জাতীয় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে জানিয়েছে যে গত বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মোট ৭১টি ঘটনার মধ্যে সাম্প্রদায়িক উপাদান পাওয়া গেছে। এই তথ্যের ভিত্তি হল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রিপোর্ট এবং স্থানীয় প্রশাসনের নথি, যা নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য সংগ্রহ করা হয়েছিল।
উল্লেখিত ৭১টি ঘটনা বিভিন্ন রূপে প্রকাশ পেয়েছে; কিছুতে ধর্মীয় স্থানে আক্রমণ, কিছুতে প্রতিবাদে হিংসা, আর কিছুতে গোষ্ঠীগত সংঘর্ষের রূপ দেখা গিয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথিতে দেখা যায় যে অধিকাংশ ঘটনার মূল কারণ ছিল ধর্মীয় সংবেদনশীলতা, মিথ্যা তথ্যের প্রচার এবং কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক উত্তেজনা।
সরকারের পক্ষ থেকে এই ধরনের ঘটনা রোধে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোট ৮,৯৭,০০০ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে পুলিশ, র্যাঙ্ক, রেঞ্জ, সিএইচএস, এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার কর্মী অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়া, নির্বাচনের পূর্বে এবং চলাকালীন সময়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা কমাতে বিশেষ প্রশিক্ষণ, তথ্য বিশ্লেষণ কেন্দ্রের স্থাপন এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল গঠন করা হয়েছে।
বিপক্ষের কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী এই তথ্যের প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করেছে। তারা দাবি করে যে সাম্প্রদায়িক উপাদান চিহ্নিতকরণে অতিরিক্ত রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে এবং এটি বিরোধী দলের বিরুদ্ধে চাপ বাড়ানোর কৌশল হতে পারে। তবে সরকার বলেছে যে তথ্য সংগ্রহ স্বতন্ত্র ও নিরপেক্ষ পদ্ধতিতে করা হয়েছে এবং কোনো দলকে লক্ষ্য করে নয়।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, নির্বাচনের সময় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়লে ভোটের স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তারা সতর্ক করেছেন যে, তথ্যের যথাযথ ব্যবহার এবং দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সম্ভাব্য সংঘাতকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। একই সঙ্গে, সামাজিক মিডিয়ায় মিথ্যা তথ্যের বিস্তার রোধে আইনি ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করা জরুরি বলে তারা জোর দিয়েছেন।
ভবিষ্যতে, নির্বাচনের ফলাফল এবং সাম্প্রদায়িক শান্তি বজায় রাখার জন্য সরকার ও বিরোধী দল উভয়েরই সমন্বিত কাজের প্রয়োজন হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিস্তৃত মোতায়েন এবং তথ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা নির্বাচনের সময় কোনো বড় ধরনের হিংসা রোধে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে, সাম্প্রদায়িক সংবেদনশীলতা সম্পৃক্ত বিষয়গুলোতে রাজনৈতিক নেতাদের সতর্কতা এবং জনসাধারণের সচেতনতা বৃদ্ধি করা অপরিহার্য, যাতে ভোটারদের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত থাকে।
এই তথ্যের প্রকাশের পর সরকার ইতিমধ্যে কিছু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্কতা বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছে। নির্বাচনের পূর্বে এবং চলাকালীন সময়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা কমাতে সকল স্তরের সরকারী ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রত্যাশিত।



