মিনেসোটা রাজ্যের রাজধানী মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন নীতি বিরোধে তীব্র প্রতিবাদে উত্তেজনা বাড়ার পর, যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন ১,৫০০ সৈন্যকে মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রাখতে নির্দেশ জারি করেছে। নির্দেশটি রবিবার, ১৮ জানুয়ারি প্রকাশিত হয় এবং মূলত অস্থিরতা দমন ও নিরাপত্তা বজায় রাখার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
পেন্টাগন এই নির্দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়া সংস্থা এএফপি-কে জানায়, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে সেনাবাহিনীর পারাট্রুপার ইউনিটগুলোকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হবে। এই প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতি ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের কঠোর পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সময়ে ‘ইনসারেকশন অ্যাক্ট’ প্রয়োগের হুমকি দেওয়ার পর এই প্রস্তুতির খবর আসে। ঐ আইনটি সশস্ত্র বিদ্রোহ বা ঘরোয়া সহিংসতা দমন করতে সামরিক বাহিনীর ব্যবহারকে অনুমোদন করে। তবে ট্রাম্প একদিন পরে জানিয়েছেন, অবিলম্বে এই আইন প্রয়োগের প্রয়োজন নেই।
এই প্রেক্ষাপটে, দুইজন অজানা প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার মতে, আলাস্কায় অবস্থানরত ১,৫০০ পারাট্রুপারকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। যদিও সৈন্যদের মোতায়েনের চূড়ান্ত অনুমোদন এখনো প্রেসিডেন্টের হাতে রয়েছে, তবে প্রস্তুতি পর্যায়ে ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউস এএফপি-র অনুরোধে মন্তব্য না দিয়ে বিষয়টি গোপন রাখে। ফলে, সেনাবাহিনীর মোতায়েনের সময়সূচি ও শর্তাবলী সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।
মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রতিবাদকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা চলমান। বিশেষ করে ৭ জানুয়ারি এক ফেডারেল এজেন্টের গুলিতে একজন মার্কিন নারী নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই ঘটনার পর থেকে শহরের রাস্তায় নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ে।
মিনেসোটা পাবলিক সেফটি বিভাগ জানায়, গভর্নর টিম ওয়ালজের নির্দেশে রাজ্যের ন্যাশনাল গার্ডকে জরুরি অবস্থায় মোতায়েন করা হয়েছে। ওয়ালজের কাছে অঙ্গরাজ্যের জরুরি পরিস্থিতিতে রিজার্ভ বাহিনী ব্যবহার করার আইনগত ক্ষমতা রয়েছে। গার্ডের উপস্থিতি শহরের শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানকে সমর্থনকারী প্রায় ৩,০০০ ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের ফেডারেল এজেন্ট শহরে প্রবেশ করেছে। তিনি এদেরকে “দখলদার বাহিনী” বলে সমালোচনা করেন এবং বলেন, এদের সংখ্যা শহরের ৬০০ পুলিশ সদস্যের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি।
মেয়র ফ্রে আরও জানান, ১,৫০০ ফেডারেল সৈন্যের মোতায়েনের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই পদক্ষেপ নিরাপত্তা বিষয় নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও জনমতকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা বেশি।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী ও স্থানীয় নাগরিকদের মতে, ফেডারেল এজেন্টদের অতিরিক্ত উপস্থিতি শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে। তারা দাবি করে, আইনগত প্রক্রিয়া ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমস্যার সমাধান করা উচিত, না যে সামরিক শক্তি দিয়ে দমন করা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, যদি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেনাবাহিনীর মোতায়েন অনুমোদন করেন, তবে এটি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতি ও অভিবাসন বিষয়ক বিতর্ককে আরও তীব্র করবে। একই সঙ্গে, গার্ড ও ফেডারেল এজেন্টদের সমন্বয় কীভাবে কাজ করবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে যাবে।
পরবর্তী সপ্তাহে প্রেসিডেন্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা থাকবে। যদি মোতায়েন অনুমোদিত হয়, তবে তা মিনেসোটা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করবে এবং ফেডারেল ও রাজ্য সরকারের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে আলোচনার সূচনা হতে পারে।



