19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাআইডিআরএ ঘোষিত ইন্স্যুরেন্স এক্সেলেন্ট অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ বিজয়ী তালিকা প্রকাশ

আইডিআরএ ঘোষিত ইন্স্যুরেন্স এক্সেলেন্ট অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ বিজয়ী তালিকা প্রকাশ

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) আজ ইন্স্যুরেন্স এক্সেলেন্ট অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ এর বিজয়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম প্রকাশ করেছে। এই পুরস্কার প্রথমবারের মতো প্রদান করা হয়েছে এবং বীমা খাতের সামগ্রিক পারফরম্যান্স, সেবা মান, শাসনব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রক মানদণ্ডের অনুসরণকে ভিত্তি করে নির্বাচন করা হয়েছে।

আইডিআরএ উল্লেখ করেছে যে, এই পুরস্কারটি জনসাধারণের বীমা শিল্পের প্রতি আস্থা বাড়াতে এবং সেক্টরের ইতিবাচক চিত্র গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা এবং গ্রাহক বিশ্বাস অর্জনের সুযোগ মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জীবন বীমা বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছে মেটলাইফ বাংলাদেশ, যা তার সেবা গুণমান এবং আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য স্বীকৃত। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, তৃতীয় স্থানে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, চতুর্থ স্থানে জীবন বীমা কর্পোরেশন এবং পঞ্চম স্থানে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স সমবেতভাবে তালিকাভুক্ত হয়েছে।

অ-জীবন বীমা ক্ষেত্রে প্রগতি ইন্স্যুরেন্স শীর্ষে রয়েছে, এরপর রয়েছে সাধারণ বীমা কর্পোরেশন, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স এবং গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স যথাক্রমে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে। পঞ্চম স্থানে ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স, সেবা ইন্স্যুরেন্স এবং ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি সমবেতভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

ইয়ুলাই ২০২৫-এ আইডিআরএ ৩২টি কোম্পানিকে “ঝুঁকি” শ্রেণিতে তালিকাভুক্ত করেছে, যেখানে দুর্বল শাসনব্যবস্থা ও আর্থিক অস্থিতিশীলতা প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই তালিকায় ১৫টি জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানকে “উচ্চ ঝুঁকি” এবং “অবিকল্য” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, আর ১৭টি অ-জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানকে “ঝুঁকিপূর্ণ” হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে মোট ৩৬টি জীবন বীমা কোম্পানি এবং ৪৬টি অ-জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালাচ্ছে। ঝুঁকি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সংখ্যা বাজারের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রশ্ন তুলেছে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার তত্ত্বাবধান বাড়ানোর সম্ভাবনা নির্দেশ করে।

বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে গ্রাহক সন্তুষ্টি ও পণ্য উদ্ভাবনে আরও বিনিয়োগ করতে হবে, যাতে তারা প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা বজায় রাখতে পারে। একই সঙ্গে, ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানিগুলোর জন্য শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং আর্থিক কাঠামো মজবুত করা জরুরি, যাতে সেক্টরের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয়।

আইডিআরএর এই উদ্যোগ বীমা শিল্পের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়াতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পুরস্কারপ্রাপ্তদের সাফল্য অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মানদণ্ড স্থাপন করবে এবং সেবার মান উন্নয়নে উদ্দীপনা দেবে।

অন্যদিকে, ঝুঁকি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য নিয়ন্ত্রক শাস্তি ও সংশোধনী পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হতে পারে, যা তাদের আর্থিক পুনর্গঠন ও শাসনব্যবস্থা উন্নয়নে বাধ্য করবে। এই প্রক্রিয়া বীমা গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় এবং বাজারের স্বচ্ছতা বাড়াতে সহায়তা করবে।

বীমা শিল্পের ভবিষ্যৎ দৃষ্টিতে, আইডিআরএর এই পুরস্কার ও ঝুঁকি মূল্যায়ন দুটোই সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলে আশা করা যায়। উচ্চমানের সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বাজার শেয়ার বাড়াবে, আর দুর্বল শাসনব্যবস্থা সম্পন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠন বা বাজার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

সারসংক্ষেপে, আইডিআরএর এই ঘোষণায় বীমা খাতের উন্নয়নের দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হয়েছে। পুরস্কারপ্রাপ্তদের সাফল্য শিল্পের মানদণ্ড উঁচু করবে, আর ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপ বাজারের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য হবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments