যান্য প্রার্থীদের ওপর সমান দায়িত্ব আরোপের দাবি বাড়বে। অন্যদিকে, নোটিশের বৈধতা নিশ্চিত হলে তার প্রচারণা সীমাবদ্ধ হতে পারে, যা নির্বাচনী সমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সম্ভাবনা বাড়াবে।
সারসংক্ষেপে, রুমিন ফারহানা শো-কার্স নোটিশের পর প্রশাসনের ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যৎ আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ নির্বাচনের গতি-প্রকৃতিকে প্রভাবিত করতে পারে।



