আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনালে পাপে থিয়াও কোচ রেফারির পেনাল্টি সিদ্ধান্তের পর দলকে তৎক্ষণাৎ মাঠ ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। অধিকাংশ খেলোয়াড় এই আদেশ মেনে চলে, তবে সাদিও মানে একমাত্র মাঠে থেকে খেলা চালিয়ে যায়। এই ঘটনার ফলে ম্যাচের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয় এবং তীব্র বিতর্কের জন্ম নেয়।
সেনেগাল দল পরবর্তীতে মাঠে ফিরে পেনাল্টি শুটআউটে জয়লাভ করে, প্রথমবারের মতো আফ্রিকা কাপের শিরোপা অর্জন করে। যদিও চ্যাম্পিয়নশিপ নিশ্চিত হয়েছে, কোচের আদেশ এবং খেলোয়াড়দের প্রাথমিক পদক্ষেপের কারণে সমালোচনা থামেনি।
ফাইনালের গ্যালারিতে সেনেগালের সমর্থক ও পুলিশ বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের প্রতিবেদনও উঠে আসে। রাবাতে প্রিন্স আবদেল্লাহ স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ভিড়ের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া ঘটায়, যা নিরাপত্তা সংস্থাকে অতিরিক্ত সতর্ক করে। এই ঘটনার ফলে স্টেডিয়ামের পরিবেশ অশান্ত হয়ে ওঠে এবং ম্যাচের চিত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
ইউরোপীয় মিডিয়া জানায়, সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশন এবং ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে পারে। তবে ফেডারেশন নিশ্চিত করেছে যে এই শাস্তি ২০২৬ বিশ্বকাপে তাদের অংশগ্রহণকে বাধা দেবে না।
আফ্রিকা কাপের নিয়ম অনুযায়ী, ফাইনালে দল, সমর্থক ও স্টাফের অশান্তি সৃষ্টি করার জন্য ফেডারেশনকে ৫০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করা হতে পারে। এছাড়া, কোচ এবং মাঠে উপস্থিত থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে যারা এই অশান্তিতে অংশ নিয়েছেন, তাদেরকে চার থেকে ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হতে পারে।
এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়িত হলে, কিছু খেলোয়াড়ের জন্য ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হবে, এবং সেনেগালের অংশগ্রহণের জন্য দলকে পূর্ণ শক্তি দিয়ে প্রস্তুত হতে হবে।
ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফ্যান্টিনো ফাইনালের পর একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন। তিনি চ্যাম্পিয়ন সেনেগালকে অভিনন্দন জানিয়ে, মাঠ ও গ্যালারিতে দেখা অগ্রহণযোগ্য দৃশ্যের জন্য তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেন। ইনফ্যান্টিনো উল্লেখ করেন, মাঠ ত্যাগ করা এবং সহিংসতা কোনোভাবেই ফুটবলের নীতি অনুসারে গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, এমন ভয়াবহ দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন এবং সিএএফের শৃঙ্খলাবিধি সংস্থার যথাযথ পদক্ষেপের প্রত্যাশা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফুটবলে সহিংসতার কোনো জায়গা নেই এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটার জন্য সব স্তরে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
ফাইনালের শেষ সময়ে দুই দলই গোলশূন্য রাখে, অতিরিক্ত সময়েও স্কোর পরিবর্তন হয় না, ফলে পেনাল্টি শুটআউটে ম্যাচের ফল নির্ধারিত হয়। সেনেগাল পেনাল্টি শুটআউটে সফল হয়ে চ্যাম্পিয়নশিপের মুকুট পরিধান করে, তবে মাঠ ত্যাগের আদেশ ও গ্যালারির অশান্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়ে যায়।
সারসংক্ষেপে, সেনেগাল কোচের তাত্ক্ষণিক মাঠ ত্যাগের আদেশ এবং সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে ফেডারেশন ও সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের উপর আর্থিক জরিমানা এবং নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদিও এই শাস্তি বিশ্বকাপের অংশগ্রহণে সরাসরি বাধা সৃষ্টি না করলেও, চার থেকে ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা কিছু খেলোয়াড়কে আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে বাদ দিতে পারে। ফিফা ও সিএএফের শৃঙ্খলাবিধি সংস্থার সিদ্ধান্তের অপেক্ষা চলেছে, যা ভবিষ্যতে আফ্রিকান ফুটবলের শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



