রবিবার কলম্বিয়ার আমাজন অঞ্চলের গুয়াভিয়ারেতে, এল রেতোরনো পৌরসভার গ্রামীণ এলাকায় বামপন্থি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২৭ জন শূন্য হয়ে গেছেন। নিহতরা সবই এক গোষ্ঠীর সদস্য, যা দেশের দীর্ঘস্থায়ী সশস্ত্র সংঘাতের নতুন রক্তক্ষয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি কলম্বিয়ায় সম্ভাব্য হামলার হুমকি জানিয়ে আন্তর্জাতিক দৃষ্টিতে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি তীব্র করে তুলেছেন। একই সময়ে, কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো দেশের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণে লিপ্ত।
সংঘর্ষের স্থান গুয়াভিয়ারেতে অবস্থিত, যেখানে কোকেন চাষ ও পাচারকে কেন্দ্র করে অঞ্চলটি কৌশলগত গুরুত্ব পায়। কলম্বিয়ার সেনাবাহিনীর বিবৃতি অনুযায়ী, এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণের জন্যই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে লড়াই তীব্র হয়েছে।
সামরিক সূত্র জানায়, ফার্কের (বিপ্লবী সশস্ত্র বাহিনী) অভ্যন্তরীণ বিরোধের ফলে এই মেরুকরণ ঘটেছে। গোষ্ঠীর নেতৃত্বে ছিলেন নেস্টর গ্রেগোরিও ভেরা, যাকে যুদ্ধনামে ইভান মোরডিস্কো নামে পরিচিত। তিনি দেশের সবচেয়ে কুখ্যাত পলাতক নেতাদের একজন।
দুইটি গোষ্ঠী পূর্বে ‘সেন্ট্রাল জেনারেল স্টাফ’ নামে পরিচিত এক সংস্থার অংশ ছিল। তবে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের কারণে তারা পৃথক হয়ে যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে, উভয় গোষ্ঠীর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সামরিক সূত্র থেকে তথ্য পাওয়া গেছে।
মিলিত তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে নিহত সবই ভেরার নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর সদস্য। অন্য গোষ্ঠীর সদস্যদের ক্ষতি সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
দিয়াসের নেতৃত্বে থাকা গোষ্ঠী বর্তমানে পেত্রোর সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় যুক্ত। অন্যদিকে, সরকার দ্বিপক্ষীয় যুদ্ধবিরতি স্থগিত করার পর ভেরার গোষ্ঠী বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।
উভয় গোষ্ঠিই ২০১৬ সালের শান্তিচুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। ঐ চুক্তিতে প্রায় ১৩,০০০ ফার্ক সদস্যকে অস্ত্র ত্যাগ করে সমাজে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, তবে এই গোষ্ঠিগুলি তা স্বীকার করেনি।
কলম্বিয়ার সশস্ত্র সংঘাত ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলেছে এবং এতে অন্তত সাড়ে চার লক্ষ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে বলে অনুমান করা হয়। মাদক পাচার ও অবৈধ খনির অর্থায়ন এই দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত।
সামরিক ও সরকারি সূত্রের ভিত্তিতে, বর্তমান সংঘর্ষের মূল কারণ কোকেন উৎপাদন ও তার নিয়ন্ত্রণের জন্য গৃহীত কৌশলগত পদক্ষেপ। এই অঞ্চলকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে তীব্র লড়াই অব্যাহত রয়েছে।
অধিক তথ্য ও পরবর্তী তদন্তের ফলাফল সরকারী সংস্থা প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশে, ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে এবং মৃতদেহ পুনরুদ্ধার কাজ চলমান।



