ময়মনসিংহের অ্যাডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে ১৯ জানুয়ারি দুপুরে অনুষ্ঠিত ‘গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ’ শীর্ষক সভায় বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন গণভোটে সক্রিয় অংশগ্রহণের জরুরি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদী প্রবণতা পুনরাবৃত্তি রোধে প্রতিটি নাগরিকের ভোটদানই একমাত্র কার্যকর উপায়, এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ দেশ রেখে যাওয়া আমাদের সবার দায়িত্ব।
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “সন্তানদের জন্য একটি নিরাপদ দেশ রেখে যাওয়া আমাদের সবার কর্তব্য” এবং এ কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি ভোটারদেরকে ভোটের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করতে আহ্বান জানান। তার বক্তব্যে তিনি বিশেষভাবে জোর দেন যে, গণভোটের মাধ্যমে জনগণই দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশ নির্ধারণে সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারে, যা কোনো একক গোষ্ঠীর স্বৈরাচারী প্রবণতা দমন করবে।
সভায় উপস্থিত ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রিয়াজ উপস্থিত ছিলেন, যিনি সভার গুরুত্ব ও গণভোটের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেন। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ফজলুল হক ভূইয়া এবং ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আতাউল কিবরিয়া বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।
শেখ বশিরউদ্দীন উল্লেখ করেন, আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে বিভিন্ন ধরণের অপপ্রচার ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। তিনি সকলকে সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের মিথ্যা তথ্যের ফাঁদে না পড়ে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তার মতে, গণভোটের মাধ্যমে জনগণই স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়ার গ্যারান্টি দিতে পারে, ফলে স্বৈরাচারী শক্তির উত্থান রোধ হবে।
অধিকাংশ উপস্থিত অতিথি এই আহ্বানকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, গণভোটের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করা সম্ভব। বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উল্লেখ করেন, “গণভোটের অংশগ্রহণই দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার মূল চাবিকাঠি” এবং তিনি সকল নাগরিককে ভোটের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে উৎসাহিত করেন। ডি. ফজলুল হক ভূইয়া কৃষি খাতের উন্নয়নে ভোটারদের অংশগ্রহণের প্রভাব তুলে ধরে বলেন, ভোটের মাধ্যমে নীতি নির্ধারণে কৃষক সম্প্রদায়ের স্বর শোনা যাবে।
ডিআইজি মোহাম্মদ আতাউল কিবরিয়া নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণ থেকে ভোটারদের নিরাপদে ভোটদান নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটের দিন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে জনগণ স্বাচ্ছন্দ্যে ভোট দিতে পারবে এবং গণভোটের ফলাফল স্বচ্ছ হবে।
এই সভা পূর্বে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ধারাবাহিকতা, যেখানে গণভোটের গুরুত্ব ও তার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী প্রবণতা দমন করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ না হলে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়, যা স্বৈরাচারী গোষ্ঠীর জন্য সুযোগসুবিধা তৈরি করে। তাই এই ধরনের সচেতনতা কর্মসূচি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ।
শেখ বশিরউদ্দীন ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাবের দিক থেকে বলেন, গণভোটের মাধ্যমে ভোটারদের স্বচ্ছতা ও দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি পাবে, যা পরবর্তী নির্বাচনে ন্যায়সঙ্গত ফলাফল নিশ্চিত করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভোটারদের বৃহৎ অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং ফ্যাসিবাদী মতাদর্শের পুনরাবৃত্তি রোধ হবে।
সারসংক্ষেপে, ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত এই সভা গণভোটের গুরুত্বকে পুনরায় জোরদার করেছে এবং সকল নাগরিককে ভোটের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা নিতে আহ্বান জানিয়েছে। ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি, মিথ্যা তথ্যের বিরুদ্ধে সজাগ থাকা এবং নিরাপদ ভোটদান নিশ্চিত করা—এই তিনটি দিকই গণভোটকে সফল করার মূল চাবিকাঠি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।



