আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑১-এ সোমবার হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম‑৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের বিএনপি প্রার্থী, গুম‑নির্যাতনের অভিযোগে সাক্ষ্য দিলেন। তিনি ২০১৬ সালের ৪ আগস্ট তারিখে গুম করা হয় এবং জেএইসি (যৌথ ইন্টারোগেশন সেল)‑এ আটক থাকার সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন।
এই মামলাটি পূর্বের আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে রাজনৈতিক বিরোধীদের গুম‑করে রাখার সঙ্গে যুক্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী। চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আজকের সেশনে সূচনা বক্তব্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারের সূচনা করেন।
হুম্মাম জানান, গুমের দিন তিনি কোনো ঘড়ি বা আলো দেখতে পাননি, ফলে দিন‑রাতের পার্থক্য বুঝতে পারতেন না। তিনি খাবার পাওয়ার মাধ্যমে দিন গুনতে শুরু করেন; রুটি পৌঁছালে নতুন দিন শুরু হয়েছে বলে তিনি অনুমান করতেন।
দুপুর ও রাতের খাবারে সাধারণত ভাতের সঙ্গে এক টুকরা মাছ বা মুরগি ও কিছু সবজি থাকত। একদিন বিরিয়ানি পরিবেশন করা হলে তিনি তা ঈদ‑উৎসবের দিন হিসেবে চিহ্নিত করেন।
প্রথম দুই মাসে তিনি দেয়ালে পেরেক দিয়ে দিন গুনতে থাকেন। দুই মাসের পর তিনি এই পদ্ধতি বন্ধ করেন, কারণ পেরেকটি জানালার কোণায় পাওয়া গিয়েছিল এবং দেয়ালে পূর্বে বন্দীদের লেখা দেখা গিয়েছিল।
দেয়ালে একটি নোট ছিল, যেখানে লেখা ছিল – “আপনাকে কত দিন এখানে রাখা হবে, তা কেউ আপনাকে বলবে না।” অন্য পাশে বাংলাদেশের পতাকার চিত্র অঙ্কিত ছিল। হুম্মাম এই লেখাগুলোকে পূর্বের বন্দীদের চিহ্ন হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি যে কক্ষের কথা বর্ণনা করেছেন, তার দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫ থেকে ১৮ ফুট এবং প্রস্থ ৮ থেকে ১০ ফুট। কক্ষের এক কোণায় তিনি নিজের আদ্যক্ষর “এইচকিউসি” এবং গুমের তারিখ পেরেক দিয়ে লিখে রেখেছিলেন।
হুম্মাম বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং রাঙ্গুনিয়া আসনে প্রার্থী। তার বাবা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, যিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ফাঁসির শিকার হন, তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রাক্তন সদস্য ছিলেন।
এই বিচারের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে। হুম্মাম নিজে এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী পার্টির সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা মোকাবেলা করবেন।
ট্রাইব্যুনাল এখন পর্যন্ত একাধিক সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছে এবং পরবর্তী সেশনে অতিরিক্ত প্রমাণ ও সাক্ষ্য শোনা হবে। বিচার প্রক্রিয়া চলমান থাকায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আইনগত প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে।



