27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাসেনেগাল আফকন জয়, প্রেসিডেন্ট ছুটির ঘোষণা, বিশ্বজুড়ে উল্লাস

সেনেগাল আফকন জয়, প্রেসিডেন্ট ছুটির ঘোষণা, বিশ্বজুড়ে উল্লাস

সেনেগাল জাতীয় দল রবিবার রাবাতের স্টেডিয়ামে মরক্কোকে ১-০ স্কোরে পরাজিত করে আফ্রিকান কাপ অব নেশনস (আফকন) জয়লাভ করে। এই বিজয়কে স্বীকৃতি দিয়ে প্রেসিডেন্ট বাসিরু দিয়োমায়ে ফায়ে সোমবারকে জাতীয় ছুটির ঘোষণা করেন। ম্যাচটি শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা, অস্বীকৃত গোল এবং পেনাল্টি শটের পরিণতিতে ভরপুর ছিল, যা দু’দেশের ভক্তদের হৃদয়কে দোলায়িত করে তুলেছিল।

চূড়ান্ত ম্যাচে মরক্কোর হোস্ট দেশ রাবাতের রাজধানী রাবাতে ভিড় জমে ছিল। প্রথমার্ধে মরক্কোর ব্রাহিম দিয়াজ পেনাল্টি নিতে গিয়ে শটটি মিস করেন, যা তার দলকে ৫০ বছরের মধ্যে প্রথম আফকন ট্রফি জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিত। পেনাল্টি মিসের পর অতিরিক্ত সময়ে সেনেগালের গোলদাতা স্কোর বাড়িয়ে দলকে বিজয়ী করে তোলেন। ম্যাচের শেষের মুহূর্তে দু’দলই মাঠ ছেড়ে চলে যায়, যা স্টেডিয়ামকে উত্তেজনায় ভরিয়ে তুলেছিল।

সেনেগালের রাজধানী ডাকারায় আফকন চূড়ান্তের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য বিশাল আউটডোর স্ক্রিন স্থাপন করা হয়। বিশাল আফ্রিকান রেনেসাঁস মনুমেন্টের পাদদেশে ভিড় জমে, যেখানে ভক্তরা একত্রে ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্ত অনুসরণ করে। স্ক্রিনের সামনে উল্লাস, কান্না, এবং হাততালি একসাথে মিশে গিয়েছিল, যা দেশের সমগ্র আনন্দের প্রতিফলন ঘটায়।

মরক্কোর পেনাল্টি মিসের পর সেনেগালের অতিরিক্ত সময়ের গোল শোনার সঙ্গে সঙ্গে ডাকারার ভক্তদের মধ্যে উল্লাসের স্রোত বইয়ে যায়। এক ভক্ত মোহাম্মদ দিওপ বললেন, “এটা যেন কোনো নেটফ্লিক্স সিরিজের দৃশ্য, অবিশ্বাস্য এবং দিভাইন।” এই মুহূর্তে স্ক্রিনের সামনে থাকা মানুষজন আনন্দে চিৎকার করে, হাততালি দিয়ে বিজয়কে স্বাগত জানায়।

মরক্কোর ভক্তদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে সেল শহরের ফ্যান পার্কে। সেখানে উপস্থিত এক ব্যক্তি বললেন, “হয়তো পরের বার, আমাদের ভাল খেলোয়াড় আছে, এখন কাজের দিকে ফিরে যাই, ২০২৭ সালে জয়ের জন্য প্রস্তুতি নিই।” একই সময়ে ডাচ শহর আইন্ডহোভেনে মরক্কোর ভক্তরাও দিয়াজের পেনাল্টি মিসে শক অনুভব করে, যা তাদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়।

সেনেগালের প্রেসিডেন্ট ফায়ে এই বিজয়কে জাতীয় গর্বের মুহূর্ত হিসেবে তুলে ধরে, এবং দেশের সকল নাগরিককে বিশ্রাম ও উদযাপনের সুযোগ দিতে সোমবারকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের বিভিন্ন অংশে পার্টি, সঙ্গীত ও নৃত্যের মাধ্যমে উল্লাসের পরিবেশ তৈরি হয়।

আফকন জয়ের আনন্দ শুধুমাত্র সেনেগালের সীমানায় সীমাবদ্ধ না থেকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ইতালির মিলানে, ফ্রান্সের প্যারিসের শাটো রুশে এলাকায়, এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে সেনেগাল ভক্তরা রাস্তায় বেরিয়ে উদযাপন করে। নিউ ইয়র্কে নতুন মেয়র জোহরান মামদানির আয়োজনে একটি ওয়াচ পার্টি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ভক্তরা একত্রে ম্যাচের রেকর্ডিং দেখে আনন্দ ভাগ করে নেয়।

ভক্তদের মধ্যে বিশেষ করে সাদিও মানে-কে ধন্যবাদ জানিয়ে এক সমর্থক মোদু ইয়াসিন দিওপ বললেন, “এই দল আমাদের সাহস ও গম্ভীরতা দেখিয়েছে, আমরা সবকিছু দিয়েছি, সাদিও মানে আমাদের সবকিছু দিয়েছেন।” সেনেগালের জয়কে দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলেছে।

সারসংক্ষেপে, সেনেগালের আফকন জয় কেবল একটি ক্রীড়া বিজয় নয়, এটি জাতীয় গর্ব, সামাজিক ঐক্য এবং আন্তর্জাতিক উল্লাসের উৎস। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদযাপন, সরকারী ছুটি এবং ভক্তদের উচ্ছ্বাস এই বিজয়কে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments