জাতীয় সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) সমাবেশের প্রধান ন্যাহিদ ইসলাম আজ ঢাকা জামুনা হোটেলে চিফ অ্যাডভাইজারের সঙ্গে বৈঠকের পর একটি সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেছেন, ২০০৮ সালের মতো ‘ইঞ্জিনিয়ারড’ নির্বাচন কোনোভাবেই সফল হবে না এবং আসন্ন ভোটের পদ্ধতি ১৯৯১ সালের নির্বাচনের মডেল অনুসরণ করতে হবে।
ন্যাহিদের বক্তব্যের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শেষ তিনটি নির্বাচনের ফলাফলকে ‘সেটলড’ বা নির্ধারিত বলে বিবেচনা করা জনগণের ভোটাধিকারকে অবহেলা করার সমান এবং তা কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থে করা উচিত নয়।
বক্তব্যের সময় ন্যাহিদ স্পষ্ট করে জানান, যদি নির্বাচনকে ন্যায্য পরিবেশে পরিচালনা করা হয়, তবে ফলাফল নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকবে না। তবে কোনো পরিকল্পনা যদি নির্বাচনকে ‘ইঞ্জিনিয়ার’ করার দিকে ঝুঁকে থাকে, তবে তা ব্যর্থ হবে এবং তা প্রতিহত করা হবে।
তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, ১৯৯১ সালের নির্বাচনকে মডেল হিসেবে গ্রহণ করা জরুরি, কারণ সেই সময়ের প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। এই মডেল অনুসরণ না করা হলে, নির্বাচনের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে এবং জনমতকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
ন্যাহিদ সব সংশ্লিষ্ট পক্ষ ও নির্বাচনী সংগঠকদের আহ্বান জানান, এমন কোনো শর্ত তৈরি না করা যা তার পার্টি ও জোটকে বিকল্প পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করবে। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম বা হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকলে, এনসিপি ও তার জোটের সদস্যরা সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেবে।
এই সিদ্ধান্তের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে নির্বাচন কমিশনের অফিসের সামনে প্রতিবাদসূচক মার্চে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা। ন্যাহিদের মতে, এমন পদক্ষেপের মাধ্যমে জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করা হবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যাবে।
প্রেস কনফারেন্সে তিনি আরও উল্লেখ করেন, যদি অনিয়মের ধারাবাহিকতা থাকে, তবে পার্টি ও জোটের সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে নির্বাচনী পরিবেশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা হবে। এই ধরনের পদক্ষেপের লক্ষ্য হল নির্বাচনের ফলাফলকে জনগণের ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।
ন্যাহিদের সতর্কবার্তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। তিনি যে ‘ইঞ্জিনিয়ারড’ নির্বাচনকে অগ্রাহ্য করার আহ্বান জানিয়েছেন, তা অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেও প্রতিক্রিয়া জাগিয়েছে, যারা এখনো তাদের নিজস্ব কৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, ন্যাহিদের এই অবস্থান নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর চাপ বাড়াবে এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। যদি নির্বাচনের সময় কোনো অনিয়ম ধরা পড়ে, তবে তা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর প্রশ্ন তুলতে পারে।
অধিকন্তু, ন্যাহিদের দাবি যে ১৯৯১ সালের মডেল অনুসরণ করা উচিত, তা অতীতের সফল নির্বাচনী অভিজ্ঞতা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং বর্তমান সময়ে স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতার প্রয়োজনীয়তা জোর দেয়।
এই পরিস্থিতিতে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলছেন, যাতে কোনো ধরণের হস্তক্ষেপ না ঘটে এবং ভোটারদের ইচ্ছা সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়। ন্যাহিদের সতর্কতা এবং সম্ভাব্য প্রতিবাদমূলক পদক্ষেপ দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ন্যাহিদ ইসলাম আজকের সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করে বলেছেন, ২০০৮ সালের মতো ‘ইঞ্জিনিয়ারড’ নির্বাচন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং ১৯৯১ সালের নির্বাচনী মডেল অনুসরণ করা জরুরি। তিনি সকল সংশ্লিষ্টকে অনুরোধ করেছেন, অনিয়ম না ঘটিয়ে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত করতে। যদি অনিয়ম অব্যাহত থাকে, তবে তার পার্টি ও জোটের সদস্যরা নির্বাচন কমিশনের সামনে প্রতিবাদসূচক মার্চে অংশ নিতে প্রস্তুত।



