সরকারি কর্মচারীরা ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে সাধারণ ভবিষ্য তহবিল (জিপিএফ) ও প্রদেয় ভবিষ্য তহবিল (সিপিএফ) এ জমা রাখার জন্য নির্ধারিত মুনাফার হার পূর্বের মতোই ১১ থেকে ১৩ শতাংশের মধ্যে থাকবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ রবিবার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে এই হার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
প্রজ্ঞাপনে তিনটি টাকার সীমা নির্ধারিত হয়েছে: একদম ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মুনাফা ১৩ শতাংশ, ১৫ লক্ষ এক টাকা থেকে ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ১২ শতাংশ, আর ৩০ লক্ষ এক টাকা অতিক্রম করলে ১১ শতাংশ মুনাফা প্রযোজ্য হবে। এই স্তরভিত্তিক হার ব্যবস্থা পূর্বের নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।
জিপিএফ‑সিপিএফের হার পূর্বে ১৩‑১৪ শতাংশের মধ্যে ছিল, তবে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তৎকালীন অর্থসচিব আব্দুর রউফ তালুকদার এই হারকে ১১‑১৩ শতাংশে নামিয়ে আনেন। সেই সময় থেকে কোনো পরিবর্তন না হয়ে আজ পর্যন্ত একই সীমা বজায় রয়েছে।
অর্থ বিভাগ এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল লক্ষ্য হল সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়কে স্থিতিশীল রিটার্নের মাধ্যমে উৎসাহিত করা, একই সঙ্গে বাজেটের আর্থিক ভারসাম্য রক্ষা করা। মুনাফার হার স্থিতিশীল রাখার ফলে সঞ্চয়কারীদের প্রত্যাশা ও পরিকল্পনা ত্রুটিমুক্ত থাকে।
এই হার স্থায়িত্বের ফলে সরকারি কর্মচারীরা জিপিএফ‑সিপিএফে অতিরিক্ত ঝুঁকি না নিয়ে সঞ্চয় চালিয়ে যেতে পারবেন। উচ্চতর রিটার্নের সম্ভাবনা না থাকলেও, স্থিতিশীল রিটার্নের নিশ্চয়তা সঞ্চয়কে অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে আলাদা করে।
বাজারে দেখা যায়, জিপিএফ‑সিপিএফের হার স্থির থাকলে বেসরকারি সঞ্চয় পণ্য, যেমন বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড ও সঞ্চয় সনদে চাহিদা বাড়তে পারে। তবে সরকারী সঞ্চয় পণ্যের নিরাপত্তা ও কর সুবিধা এখনও অনেক কর্মচারীর জন্য আকর্ষণীয়।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এই হারকে ধরা দিয়ে তাদের সঞ্চয় পণ্যের সুদের হার সমন্বয় করতে পারে। জিপিএফ‑সিপিএফের রিটার্নের সঙ্গে তুলনা করে তারা গ্রাহকদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক অফার তৈরি করবে, যা সামগ্রিক সঞ্চয় বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
সরকারি বন্ডের চাহিদা উপরেও এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে। জিপিএফ‑সিপিএফের রিটার্ন যদি স্থির থাকে, তবে দীর্ঘমেয়াদী বন্ডে বিনিয়োগের আকর্ষণ বাড়তে পারে, বিশেষ করে যখন বাজারে রিটার্নের পার্থক্য কম থাকে।
মুদ্রাস্ফীতি ও বাস্তব রিটার্নের দিক থেকে দেখা যায়, ১১‑১৩ শতাংশের হার বর্তমান মুদ্রাস্ফীতি স্তরের তুলনায় সীমিত রিয়েল রিটার্ন প্রদান করতে পারে। তাই সঞ্চয়কারীদের জন্য অতিরিক্ত রিয়েল রিটার্নের সন্ধানে অন্যান্য সম্পদে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
ভবিষ্যতে হার পরিবর্তনের সম্ভাবনা সম্পূর্ণ অস্বীকার করা যায় না, তবে বর্তমান নীতি নির্দেশ করে যে সরকার দীর্ঘমেয়াদে এই হারকে স্থিতিশীল রাখতে চায়। কোনো অপ্রত্যাশিত আর্থিক চ্যালেঞ্জ বা বাজেটের চাপ না হলে নিকট ভবিষ্যতে বড় পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা কম।
সারসংক্ষেপে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিপিএফ‑সিপিএফের মুনাফার হার ১১‑১৩ শতাংশের মধ্যে স্থায়ী রাখা হয়েছে, যা সরকারি কর্মচারীদের সঞ্চয় পরিকল্পনায় স্থিতিশীলতা এনে দেবে এবং বাজারে অন্যান্য সঞ্চয় পণ্যের সঙ্গে তুলনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করবে।



