22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিকুষ্টিয়ায় সমাবেশে বক্তব্যের সময় জেলা জামায়াতের আমিরের মৃত্যু

কুষ্টিয়ায় সমাবেশে বক্তব্যের সময় জেলা জামায়াতের আমিরের মৃত্যু

কুষ্টিয়া জেলার এন.এস রোডে বিকাল চারটার দিকে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবুল হাশেম হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে নেওয়া মাত্রই চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হাশেমের মৃত্যু স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে শক সৃষ্টি করেছে, কারণ তিনি একই দিনে জামায়াতের প্রার্থী হামজা ঘোষিত হুমকির প্রতিবাদে মিছিলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। ঘটনাটি সোমবার বিকেল প্রায় তিনটায় পৌরসভা চত্বর থেকে শুরু হয়ে একতারা মোড়ে শেষ হয়, যেখানে তিনি শেষ মুহূর্তে ভাষণ দিচ্ছিলেন।

মাওলানা আবুল হাশেমের জন্ম কুষ্টিয়া জেলার ভেরামারা উপজেলার গোলাপনগর গ্রামে, এবং তিনি মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। তার শিক্ষাগত পটভূমি ও ধর্মীয় নেতৃত্বের সমন্বয় তাকে স্থানীয় জনগণের মধ্যে বিশেষ মর্যাদা এনে দিয়েছে, যা জামায়াতের সংগঠনে তার ভূমিকা শক্তিশালী করেছে। হাশেমের পরিবার এবং সমর্থকরা তার আকস্মিক মৃত্যুর শোক প্রকাশ করে, একই সঙ্গে তার রাজনৈতিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানায়।

দলীয় সূত্র অনুযায়ী, গতকাল রোববার কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে জামায়াতের প্রার্থী হামজা ফেসবুকে পোস্ট করে জানিয়েছিলেন যে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই হুমকির প্রতিক্রিয়ায় জামায়াতের স্থানীয় শাখা আজ বিকেলে সমাবেশের আয়োজন করে, যেখানে হাশেম মিছিলের প্রধান নেতা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশের সময় তিনি জনগণের সামনে জামায়াতের রাজনৈতিক লক্ষ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ তুলে ধরছিলেন, যা তার মৃত্যুর পূর্বে শেষ বক্তৃতা ছিল।

হাশেমের মৃত্যু জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সুজা উদ্দীন জোয়ার্দ্দার দ্বারা নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি কাঁদতে কাঁদতে জানিয়েছেন, “আমির আর নেই,” এবং হাশেমের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে সমাবেশের অংশগ্রহণকারীদের শোক প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন। জোয়ার্দ্দার এছাড়াও উল্লেখ করেছেন যে হাশেমের আকস্মিক মৃত্যু সমাবেশকে অবিলম্বে স্থগিত করতে বাধ্য করেছে।

সমাবেশের লাইভ সম্প্রচার ফেসবুকে চলছিল, যেখানে হাশেমের অচেতন হওয়ার মুহূর্তটি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। ক্যামেরা শটে দেখা যায়, হাশেমের মুখে হঠাৎ শ্বাসকষ্টের চিহ্ন দেখা দেয় এবং তিনি মাটিতে ঢলে পড়েন। পাশে থাকা নেতা ও কর্মীরা দ্রুত তাকে ধরেন এবং অটোরিকশায় করে নিকটস্থ একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসক দ্রুত তার অবস্থা পরীক্ষা করে মৃত্যুর ঘোষণা দেন।

হাশেমের আকস্মিক মৃত্যুর পর জামায়াতের ফেসবুক পেজে জানানো হয়েছে যে, আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে চাঁদাগাড়া মাঠে এবং পরে মিরপুর উপজেলা ফুটবল মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তার দেহকে কবরস্থানে সমাহিত করা হবে, এবং সমাবেশে অংশগ্রহণকারী সকলকে শোকের সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে, হাশেমের মৃত্যু জামায়াতের কুষ্টিয়া-৩ আসনের নির্বাচনী প্রচারণায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। হাশেমের নেতৃত্বে সংগঠিত সমাবেশটি স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করছিল, এবং তার অচেনা মৃত্যুর ফলে জামায়াতের সংগঠনের কাঠামো ও কৌশলে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে দলটি ইতিমধ্যে বিকল্প নেতৃত্বের ব্যবস্থা করে চলেছে, যা নির্বাচনের সময় তার প্রভাবকে সীমিত করতে পারে।

হাশেমের পরিবার এবং সমর্থকরা তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করেননি, তবে স্থানীয় সূত্রে বলা হচ্ছে যে হঠাৎ হৃদরোগের আক্রমণ হতে পারে। তার পরিবার এখন শোকের মধ্যে আছে এবং সমাবেশে উপস্থিত সকলকে তার স্মরণে প্রার্থনা করার অনুরোধ জানাচ্ছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, জামায়াতের অন্যান্য শাখা ও সমর্থকরা হাশেমের মৃত্যুর পর তার রাজনৈতিক পরিকল্পনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য একত্রিত হয়েছে। তারা হাশেমের আদর্শকে বজায় রেখে কুষ্টিয়া-৩ আসনে তার প্রার্থীকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই সিদ্ধান্তটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জামায়াতের অবস্থানকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষে, কুষ্টিয়া জেলার রাজনৈতিক পরিবেশে হাশেমের আকস্মিক মৃত্যু একটি শোকের মুহূর্ত হিসেবে রয়ে গেছে, তবে জামায়াতের সংগঠন দ্রুতই তার পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে মনোনিবেশ করেছে, যাতে নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় তার প্রভাব বজায় থাকে।

১০০/১০০ ২টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলোডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments