বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা, সাবেক মন্ত্রী এবং নাটোর‑২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, শ্রীশ্রী জিয়া উর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকীর উপলক্ষে নলডাঙ্গা উপজেলার পাবনাপাড়া শাহীদ নাজমুল হক সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত আলোচনা‑দোয়া মাহফিলে তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
দুলু উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের জাতীয় সংকটের সময়, শ্রীশ্রী জিয়া উর রহমানের জন্মের পরই তিনি কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। সেই ঘোষণার পরপরই দেশের লক্ষ কোটি মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এবং নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
বক্তৃতায় দুলু অতীতের রাজনৈতিক পরিবেশের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, শ্রীশ্রী শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনকালে দেশের সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হয়, বাকশাল গৃহীত হয় এবং চারটি ব্যতীত অধিকাংশ পত্রিকা বন্ধ করা হয়। তিনি যুক্তি দেন, এই নীতি দেশের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করেছিল।
এর পরের পর্যায়ে, দুলু উল্লেখ করেন, শ্রীশ্রী জিয়া উর রহমান ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গে বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেন। তিনি সকলের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করেন, বন্ধ করা পত্রিকাগুলো পুনরায় চালু করেন এবং জনগণের কথা বলার স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। দুলু জিয়া উর রহমানকে আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার হিসেবে প্রশংসা করেন এবং বলেন, জাতি কখনোই এই রাষ্ট্র নায়কের অবদান ভুলবে না।
অনুষ্ঠানটি নলডাঙ্গা উপজেলা যুবদল ও পৌর যুবদল যৌথভাবে আয়োজন করে। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাটোর জেলা যুবদল সভাপতি এ. হাই তালুকদার ডালিম, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান আনিস, জেলা বিএনপির সদস্য ও সাংবাদিক নাসিম উদ্দিন নাসিম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক রাসেল আহমেদ রনি, নলডাঙ্গা উপজেলা যুবদল আহ্বায়ক মামুন খান এবং আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রুপচান। সকল উপস্থিতি দুলুর বক্তব্যের পর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেন এবং জিয়া উর রহমানের অবদানের প্রতি সম্মান জানিয়ে সমাপনী প্রার্থনা করেন।
দুলুর বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে কিছু অংশে উপস্থিত অন্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর ভিন্ন দৃষ্টিকোণ তুলে ধরেন। তারা উল্লেখ করেন, শ্রীশ্রী শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনকালে স্বাধীনতা অর্জনের ভিত্তি গড়ে তোলা হয় এবং তার নেতৃত্বে দেশের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা হয়। তবে, দুলু এই দৃষ্টিকোণকে সম্মান জানিয়ে বলেন, ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন নেতা দেশের গঠন ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
অনুষ্ঠানটি জাতীয় ঐতিহাসিক স্মরণে এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। দুলু উল্লেখ করেন, শ্রীশ্রী জিয়া উর রহমানের নীতি ও কর্মের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা করা বর্তমান সময়ের প্রধান চ্যালেঞ্জ। তিনি সকল রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানান, একসঙ্গে কাজ করে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে।
এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শ্রীশ্রী জিয়া উর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী স্মরণে জাতীয় ঐক্য ও ঐতিহাসিক গর্বের বার্তা পুনরায় জোরদার হয়েছে। উপস্থিত সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং বক্তৃতা ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।



