ঢাকা, ১৯ জানুয়ারি – দেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে, এ বিষয়ে নিরাপত্তা উপদেষ্টা রিজভীর তীব্র আহ্বান শোনা গেছে। রিজভী উল্লেখ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে তারেকের নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ এবং তা রক্ষা না করা হলে দেশের শাসনব্যবস্থার উপর প্রভাব পড়তে পারে।
উল্লেখযোগ্য যে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ৮,৯৭,০০০ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে বিভিন্ন স্তরে মোতায়েন করা হবে। এই সংখ্যা পূর্বের কোনো নির্বাচনী চক্রের তুলনায় সর্বোচ্চ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যাপকতা নির্দেশ করে। মোতায়েনের মধ্যে পুলিশ, র্যাঙ্ক, র্যাঙ্ক, এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার কর্মী অন্তর্ভুক্ত, যারা ভোটারদের নিরাপদে ভোটদান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে উপস্থিত থাকবে।
সরকারের এই পদক্ষেপের পেছনে মূল উদ্দেশ্য হল নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা, পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাদের এবং সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। রিজভী বলেন, নিরাপত্তা সংস্থার যথাযথ সমন্বয় এবং পর্যাপ্ত সম্পদ সরবরাহের মাধ্যমে সম্ভাব্য হিংসা ও অশান্তি রোধ করা সম্ভব।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থা এবং দেশের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, বিশ্বকাপ প্রস্তুতির কিছু কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং নির্বাচনী সময়সূচি সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তুতি স্থগিতের ফলে ক্রীড়া ইভেন্টের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নতুন পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।
তবে, রাজনৈতিক বিরোধী দলগুলো সরকারকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত পদক্ষেপে দ্রুততা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আহ্বান জানায়। তারা জোর দিয়ে বলে যে, নিরাপত্তা সংস্থার অতিরিক্ত মোতায়েনের পাশাপাশি, নিরাপত্তা পরিকল্পনার বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করা এবং কোনো ধরণের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না হওয়া নিশ্চিত করা জরুরি।
সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা রিজভী আরও উল্লেখ করেন, তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ গার্ড ও সুরক্ষা ব্যবস্থার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই গার্ডগুলো তারেকের ঘরোয়া ও অফিসিয়াল কার্যক্রমে সঙ্গ দেয় এবং সম্ভাব্য হুমকি সনাক্ত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা পায়।
নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বিভিন্ন প্রশিক্ষণ সেশন এবং সিমুলেশন চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে তারা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকরভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। প্রশিক্ষণে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, এবং সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবেলা অন্তর্ভুক্ত।
এই নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, নির্বাচনী এলাকাগুলোতে পর্যবেক্ষণ ক্যামেরা এবং ড্রোন ব্যবহার করা হবে। ড্রোনের মাধ্যমে রিয়েল-টাইম নজরদারি করা হবে এবং কোনো অস্বাভাবিক কার্যকলাপ দ্রুত সনাক্ত করা সম্ভব হবে। রিজভী বলেন, প্রযুক্তিগত সহায়তা নিরাপত্তা সংস্থার কার্যকারিতা বাড়াবে এবং ভোটারদের নিরাপদে ভোটদান নিশ্চিত করবে।
অধিকন্তু, সরকার নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা সংস্থার সাথে সমন্বয় করে একটি সমন্বিত জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলবে, যাতে জরুরি অবস্থায় দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান এবং সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া যায়। এই ব্যবস্থা ভোটার, নিরাপত্তা কর্মী এবং নির্বাচনী কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে।
তারেক রহমানের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের পাশাপাশি, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। রিজভীর এই আহ্বান এবং নির্বাচনী নিরাপত্তা পরিকল্পনা দেশের শাসনব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নির্বাচনের ফলাফল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। সরকার, নিরাপত্তা সংস্থা এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে একসাথে কাজ করে নিরাপদ ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে, যাতে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়।



