22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমোদি সিঙ্গুরে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে সীমান্ত বেড়া প্রকল্পে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন

মোদি সিঙ্গুরে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে সীমান্ত বেড়া প্রকল্পে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন

মহানগর সিঙ্গুরে ১৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণে ইচ্ছাকৃত অসহযোগিতা করার অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই প্রকল্পটি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্তে অবৈধ প্রবেশ রোধে গুরুত্বপূর্ণ।

মোদি ২০০৬ সালের কৃষক আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত সিঙ্গুরের জনসভায় উপস্থিত হয়ে তার বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ভোটব্যাংক স্বার্থে সীমান্তে অনুপ্রবেশকারীদের প্রবেশের সুযোগ দিচ্ছে, যা দেশের সীমানা রক্ষায় বাধা সৃষ্টি করছে।

মোদি আরও জানান, কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক চালু করা বহু জনকল্যাণ প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে বাস্তবায়িত না হওয়ায় সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি তৃণমূল সরকারের এই অবহেলার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, কেন্দ্রের পরিকল্পনা রাজ্যে না পৌঁছানোর ফলে জনগণের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।

একটি আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মোদি তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলোকে বাধা দিয়ে সাধারণ নাগরিককে বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলছেন, সরকারী উদ্যোগের অমিলের ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ধীরগতিতে এগোচ্ছে।

মোদি ‘মৎস্যজীবী যোজনা’কে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, অন্যান্য রাজ্য মৎস্যজীবীদের নাম নথিভুক্ত করে সুবিধা প্রদান করেছে, তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই তালিকাকে আটকে রেখেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বহুবার রাজ্য সরকারকে চিঠি লিখেও কোনো সাড়া পাননি, ফলে মৎস্যজীবীদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসেবে মোদি ‘এক জেলা এক পণ্য’ (ওডিপি) নীতি প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, প্রতিটি জেলার নিজস্ব সম্পদ ও দক্ষতা ব্যবহার করে স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা সম্ভব, যা সামগ্রিক উন্নয়নের পথে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মোদি তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে মাফিয়া ও সিন্ডিকেটের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা হ্রাসের প্রধান কারণ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্থিতিশীল নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া রাজ্যে নতুন অর্থনৈতিক প্রবাহ আনা কঠিন।

মোদি গ্যারান্টি দেন, যদি বিজেপি শাসনে আসে তবে সিন্ডিকেট ট্যাক্সের মতো অবৈধ আর্থিক চর্চা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হবে। তিনি প্রতিশ্রুতি জানান, নতুন সরকার দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলবে এবং বিশেষ করে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকে অগ্রাধিকার দেবে।

এই মন্তব্যের ফলে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। যদি বিজেপি শাসন গ্রহণ করে, তবে সীমান্ত নিরাপত্তা, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং রাজ্যের রাজনৈতিক গতিপথে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের কোনো সরাসরি প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়নি, তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার পূর্বে কিছু সীমান্ত প্রকল্পে বিলম্বের কারণ হিসেবে আর্থিক ও প্রশাসনিক জটিলতা উল্লেখ করেছে।

মোদের এই রেকর্ডে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে রাজ্য সরকারের পারস্পরিক বিরোধ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যা আসন্ন নির্বাচনী পর্যায়ে ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে। ভবিষ্যতে এই বিষয়টি কীভাবে সমাধান হবে, তা দেশের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments