সোমবার দক্ষিণ জোহানেসবার্গের পথে একটি স্কুলমিনিবাস এবং ট্রাকের সংঘর্ষে ১২ জন শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন, স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে। দুর্ঘটনা ভ্যান্ডারবিজলপার্কের কাছাকাছি, শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে ঘটেছে। ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ উদ্ধারকর্মী ও চিকিৎসা দল উপস্থিত হয়।
পুলিশের মতে, মিনি বাসের চালক অন্য গাড়ি অতিক্রম করার চেষ্টা করার সময় গতি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি সরে যায় এবং ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এই অপ্রত্যাশিত চালনা দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, মিনি বাসে বেশ কয়েকটি প্রাইমারি ও হাইস্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ছিলেন, যাদের বয়স ছয় বছর থেকে শুরু। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশিরভাগই স্থানীয় স্কুলে পড়ে, যেখানে প্রায়ই পরিবারগুলো ব্যক্তিগত মিনি বাসের ওপর নির্ভর করে সন্তানদের স্কুলে পৌঁছে দেয়।
দুর্ঘটনা স্থানে পৌঁছানোর পর, প্রথমে ১১ জন শিক্ষার্থী现场েই মারা যায়, আর একজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরেও তিনি মৃত্যুবরণ করেন, ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১২ এ পৌঁছেছে।
প্রাদেশিক শিক্ষা মন্ত্রী মাটোমে চিলোয়ানে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শোক প্রকাশ করেন এবং বললেন, “শিশুরা আমাদের ভবিষ্যৎ, এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনা আমাদের সমাজকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।” তিনি বয়সের সুনির্দিষ্ট তথ্য না জানলেও উল্লেখ করেন যে শিশুরা প্রাইমারি ও উচ্চ বিদ্যালয়ের স্তরে পড়ে।
গৌটেং প্রিমিয়ার পন্যাজা লেসুফি ঘটনাস্থলে গিয়ে “এটি একটি ভয়াবহ দৃশ্য” বলে শোক প্রকাশ করেন। তিনি ট্রাফিক নিরাপত্তা ও যানবাহনের রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত সমস্যাগুলোকে এই ধরনের দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় রোড দুর্ঘটনায় মোট ১১,৪০০ জনের বেশি প্রাণ হারিয়েছে। গতি সীমা অমান্য, অযত্নে রক্ষণাবেক্ষণ এবং রোড অবকাঠামোর দুর্বলতা এই সংখ্যার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত।
দক্ষিণ আফ্রিকায় অনেক পরিবার গাড়ি না থাকায় শিশুদের স্কুলে পৌঁছাতে ব্যক্তিগত মিনি বাসের ওপর নির্ভর করে। এই মিনি বাসগুলো প্রায়ই পুরনো ও রক্ষণাবেক্ষণহীন হওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ে।
অক্টোবর মাসে কুয়াজুলু-নাটালে একটি মিনি বাসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে উল্টে যাওয়ার ফলে ১৮ জন শিশুর গুরুতর আঘাত হয়। একই অঞ্চলে সেপ্টেম্বর মাসে একটি স্কুল মিনি বাস একটি ক্রেচে ধাক্কা খেয়ে পাঁচজন শিক্ষার্থী মারা যায় এবং আটজন আহত হয়।
এই ধারাবাহিক দুর্ঘটনা স্থানীয় জনগণের মধ্যে গাড়ি চালনার নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করার জন্য কঠোর নিয়মাবলী ও তদারকি প্রয়োজনীয় বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করছেন।
অবশেষে, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুরোধ করা হচ্ছে যে, শিশুদের স্কুলে নিয়ে যাওয়ার সময় নিরাপদ ও সঠিক রক্ষণাবেক্ষিত গাড়ি ব্যবহার নিশ্চিত করুন। এছাড়া, গতি সীমা মেনে চলা এবং রোডের অবস্থা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে নিয়মিত গাড়ির টেকনিশিয়ান চেকআপ এবং ড্রাইভারের প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।



