টাঙ্গাইল জেলার মহেড়া পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (পিটিসি) প্রশিক্ষণ সেশনের সময় ১৯ বছর বয়সী ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল মাসুম গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনাটি সোমবার সকালে ঘটেছে, যখন রিক্রুটদের জন্য ফায়ারিং রেঞ্জে অস্ত্র পরীক্ষা চালানো হচ্ছিল। গুলির প্রভাব তার পিঠের বাঁ কাঁধে আঘাত হানায়, যা তাকে তৎক্ষণাৎ জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রয়োজন করে তোলে।
প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ব্যবহৃত চায়না রাইফেল থেকে গুলি বেরিয়ে মাসুমের দেহে আঘাত হানে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার মুহূর্তে উপস্থিত প্রশিক্ষক ও সহকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে তাকে তুলে নেন এবং নিকটবর্তী টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসা দল দ্রুত গুলির ক্ষত পরিষ্কার করে, রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং প্রয়োজনীয় শল্যচিকিৎসা চালায়।
পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মারুফ Abdullah এবং উপপরিদর্শক তৌফিক ঘটনাটি সম্পর্কে জানিয়ে বলেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর মাসুমকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল। উভয় কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্মীকে প্রশ্ন করা হবে।
মহেড়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে গুলিবিদ্ধ হওয়ার সময় গুলির দিক ও গতি নিয়ে প্রাথমিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, গুলি অনিচ্ছাকৃতভাবে বেরিয়ে মাসুমের পিঠের বাঁ কাঁধে আঘাত হানে, যা প্রশিক্ষণ সময় নিরাপত্তা প্রোটোকল লঙ্ঘনের ইঙ্গিত দেয়। তদন্তের অংশ হিসেবে রেঞ্জের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অস্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ রেকর্ড এবং প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হবে।
আইনি দিক থেকে, গুলিবিদ্ধ হওয়া একটি অপরাধমূলক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। পুলিশ বিভাগ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে প্রমাণ সংগ্রহের জন্য ফরেনসিক দল পাঠিয়েছে এবং গুলির গতি, দিক ও রাউন্ডের সংখ্যা নির্ধারণের জন্য ব্যালিস্টিক বিশ্লেষণ চালু করেছে।
মাসুমের পরিবারকে ঘটনাটি সম্পর্কে জানানো হয়েছে এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। চিকিৎসা দলের মতে, গুলির ক্ষত শল্যচিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, তবে দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন ও শারীরিক থেরাপি প্রয়োজন হতে পারে। রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল থাকায়, তাকে শীঘ্রই হাসপাতালে থেকে ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হতে পারে, তবে তা চিকিৎসা দলের চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।
প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন করা হবে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধে অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ বিভাগ প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত অস্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ, গুলি পরীক্ষা এবং রেঞ্জের নিরাপত্তা প্রোটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।
দুর্ঘটনার পরপরই একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার দায়িত্ব হবে ঘটনার মূল কারণ নির্ণয় এবং দায়িত্বশীলদের শাস্তি নিশ্চিত করা। কমিটি আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন করবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেবে। এছাড়া, গুলিবিদ্ধ হওয়া রিক্রুটের জন্য মানসিক সহায়তা ও পরামর্শ সেবা প্রদান করা হবে, যাতে তার মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।
এই ঘটনাটি পুলিশ প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা মানদণ্ডের গুরুত্ব পুনরায় তুলে ধরেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ ও তদন্তের ফলাফল ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মডেল হিসেবে কাজ করবে।



