পরিবেশ, বন, জলবায়ু ও পানি সম্পদ ও তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার তিস্তা নদীর ১০ নম্বর টুনুর ঘাট ও তালুক শাহবাজ এলাকায় সোমবার সকালবেলা পরিদর্শন শেষে জানালেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ও চীন সরকার উভয়ই সম্পূর্ণভাবে যুক্ত, তবে প্রকল্পের প্রযুক্তিগত যাচাই‑বাছাই শেষ না হওয়ায় জানুয়ারির মাঝামাঝি কাজ শুরু করা সম্ভব নয়।
পরিদর্শনের সময় রিজওয়ানা হাসানের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূত হুয়ান্সি ইয়াও ওয়েন, রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের আঞ্চলিক কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন স্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সবাই একসাথে তিস্তা নদীর ভাঙন‑প্রবণ অংশগুলো পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রকল্পের মানচিত্র পর্যালোচনা করেন।
রিজওয়ানা হাসান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ তিস্তা প্রকল্পের প্রস্তাব চীনে পাঠিয়েছে এবং প্রস্তাবে নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়েছে। চীন সরকার প্রস্তাব গ্রহণের পর তাদের বিশেষজ্ঞ দল গভীর বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন চালাচ্ছেন। এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত প্রকল্পের কোনো ধাপ শুরু করা সম্ভব নয়।
প্রকল্পের কাজ জানুয়ারির মধ্যেই শুরু না হতে পারে, তবে তা নিয়ে হতাশা বা অশান্তি প্রকাশের কোনো কারণ নেই। তিনি জোর দেন, যদি অল্প সময়ে নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করে কাজ শুরু করা হয়, তবে পরবর্তীতে উদ্ভূত জটিলতা সমাধান করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তাই যথাযথ প্রস্তুতি ও যাচাই‑বাছাই সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ওপরও তিনি আলোকপাত করেন। রিজওয়ানা হাসান বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল নীতি ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব’, এবং চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক সংযোগ রয়েছে, দু’দেশই একাধিক নদী ভাগ করে নেয়। তিস্তা মহাপরিকল্পনা, স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নে চীনের অবদানকে তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে স্বীকার করেন।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তিস্তা প্রকল্পের গুরুত্বও উল্লেখ করা হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বর্তমান সরকার এই প্রতিশ্রুতি পূরণে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে চায়, যাতে ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকারকে অতিরিক্ত অপেক্ষা না করতে হয়।
পরিদর্শনের পর রিজওয়ানা হাসান ও চীনা রাষ্ট্রদূত তিস্তা লালমনিরহাট সড়ক সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে প্রকল্পের মানচিত্র বিশদে পর্যালোচনা করেন। এরপর নৌকায় নদীর দুই পাড়ের ভাঙন‑প্রবণ এলাকা ঘুরে দেখেন এবং সরেজমিনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন। এই পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হবে।
সারসংক্ষেপে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ও চীন উভয় সরকারই উচ্চ মাত্রার প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করেছে, তবে চীনের বিশেষজ্ঞ দল দ্বারা প্রযুক্তিগত যাচাই‑বাছাই শেষ না হওয়ায় কাজের সূচনা দেরি হতে পারে। সরকার এই দেরিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা হিসেবে না দেখে, যথাযথ প্রস্তুতি ও ঝুঁকি মূল্যায়নের অংশ হিসেবে গ্রহণ করছে। ভবিষ্যতে প্রকল্পের অগ্রগতি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলবে, এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে অবকাঠামো উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।



