যশোরের জেলা কালেক্টরেট চত্বরে সোমবার বিকেলে গণভোটের ব্যাপারে জনসচেতনতা বাড়াতে মক ভোটিং অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। অনুষ্ঠানে সমাজ কল্যাণ ও মহিলা‑শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি গণভোটকে নতুন বাংলাদেশ ও নতুন ব্যবস্থার সূচনা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
শারমিন উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, গণভোটের মাধ্যমে সব রাজনৈতিক দলকে গণতান্ত্রিক পথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সমর্থন প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর স্বার্থও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত, তাই তাদেরও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দাঁড়ানো উচিত।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বেলুন ও ফেস্টুন দিয়ে সাজানো মঞ্চে গণভোটের প্রতীকী চিত্রায়ন করা হয়। শারমিন উপদেষ্টা এই সাজসজ্জা সমাপ্তির পর মক ভোটিংয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে নিজে ভোট দেন। তার ভোটদানকে সমর্থন জানিয়ে উপস্থিত কর্মকর্তারা তালি দেন।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, সিনিয়র নির্বাচন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম এবং জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা সকলেই গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে, জনসাধারণের অংশগ্রহণ বাড়াতে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি জানান।
মক ভোটিংয়ের আগে শারমিন উপদেষ্টা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। আলোচনায় গণভোটের লক্ষ্য, প্রক্রিয়া এবং সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে মতবিনিময় হয়। তিনি উল্লেখ করেন, যদি রাজনৈতিক দলগুলো গণ-অভ্যুত্থানকে সম্মান করে, ত্যাগ করা তরুণ-তরুণীর স্মরণ করে এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে ধারণ করে, তবে তারা স্বাভাবিকভাবেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে থাকবে।
শারমিনের বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণভোটের সফলতা নির্ভর করে সকল স্তরের সমর্থন ও অংশগ্রহণের ওপর। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানের সময় উপস্থিত কর্মকর্তারা গণভোটের আইনগত কাঠামো ও নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানের বিষয়েও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দেন। তারা নিশ্চিত করেন, মক ভোটিং শুধুমাত্র সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য, আসল ভোটিং প্রক্রিয়া নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হবে।
মক ভোটিংয়ের পর শারমিন উপদেষ্টা অংশগ্রহণকারী নাগরিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথোপকথন করেন। তিনি তাদেরকে গণভোটের গুরুত্ব ও দেশের উন্নয়নে এর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে জানিয়ে দেন। অংশগ্রহণকারীরা তার বক্তব্যে সম্মতি জানিয়ে, গণভোটে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার গণভোটের প্রতি জনমত গঠন করতে চায়, যাতে আসন্ন ভোটে ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। শারমিনের সমর্থন বিশেষ করে সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদি প্রধান দলগুলো ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে একমত হয়, তবে গণভোটের ফলাফল সরকারী নীতি ও সংস্কারকে ত্বরান্বিত করতে পারে। অন্যদিকে, কোনো বিরোধী দলের আপত্তি হলে রাজনৈতিক বিতর্ক বাড়তে পারে, যা ভোটের পরিসরে প্রভাব ফেলতে পারে।
শারমিনের মন্তব্যের পর, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান একটি সংক্ষিপ্ত সমাপনী বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, গণভোটের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য এবং সকল স্তরের সমর্থন এই প্রক্রিয়াকে সফল করবে।
মক ভোটিংয়ের সমাপ্তি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত সকলের মধ্যে গণভোটের প্রতি ইতিবাচক মনোভাবের প্রতিফলন দেখা যায়। সরকার এই ধরনের সচেতনতা কর্মসূচি চালিয়ে যাবে, যাতে ভোটারদের মধ্যে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
গণভোটের আনুষ্ঠানিক তারিখ ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও তথ্য নির্বাচন কমিশন শীঘ্রই প্রকাশ করবে, এবং সকল রাজনৈতিক দলকে এই সময়সূচি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে গণভোটের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।



